আবদুল আউয়াল মিন্টু মন্ত্রী হয়ে ফেনীবাসীর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটালেন

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছেন ফেনী- ৩ (দাগনভূঞা-সোনাগাজী) আসনের সংসদ সদস্য আবদুল আউয়াল মিন্টু। তার এই অর্জনের মধ্য দিয়ে ফেনীবাসীর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটেছে। মঙ্গলবার বিকালে মন্ত্রী হিসাবে শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে তাদের সেই আশা পূরণ হলো। খবর বাসস

এর আগে ফেনী-১ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনবার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বিএনপি’র প্রয়াত চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। একই আসন থেকে সংসদ সদস্য হয়ে বস্ত্র ও পাট এবং বন ও পরিবেশসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন লে. কর্ণেল (অব.) জাফর ইমাম বীর বিক্রম। ২০০৬ সালে বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থেকে বিদায় নেয়ার পর দীর্ঘ সময় ফেনীবাসী আর মন্ত্রী পায়নি।

সদ্য অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু ফেনী-৩ আসনে প্রথমবারের মতো অংশ নিয়ে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন। এরপর থেকেই তাকে ঘিরে শুরু হয় গুঞ্জন। আবদুল আউয়াল মিন্টু বিএনপি’র মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই এলাকাবাসী আশা করেছেন, তিনি এমপি হলেই মন্ত্রী হবেন।

দেশের খ্যাতিমান এই শিল্পপতি এরআগে ব্যবসায়ী শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই’র দুইবারের সভাপতিসহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। ইতোমধ্যে নিজ যোগ্যতায় তিনি বেশ কয়েকটি পুরষ্কারও অর্জন করেন। নিজ এলাকা দাগনভূঞায় স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, কলকারখানা প্রতিষ্ঠাসহ এলাকার সার্বিক উন্নয়নে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে ভূমিকা রেখে আসছেন। তার বাবা প্রয়াত হাজী সফিউল্যাহ দাগনভূঞা উপজেলার দুইবারের চেয়ারম্যান ও ভাই মো. আকবর হোসেন দাগনভূঞা পৌরসভার মেয়র ছিলেন। তার স্ত্রী নাসরিন ফাতেমা আউয়াল নারী উদ্যোক্তাদের সংগঠন ‘উইমেন এন্টারপ্রিনার্স এসোসিয়েশান (ওয়েব)’ এর চেয়ারপার্সন। তার জ্যেষ্ঠ ছেলে তাবিথ আউয়াল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) এর সভাপতি ছাড়াও তিনি বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য।

জেলা বিএনপির সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, দাগনভূঞা তথা ফেনীর উন্নয়নে আবদুল আউয়াল মিন্টুর অনন্য অবদান রয়েছে। মন্ত্রী হয়ে তিনি এলাকার দীর্ঘদিনের নানা সমস্যার সমাধানে কার্যকরী পদক্ষেপ নেবেন বলে আশা করি।

সোনাগাজী উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক জয়নাল আবদিন বাবলু বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে ফেনী-৩ আসনের জনগণ উন্নয়নের ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার। জনগণের বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে পূর্ণ মন্ত্রী হওয়ায় আবদুল আউয়াল মিন্টু দাগনভূঞা-সোনাগাজীর ব্যাপক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন।

দাগনভূঞা উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক মো. আকবর হোসেন বলেন, আবদুল আউয়াল মিন্টুর নির্বাচনি অঙ্গীকার পূরণে শতভাগ চেষ্টা করবেন। দাগনভূঞা-সোনাগাজীকে চাঁদাবাজ ও মাদকমুক্ত করতে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবেন।

সোনাগাজী উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক খুরশিদ আলম বলেন, আবদুল আউয়াল মিন্টুর মন্ত্রী হওয়ার সংবাদে এলাকায় আনন্দের বন্যা বইছে।

জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার পর ফেনীবাসী আর মন্ত্রী পায়নি। এবার মন্ত্রী পাওয়ায় ফেনীবাসীর দীর্ঘদিনের প্রতিক্ষার অবসান হলো। এরমধ্য দিয়ে ফেনী জেলায় উন্নয়নও ত্বরান্বিত হবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

fourteen − one =