অযোগ্য প্রতিষ্ঠানকে যোগ্য করার চেষ্টা, পুনর্মূল্যায়নে বিতর্ক
ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (WZPDCL)-এর স্মার্ট প্রিপেইড মিটার কেনার দুটি টেন্ডার মূল্যায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ টেকনিক্যালি অযোগ্য ঘোষিত কিছু প্রতিষ্ঠানকে পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে যোগ্য করার চেষ্টা চলছে।
শুরুতে ছয়টি প্রতিষ্ঠান এই দরপত্রে অংশ নেয়। টেকনিক্যাল মূল্যায়নের প্রথম ধাপে মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠান এক্সজে-ইরা এবং শেনজেন স্টার ইন্সট্রুমেন্ট-কে যোগ্য ঘোষণা করা হয়। বাকি চারটি প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত কারণে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়।
পরবর্তীতে এই মূল্যায়ন প্রতিবেদন ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির বোর্ডে আর্থিক প্রস্তাব (ফিন্যান্সিয়াল বিড) খোলার অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। তবে বোর্ড থেকে আর্থিক প্রস্তাব খোলার অনুমোদন না দিয়ে বরং পুনর্মূল্যায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
খাত সংশ্লিষ্টদের দাবি, এই পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে যোগ্য প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়িয়ে চারটিতে উন্নীত করার চেষ্টা চলছে। সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে:
XJ–ERA
Shenzhen Star Instrument
Hexing Electrical Co. Ltd.
JV Ideal-INHE
সূত্রগুলো বলছে, পূর্বে অযোগ্য ঘোষিত কিছু প্রতিষ্ঠানকে পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে যোগ্য করার চেষ্টা হচ্ছে- যা টেন্ডার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
Hexing ও INHE নিয়ে নতুন বিতর্ক
পুনর্মূল্যায়নের আলোচনায় চীনের স্মার্ট মিটার প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান Hexing Electrical Co. Ltd. এবং যৌথ উদ্যোগ Ideal-INHE-এর নাম উঠে এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, প্রতিষ্ঠানগুলোর জমা দেওয়া নমুনা টেন্ডারের নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ডের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
টেন্ডারের শর্ত অনুযায়ী মিটারে ডুয়েল কয়েল রিলে সিস্টেম থাকা বাধ্যতামূলক। তবে অভিযোগ রয়েছে, Hexing এবং INHE-এর জমা দেওয়া নমুনায় সিঙ্গেল কয়েল রিলে সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে, যা নির্ধারিত শর্তের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
একটি নথি অনুযায়ী ২০২৪ সালের ১৯ অক্টোবর বিদ্যুৎ বিভাগ দেশের সব বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিকে একটি চিঠি পাঠায়, যেখানে Hexing-এর সঙ্গে ব্যবসায়িক লেনদেন বা চুক্তি থেকে বিরত থাকার বিষয়ে সতর্ক করা হয়।
ওই নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রতিষ্ঠানটি ভারত, নেপাল ও কেনিয়ার কিছু প্রকল্পে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ব্ল্যাকলিস্ট বা নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছিল।
এছাড়া Hexing-এর বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং, ভুয়া বিলিং এবং ওভার-ইনভয়েসিংয়ের মতো আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রযুক্তিগত শর্ত নিয়েও প্রশ্ন
প্রথম মূল্যায়নে যোগ্য হওয়া প্রতিষ্ঠান শেনজেন স্টার ইন্সট্রুমেন্ট-এর ক্ষেত্রেও প্রযুক্তিগত শর্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
টেন্ডার অনুযায়ী ডাটা কনসেনট্রেটর ইউনিট (DCU)-এর একুইরেসি ক্লাস ০.৫ হওয়ার কথা থাকলেও, প্রতিষ্ঠানটির জমা দেওয়া নমুনায় একুইরেসি ক্লাস ১ উল্লেখ রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
একই ধরনের প্রশ্ন উঠেছে জেভি এক্সজে-ইরা’র ক্ষেত্রেও। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তাদের জমা দেওয়া ডাটা কনসেনট্রেটর ইউনিট নমুনাও টেন্ডারের নির্ধারিত মানদণ্ডের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এছাড়া দরপত্রে BPLC প্রকল্পে কাজ সম্পন্ন করার অভিজ্ঞতা থাকার শর্ত ছিল। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি সেখানে HPLC প্রকল্পের অভিজ্ঞতা জমা দিয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে একই ধরনের অভিজ্ঞতা হিসেবে বিবেচিত হওয়ার কথা নয়।
খাত সংশ্লিষ্টদের আরও দাবি, প্রতিষ্ঠানটি অতীতে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির টেন্ডারে অংশ নিলেও ভুয়া অভিজ্ঞতা সনদ জমা দেওয়ার অভিযোগে বিভিন্ন সময় অযোগ্য ঘোষণা হয়েছিল। তবে এবার একই ধরনের নথি থাকা সত্ত্বেও ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির টেন্ডারে প্রতিষ্ঠানটি যোগ্য হয়েছে- যা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
ফলে দতরপত্র প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। খাতের বিশ্লেষকদের মতে, টেন্ডারের নির্ধারিত প্রযুক্তিগত শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ না করা হলে তা সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।
এ বিষয়ে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ জাকিরুজ্জামানের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগের তৈরি করা নতুন স্পেক অনুসরণ করেই পুনরায় কারিগরি মূল্যায়ন করা হয়েছে। কমিটি কেবল কারিগরি বিষয় দেখেছে, কোনো কোম্পানি কালো তালিকাভুক্ত কিনা তা যাচাই করা হয়নি। কারিগরি কমিটির রিপোর্ট আবার বোর্ডে পাঠানোর পর সেখানে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।