
ক্যান্ডি পালেকেলে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত কালকের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সেমি ফাইনালে পৌঁছানোর জন্য পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল শ্রীলংকার বিরুদ্ধে বড় ব্যাবধানে জয়ী হয়ে নিউ জিল্যান্ডকে রান রেটে পেছনে ফেলা। রান প্লাবনের ম্যাচটিতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে ৫ রানে জয় পেয়েছে পাকিস্তান।
প্রথমে ব্যাটিং করা পাকিস্তান ২১২/৮ করে স্বপ্নের বীজ বুনেছিল। বাগে পেয়েও বোলিং ব্যার্থতায় কাঙ্ক্ষিত ব্যাবধানে জয় পায়নি পাকিস্তান। শ্রীলংকা ২০৭/৬ করে উল্টো জয়ের সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছিল।
y গ্রূপের শীর্ষে আছে ৩ ম্যাচে তিন জয়ে ১.০৯৬ রান রেট নিয়ে ইংল্যান্ড। নিউ জিল্যান্ড এবং পাকিস্তান উভয় দলের পয়েন্টস ৩। তবে +১.৩৯০ রানে নিয়ে পাকিস্তানের -০.১২৩ রান রেট থেকে এগিয়ে থাকায় শেষ খেলায় জয়ের পরেও দেশে ফিরে যাবে পাকিস্তান।
নিউ জিল্যান্ড তৃতীয় দল হিসাবে পৌঁছে গেছে সেমিফাইনালে। আজ কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে অনুষ্ঠিত হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ-ভারতের মধ্যে বাঁচা-মরার লড়াই। বিজয়ী দল পাবে সেমি ফাইনালের টিকেট। দক্ষিণ আফ্রিকা আর ইংল্যান্ড ইতিমধ্যেই সেমি ফাইনাল নিশ্চিত করেছে। নিউ জিল্যান্ডকে সেমি ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে মোকাবেলা করতে হবে। আজকের ম্যাচের বিজয়ী দল মোকাবিলা করবে ইংল্যান্ডকে।
কাল সারাবিশ্ব ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র এবং মিত্র ইসরালের সঙ্গে ইরানের সামরিক আক্রমণের বিষয়টি নিয়ে ব্যাতিব্যস্ত ছিল। এমন পরিস্থিতিতেও খেলাটি নিয়ে ক্রিকেট মহলে ব্যাপক আগ্রহ ছিল। লাইফ লাইন পাওয়া পাকিস্তানের জন্য কাল ছিল কঠিন সমীকরণ।কাঙ্ক্ষিত ব্যাবধানে জয়ী হওয়ার জন্য প্রয়োজন ছিল আগে ব্যাটিং করে বিশাল স্কোর এবং শ্রীলংকাকে নির্দিষ্ট স্কোরে সীমিত করা।
বাবর আজমের স্থানে ফখর জামান আর সাঁইযুম আয়ুবের স্থানে নাসিম শাহকে একাদশে নিয়েছিল পাকিস্তান। টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান শাহিবজাদা ফারহানের (১০০) আর কাল সুযোগ পাওয়া ফখর জামানের (৮৪) ব্যাটিং তান্ডবে ওপেনিং জুটি ১৭৮ রানের মাইলফলক স্থাপন করলেও অন্যান্য ব্যাটারদের ব্যর্থতার কারণে পাকিস্তানের রান ২১২/৮ সীমিত ছিল। সুবিধাজনক পরিস্থিতিতে রান ২৩৫-২৪০ হতে পারতো।
