ওডিআই সিরিজ: আজ উভয় দলের সিরিজ জয়ের মহারণ

ঢাকার মীরপুরে শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠারত বাংলাদেশ পাকিস্তান ওডিআই সিরিজের শেষ ম্যাচটি দুই দলের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম দুটি ম্যাচে দুই দলই মুদ্রার এপিট ওপিট দেখেছে। প্রথম ম্যাচে নাহিদ রানার দুর্দান্ত নৈপুণ্যে বিপর্যস্ত পাকিস্তান ১১৪ রানে গুটিয়ে যাওয়ায় তানজিদ তামিমের বিস্ফোরক ব্যাটিং বাংলাদেশকে ৮ উইকেটে জয় এনে দেয়।

দ্বিতীয় ম্যাচে পাকিস্তানের নবীন সেন্সেশন মাজ সাদাতের চৌকষ নৈপুণ্যে পাকিস্তান বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচে ১১৬ রানের বিশাল ব্যাবধানে জয়ী হয়ে সিরিজে ১-১ সমতা আনে।  আজ তাই জয়ের জন্য দুটি দল মরিয়া থাকবে। বাংলাদেশের ওডিআই রাঙ্কিং উন্নত করার জন্য সিরিজ জয় বিশেষ জরুরি। পাকিস্তানও চাইবে  সমৃদ্ধ দলটা নিয়ে সিরিজ জয়ে ২০২৭ ওডিআই বিশ্বকাপ মিশন শুরু করা। বাংলাদেশের ওডিআই রাঙ্কিং ১০, পাকিস্তানের ৪। বাংলাদেশের টার্গেট মার্চ ২০২৭র মধ্যে রাঙ্কিং ৮র মধ্যে উত্তরণ।

প্রথম ম্যাচে দারুন বোলিং করা বাংলাদেশের পেস ইউনিট দ্বিতীয় ম্যাচে দারুন মার্ খেয়েছে। ২০ বছর বয়সের পেশোয়ারী তরুণ মাজ সাদাকাত বেধড়ক পিটিয়েছে তাসকিন, মুস্তাফিজ এমনকি নাহিদ রানাকে। সাদাত আর শাহিবজাদা ফারহানের ঝড়ো ব্যাটিং সূচনা খেলার গতিপথ বদলে দিয়েছে। ভালো খেলেছে রিজওয়ান এবং সালমান আগা। একসময় মনে হয়েছিল পাকিস্তানের স্কোর ৩০০ পেরিয়ে হিমালয় শৃঙ্গে পৌঁছে যাবে। কিন্তু শেষ দিকে বাংলাদেশ বোলারদের কিছুটা নিয়ন্ত্রিত বোলিং পাকিস্তান ইনিংস ২৭৪ রানে সীমিত রাখে।

আকাশে মেঘ ছিল। উইকেটে কিন্তু রান ছিল। বিশাল টার্গেট তাড়া করার কারণে কিনা জানিনা শুরুতেই বাংলাদেশ তামিম, সাইফ, শান্তকে হারিয়ে ব্যাকফুটে চলে যায়। শুরু হয় বৃষ্টি। কয়েক ঘন্টা খেলা স্থগিত থাকার পর পুনরায় খেলা শুরু হলে ডাকওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে  টার্গেট দাঁড়ায় ৩২ ওভারে ২৪৩। কাকতলীয় ভাবে বাংলাদেশ ইনিংস ১১৪ রানে গুটিয়ে গেলে পাকিস্তান ১২৮ রানে ম্যাচ জয় করে. স্মরণীয় যে পাকিস্তান প্রথম ম্যাচে ১১৪ করেছিল।

দুটি ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণে উইকেটের কোনো ভূমিকা ছিল না। শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের উইকেটের চরিত্র অনেকটাই পাল্টে গেছে। ব্যাটসম্যান বোলারদের জন্য আছে সমান সুযোগ। প্রথম ম্যাচে পাকিস্তান আর দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ ব্যাটসম্যানদের আনাড়ি ভূমিকার কারণে ইনিংসে মড়ক ধরেছে বলতে হবে। আমি অবস্যই নাহিদ রানা এবং মাজ সাদাকাতের অসামান্য অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করছি  ন॥

আজ যে দল স্বাভাবিক নৈপুণ্য প্রদর্শন করবে জয়ের সম্ভাবনা তাদের বেশি থাকবে।

পাকিস্তানের হয়ে দ্বিতীয় ম্যাচে মাজ সাদাকাত, শাহিবজাদা ফারহান ছাড়া রিজওয়ান আর সালমান আগা ভালো ব্যাটিং করেছে। বাংলাদেশের মিডল অর্ডার প্রথম ম্যাচে ব্যাট করার সুযোগ পায় নি. দ্বিতীয় ম্যাচে চাপের মুখে ভেঙে পড়েছে। শাহীন শাহ আফ্রিদী আর মোহাম্মদ ওয়াসিমের পর মাজ সাদাকাত আর হারিস রউফের বোলিং মোকাবিলা করতে তাল গোল পাকিয়ে ফেলেছে বাংলাদেশ ব্যাটিং।

আমি আজ শেষ ম্যাচে তাসকিনকে বিশ্রাম দিয়ে শরিফুল আর সাইফ হাসানের জাগায় সৌম্য সরকারকে সুযোগ দেয়ার সুপারিশ রাখছি। মেহেদী মিরাজ নিজেদের বোলিং রিসৌর্স বিচক্ষণতার সঙ্গে ব্যবহার করছেন বলে মনে হয় না। ট্রাম্প কার্ড রিশাদ আর মুস্তাফিজকে সঠিক সময়ে আক্রমণে আনতে আরো প্রোএকটিভ হতে হবে.

প্রথম দুই ম্যাচে টস জয় করে পাকিস্তানকে ব্যাটিং করতে দিয়ে প্রথম ম্যাচে নাহিদের অতি মানবীয় বোলিংয়ের কারণে গ্যাম্বলিং কাজে লেগেছে। বাংলাদেশের উচিত ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে সুযোগ পেলে আগে ব্যাটিং করা. বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইন আপ বড় টার্গেট চেজ করতে বার বার ভেঙে পরে. আজ কিন্তু চাপে থাকবে বাংলাদেশ। তাই সুযোগ পেলে চাপমুক্ত থেকে প্রথম ব্যাটিং করে ২৮০+ রানে করলে বাংলাদেশ ম্যাচ জয়ের জন্য সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

one + 13 =