ক্রিকেটের সংকট মুহূর্তে সকল স্টেকহোল্ডার সংযত আচরণ করুন

কাল ছিল বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আধুনিক সুবিধা সম্বলিত ক্রিকেট উইকেট তৈরি বিষয়ে বিসিবির একটি সংবাদ সম্মেলন। বাংলাদেশ ক্রিকেটের দুই কীর্তিমান ব্যক্তিত্ব খালেদ মাসুদ পাইলট এবং আব্দুর রাজ্জাক রাজ ছিল মুখ্য আলোচক। জানানো হলো সারাদেশে ৮টি ক্রিকেট হাভে ১৩১ উইকেট তৈরি করা হবে।

এই কাজটি সঠিকভাবে সুসম্পন্ন করা হলে তৃণমূলে ক্রিকেট উন্নয়নে ব্যাপক শুভ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হবে সন্দেহ নেই। আয়োজনে সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। স্মরণীয় যে সম্প্রতি ক্রিকেট বিষয়ে কিছু বিতর্কিত প্রতিবেদন প্রকাশের সূত্রে বিসিবিতে সাংবাদিকদের অবাধ বিচরণ সীমিত করা হয়েছে।

বিষয়টি হয়ত উভয়পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে ভিন্নতর হতে পারতো। দুঃখজনক এই বিষয়ের জের ধরে কাল সংবাদ সম্মেলনে দুঃখজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। জনৈক কনটেন্ট ক্রিয়েটার ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করে পাইলট বিনীতভাবে প্রশ্নের জবাব না দিয়ে বলেন, ভিউ বাড়ানোর জন্য করা প্রশ্ন তার ভালো লাগেনি।

এমতাবস্থায় সুন্দর একটি সৃজনশীল কাজের উপলক্ষে আয়োজিত সম্মেলন পণ্ড হয়। আমরা যারা ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় দেখেছি তাদের কাছে বিষয়টি ছিল কষ্টদায়ক। সাংবাদিকের প্রশ্নটি ছিল অপ্রাসঙ্গিক এবং পাইলট জবাবে আরো একটু কৌশলী হওয়া সমীচীন ছিল।

সবার জানা বাংলাদেশ ক্রিকেটে এখন কঠিন সময়। মুস্তাফিজুর রহমানকে ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেট আইপিএল থেকে অন্যায় ভাবে বাদ দেয়ার প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশের কড়া প্রতিবাদের প্রেক্ষিতে আইসিসির একচোখা সিদ্ধান্তে বাংলাদেশকে টি২০  বিশ্বকাপ বিসর্জন দিতে হয়েছে।বিষয়টি কোন বিবেচনায় বাংলাদেশের জন্য শুভকর নয়। বিশ্বকাপ বর্জন এবং আইসিসির সঙ্গে শীতল সম্পর্ক বাংলাদেশ ক্রিকেটে ক্ষত সৃষ্টি করেছে।

বাংলাদেশ ক্রিকেটের শুভাকাঙ্ক্ষী হিসাবে সংশ্লিষ্ট সবার কাছে বিনীত অনুরোধ, খেলার স্বার্থে সংযত আচরণ করুন। খেলোয়াড়, সংগঠক, বিসিবি কর্মকর্তা, লেখক, সাংবাদিক, দর্শক, অনুরাগী সবার অবস্থান থেকে উচিত ক্রিকেটের স্বার্থে কাজ করা। কেউ কিন্তু ক্রিকেটের চেয়ে বড় না। ক্রিকেটে বাংলাদেশের বিশ্ব স্বীকৃতি এবং বর্তমান অবস্থানের জন্য কিন্তু বিভিন্ন অবস্থানের বহু মানুষের নিঃস্বার্থ অবদান রয়েছে।

কেউ অস্বীকার করবে না ২০২৪ সরকার পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিসিবির কার্যক্রমে অযাচিত হস্তক্ষেপ করেছে। বিশেষত টি২০ বিশ্বকাপ নিয়ে স্বাধীনভাবে সঠিক পন্থায় কাজ করতে পারেনি বিসিবি। সরকারের ভারত বিরোধী  অবস্থান মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে। আমি কিন্তু কোন অবস্থায় আইসিসির ভারত নিয়ন্ত্রণকে সমর্থন করছি না। কিন্তু বিশ্বকাপ না খেলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শুধু বাংলাদেশ।

যাহোক প্রসঙ্গে ফিরে আসি। সম্প্রতি বিসিবি বিশেষত বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বিষয়ে কিছু ভ্রান্ত সংবাদ প্রচার করায় এবং অন্যান্য বিষয়ে সঠিক তথ্য সম্বলিত বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ না করায় ক্ষুব্ধ বিসিবি সাংবাদিকদের বিসিবিতে অনুপ্রবেশ বিষয়ে কিছু শর্ত দিয়েছে। হয়ত বিষয়টি সঠিক হয়নি। সাংবাদিকদের পেশাদারিত্বে আঘাত করেছে। কাল সাংবাদিক সম্মেলনে জনৈক ফ্রি ল্যান্স সাংবাদিকের ক্ষুব্ধ আচরণ হয়ত এর বহিঃপ্রকাশ।

কাল কিন্তু খালেদ মাসুদ পাইলট আর আব্দুর রাজ্জাক একটি মহৎ উদ্যোগ বিষয়ে উপস্থাপন করছিলেন। আলোচনা সেখানেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত ছিল। ক্রিকেট আছে বলেই কিন্তু এতো ক্রিকেট লেখক, ক্রীড়া সাংবাদিক, ভাষ্যকারের বিনোদন বলেন আয়-রোজগারের ব্যবস্থা হয়েছে। কনটেন্ট ক্রিয়েটার বিকশিত হয়েছে। ক্রিকেট সংকটে কিন্তু সবার দায়িত্বশীল আচরণ করার প্রয়োজন আছে। কেউ কিন্তু জবাবদিহিতার উর্ধ্বে নয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

five × five =