১১.৬ ওভারে শ্রীলংকাকে ৫/১০৬ করে পাকিস্তান বড় জয়ের সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু পাভান রত্নায়েকে (৫৮) এবং বিশেষ করে অধিনায়ক দাসুন সানাকর (৩১ বলে অপরাজিত ৭৬) রান পাকিস্তানের স্বপ্ন চূর্ণ করে দেয়। ছন্নছাড়া শাহীন আফ্রিদির শেষ ওভারে ২২ রান তুলে শ্রীলংকাকে জয়ের বন্দরে নিয়েও শেষ দুই বলে রান নিতে না পারায় ৫ রানে হেরে যায়। জয়ী হলেও পাকিস্তান সেমি ফাইনালে যেতে পারেনি। ভারত মহাসাগরে ডুবেছে পাকিস্তানকে নিয়ে শ্রীলংকা।
পাকিস্তান বাবরকে দলে রেখেও ফকরকে খেলতে পারতো। দুই পেসার খেলানোর যুক্তি ছিল না। এই টুর্নামেন্টে পাকিস্তানের ভরাডুবির অন্যতম কারণ ছিল শাহীন আফ্রিদির জঘন্য বোলিং। পাকিস্তান ইনিংসে উড়ন্ত ফর্মে থাকা শাহিবজাদা ফারহান (৬০ বলে ৯ চার ৫ ছক্কায় সংগ্রহ ১০০) আর ফকর জামানের (৪২ বলে ৯ চার আর ৪ ছক্কায় সংগ্রহ ৮৪) উদ্বোধনী জুটি ১৭৮ রানের নতুন মাইলফলক গড়েছিল।
শ্রীলংকান ফিল্ডাররা আবেদন না করায় ফকর একবার পরিত্রান পেয়েছিলো কট বিহাইন্ড থেকে। দুর্দান্ত ব্যাটিং করে এই জুটি পাকিস্তানকে ২৩৫-২৪০ রান করার সুযোগ করে দিয়েছিল। কিন্তু ফারহান-ফকর ছাড়া কোন ব্যাটসম্যান দুই অংকে পৌঁছাতে পারেনি। তবুও ২১২/৮ রানের বিচারে বড় ব্যাবধানে জয়ের জন্য মামুলি ছিল না।
শ্রীলংকা প্রথম জুটি ১৭৮ রানে পতনের পর সাঁড়াশি আক্রমণ চালিয়ে পাকিস্তানের ইনিংস নাগালের সীমায় রেখেছিল। দিলশান মধুসকা (৩/৩৩) আর দাসুন সানাকা (২/৪২) ছিল শ্রীলংকার সফল বোলার।
পাকিস্তান অবশ্য ম্যাচের একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত শ্রীলংকাকে চাপে রেখেছিল। পাকিস্তানের সমীকরণ ছিল শ্রীলংকাকে ১৪৭ রানে সীমিত রাখে। ১১.৬ ওভারে ১০১ রানে শ্রীলংকার ৫ উইকেটের পতন ঘটলে সেই সম্ভাবনা জেগেছিল। কিন্তু পাকিস্তানের বিশেষত শাহীন আফিদির দুর্বল বোলিংকে বেধড়ক পিটিয়ে শ্রীলংকা অধিনায়ক (৩১ বলে অপরাজিত ৭৬ রান) প্রায় জয়ের বন্দরের কাছাকাছি পৌঁছে দিয়েছিল।
শাহীনের শেষ ওভারেই উঠছিলো ২২ রান। শেষ দুই বলে জয়ের জন্য প্রয়োজন দাঁড়িয়েছিল ৬ রান। কোন রান না হওয়ায় নাটকীয় পরিসমাপ্তির ম্যাচটি ৫ রানে হেরে যাওয়ায় শ্রীলংকা পাকিস্তানকে নিয়ে ভারত মহাসাগরে ডুবে গেলো।
এই ম্যাচে আবরার আহমেদ (৩/২৩) বাকি সব পাকিস্তান বোলার ছিল ব্যর্থ। পাকিস্তান, শ্রীলংকা ঝরে পড়ায় টুর্নামেন্টে দক্ষিণ এশিয়ার প্রদীপ এখন ভারতে টিম টিম করে জ্বলছে। আমি মনে করি গ্রূপ y থেকে যোগ্য দুটি দল ইংল্যান্ড আর নিউ জিল্যান্ড সেমি ফাইনালে উঠেছে।
সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড।
পাকিস্তান ২১২/৮ (শাহিবজাদা ফারহান ১০০, ফকর জামান ৮৪। দিলশান মধুসকা ৩/৩৩, দাসুন সানাকা ২/৪২)
শ্রীলংকা ২০৭/৬ (দাসুন সানাকা ৭৬*, পাভান রত্নায়েকে ৫৮। আবরার আহমেদ ৩/২৩)
পাকিস্তান ৫ রানে জয়ী। ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়: শাহিবজাদা ফারহান।