স্পেনের বার্সেলোনায় চলমান টেলিযোগাযোগ খাতের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক আয়োজন মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস (এমডব্লিউসি) ২০২৬-এ অংশ নিয়েছে দেশের শীর্ষ ডিজিটাল অপারেটর বাংলালিংক।
বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি ও টেলিকম প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এক মঞ্চে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের দ্রুত অগ্রসরমান ডিজিটাল খাতের চিত্র তুলে ধরেছে প্রতিষ্ঠানটি। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর ডিজিটাল রূপান্তরের পরবর্তী ধাপ নিয়ে আলোচনা করেছে বাংলালিংক।
সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক নাসডাক-তালিকাভুক্ত বৈশ্বিক ডিজিটাল অপারেটর ভিওন-এর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান বাংলালিংক। ভিওন গ্রুপ বর্তমানে বিশ্বের পাঁচটি উদীয়মান বাজারে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব বাজারের মোট জনসংখ্যা প্রায় ৫৩ কোটি।
জিএসএমএ আয়োজিত এমডব্লিউসি টেলিযোগাযোগ খাতের বিশ্বের বৃহত্তম আয়োজন হিসেবে স্বীকৃত। প্রতি বছর ২০০-এর বেশি দেশ থেকে এক লাখেরও বেশি অংশগ্রহণকারী এতে যোগ দেন। এবারের প্রতিপাদ্য ‘দ্য আইকিউ এরা’। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কীভাবে নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও সমন্বিত আর্থিক সেবাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করছে-সেই প্রেক্ষাপটেই নির্ধারণ করা হয়েছে এ প্রতিপাদ্য।
চার দিনব্যাপী এই আয়োজনে বাংলালিংক ও ভিওনের শীর্ষ কর্মকর্তারা বৈশ্বিক প্রযুক্তি অংশীদার ও উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একাধিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করছেন। বিশ্বব্যাংক ও ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি)-এর প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক হয়েছে। ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়ন, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং এআই-নির্ভর উদ্ভাবনী কাঠামো নিয়ে সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয়গুলো আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।
এমডব্লিউসি ২০২৬-এ ভিওন গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কান তেরজিওগ্লু ‘ট্রান্সফর্মিং টুমরোজ কানেক্টেড ওয়ার্ল্ড’ (আগামী দিনের সংযুক্ত বিশ্বকে নতুনভাবে গড়ে তোলা) শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, টেলিকম অপারেটরদের দীর্ঘমেয়াদি প্রাসঙ্গিকতা শুধু সংযোগসেবা দেওয়ার ওপর নির্ভর করে না। বরং মানুষের দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি স্তরে কতটা কার্যকর ও অর্থবহ ডিজিটাল সেবা পৌঁছে দেওয়া যাচ্ছে, সেটিই এখন মূল বিষয়। এই দর্শনই ভিওনের ডিও১৪৪০ কৌশলের ভিত্তি, যার লক্ষ্য দিনের ২৪ ঘণ্টার প্রতিটি মুহূর্তে গ্রাহকের কাছে প্রাসঙ্গিক থাকা।