চতুর্মুখি সঙ্কটে বাংলাদেশ ক্রিকেট

এমনিতেই ভারতের ডোমেস্টিক ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আইপিএল ২০২৬ থেকে অন্যায়ভাবে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেয়ার প্রতিক্রিয়ায় ভারতে অনুষ্ঠিতব্য আইসিসি আয়োজিত টি২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের অংশগ্রহণ এখনো অনিশ্চয়তার বৃত্তে ঘুরপাক কাছে। এরই মাঝে খেলোয়াড়দের নিয়ে বেফাঁস কথা বলে বিসিবির একজন অখ্যাত পরিচালক খেলোয়াড়দের রোষাণলে পড়েছে।  ক্রিকেট খেলোয়াড়দের সংগঠন কোয়াব দাবী করেছে সংশ্লিষ্ট পরিচালক পদত্যাগ না করলে খেলোয়াড়রা চলতি বিপিএলসহ কোনো খেলায় অংশ নিবে না। ঘরোয়া ক্রিকেট নিয়ে এমনিতেই বিসিবির সঙ্গে ঢাকা ক্রিকেট ক্লাব গুলোর দ্বন্দ্ব চলছে।

বিসিবির সংশ্লিষ্ট পরিচালক ক্রিকেট অঙ্গনে একেবারেই অপরিচিত। সে সম্পূর্ণ অযাচিতভাবে ইদানিং কিছু বিতর্কিত কথা বলে ক্রিকেট সমাজের রোষাণলে পড়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেটের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় তামিম ইকবাল ভারতে টি২০ বিশ্বকাপ না খেলার বিষয়ে সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত নেয়ার বিষয়ে সুপারিশ করায় তামিমকে ভারতের দালাল বলে বিবৃতি দেয়। বিসিবির উচিত ছিল তাকে সেখানেই সেন্সর করার। কিন্তু পরিচালক  সেখানেই না থেমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলোয়াড়দের বিষয়ে অসম্মানজনক মন্তব্য করে।

বিসিবির সভাপতি থেকে প্রতিটি পরিচালকের কিন্তু ক্ষমতা বা অধিকারের সীমারেখা আছে। দুঃখজনক হলেও জুলাই-আগস্ট ২০২৪ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা  পরিবর্তনের পর থেকে  বিশেষত বিসিবি নির্বাচনের পর থেকে কয়েকজন পরিচালক অযাচিতভাবে মিডিয়ায় কথা বলে বিতর্কের সৃষ্টি করছে। ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকেও অযাচিতভাবে বিসিবি কর্মকাণ্ডে নাক গলানো হচ্ছে। যখন বিসিবি টি২০ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে আইসিসির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় তখন কেন একজন পরিচালক নতুন সংকট সৃষ্টি করলো। এখন বিপিএল চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তাহলে কি একটি মহল সুকৌশলে বাংলাদেশ ক্রিকেটকে ধ্বংস করতে চায়?

স্মরণে রাখতে হবে ক্রিকেট এখন বাংলাদেশের জাতীয় ঐক্যের প্রতীক। খেলোয়াড়দের অবদানেই বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মর্যাদার অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত। পৃথিবীর অনেক দেশ বাংলাদেশকে ক্রিকেট খেলুড়ে দেশ হিসাবে চিনে। ক্রিকেটারদের অবদানে বিসিবি আর্থিকভাবে সচ্ছল। বিসিবির পরিচালকরা বিজনেস ক্লাসে বিদেশ ভ্রমণ বা ফাইভ স্টার হোটেলে বিলাসী অবস্থান করতে  পারে। সেই ক্রিকেটারদের অসম্মান করার কোনো অধিকার নাই কোনো ভুঁইফোড় কর্মকর্তার।

আমি জানি আইসিসির উচ্চ বেতনের চাকরী এবং অস্ট্রেলিয়ার বিলাসী জীবন ছেড়ে ক্রিকেট এবং দেশকে কিছু দেয়ার মহান ব্রত নিয়ে দেশে ফিরেছে আমিনুল ইসলাম বুলবুল। এখন কিছু অর্বাচীন মানুষ নানা সঙ্কট সৃষ্টি করে বুলবুলের সদিচ্ছার প্রতি বাধা হয়ে  দাঁড়াচ্ছে। আমি আশা করবো বুলবুল বিষয়গুলো দৃঢ়তার সঙ্গে মোকাবিলা  করবে। খেলোয়াড়দের কাছ থেকেও দায়িত্ব বোধ এবং কমিটমেন্ট আশা  করি। কোন কিছু বয়কট করে কোন সমস্যার সমাধান হয় না। পেশাদারদের আরো বিচক্ষণ হতে হয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

3 × 3 =