ডাচ বাংলা ব্যাঙ্ক ওডিআই: সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে আজ মাঠে নামবে বাংলাদেশ

সালেক সুফী

বাংলাদেশ – পাকিস্তান তিন ম্যাচের ওডিআই সিরিজে দাপটের সঙ্গে প্রথম ম্যাচ জিতে ১-০ ব্যাবধানে এগিয়ে থাকা টিম টাইগার্স আজ মীরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নিজেদের অভয় অরণ্যে সিরিজ জয়ের মিশন নিয়েই মাঠে নামবে। এই মুহূর্তে দুই দলের যে ব্যাবধান তা থেকে বাংলাদেশের জয় ছাড়া ভিন্ন কোন ফলাফল হবে নিতান্তই অঘটন।  টি২০ বিশ্বকাপে বিপর্যস্ত হওয়ার পর ভিন্ন ফরম্যাটে কেন পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের ছেটে ফেলে অনভিজ্ঞ নবীনদের পাঠিয়েছে সেটি নিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট মহলে তোলপাড়। বাংলাদেশ কিন্তু ওডিআই ফরম্যাটে নিজেদের দেশে অন্তত অত্যন্ত শক্তিশালী দল জানা আছে ক্রিকেট বিশ্বের। এখানে খেলতে এসে অতীতে ভারত, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড সবাই হেরেছে। তদুপুরি সিরিজটি দুটি দলের জন্য ২০২৭ ওডিআই বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতি মিশন। রাংকিংয়ে পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশ আছে জয়ের ক্ষুধায় মুখিয়ে আছে।  কেন পিসিবি নির্বাচকরা আত্মবিনাশী সিদ্ধান্ত নিলো তার বিচার বিশ্লেষণের অংশটুকু পাকিস্তানীদের হাতে থাকে। আমি ব্যাক্তিগতভাবে মার্চ মাসে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জয়কে বিজয় বলে বিবেচনা করি। সেই আলোকে বাংলাদেশ আজ এবং পরের ম্যাচে আগ্রাসী তবে সতর্ক ক্রিকেট খেলে ৩-০ বাংলা ওয়াশ অর্জন করুক মনে প্রাণে চাইছি।

আমি আজ বাংলাদেশ দলে অন্তত একটি পরিবর্তন সুপারিশ করবো। বোলিং আক্রমণে তাসকিনকে বিশ্রাম দিয়ে শরিফুলকে খেলানোর। মেহেদী মিরাজকে অনুরোধ করবো আরো একটু প্রো-এক্টিভ হয়ে বোলিং বিন্যাস করতে। দলের ট্রাম্প কার্ডস মুস্তাফিজ এবং রিশাদকে আরো বিচক্ষণতার সঙ্গে ব্যবহার করতে।

পাকিস্তান কিন্তু আজ মরণ কামড় দিবে। সাহিবজাদা ফারহানকে উইকেটে স্থিতু হবার আগেই ফিরিয়ে দিতে হবে।  যতটা সময় প্রথম ম্যাচে উইকেটে ছিল আর যেভাবে ওকে টি ২০বিশ্বকাপে দেখেছি একাই কিন্তু ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারে। সেই বিবেচনায় আমি শরিফুল আর নাহিদ রানাকে দিয়ে বোলিং আক্রমণ সূচনা করার পরামর্শ দিবো। এর পর পরিস্থিতি বিবেচনায় মুস্তাফিজ এবং রিশাদকে প্রথম স্পেলে আনা যেতে পারে।  যেহেতু পাকিস্তান প্রথম ম্যাচ শোচনীয়ভাবে হেরে প্রচন্ড মানসিক চাপে আছে তাই টস জিতলে বাংলাদেশের উচিত হবে ওদের ব্যাটিং করতে দেওয়া। জানিনা আজ টপ অর্ডারে পাকিস্তান রিজওয়ানকে তিন নম্বরে খেলবে কিনা। মাজ সাদাত এবং বিশেষ করে শামিল হোসেনকে অর্গানাইজড মনে হয়নি। হয়ত সময়ে পরিণত হবে। এলাম দেখলাম জয় করলাম গোছের কিছু নয়। শুরুতে ফারহানের উইকেট তুলে নিতে পারলে আজ চাপে থাকবে পাকিস্তান। অনেকটাই নির্ভর করবে রিজওয়ান, সালমান আগা আর ফাহিম আশরাফের উপর। পাকিস্তানকে ১৫০র নিচে সীমিত রাখার ছক কোষশ এগুতে হবে।

বাটিংয়ের মত পাকিস্তানের বোলিং রিসৌর্স সীমিত। শুরুতে বাংলাদেশ টপ অর্ডার তামিম, সাইফ, শান্ত শাহীন আফ্রিদি, ওয়াসিমকে সামাল দিতে পারলে তাওহীদ হৃদয়, লিটন, আফিফ স্বচ্ছন্দে খেলে বাংলাদেশকে ২৬০-২৭০ রানে পৌঁছানোর পথে এগিয়ে দিতে পারবে। প্রথমে ব্যাটিং করলে রয়ে সোয়ে ব্যাটিং করতে হবে। তাড়াহুড়ো হয়ে দ্রুত উইকেট খোয়ালে বিপদ হতে পারে। যেহেতু পাকিস্তানের বোলিং গভীরতা নেই তাই সুযোগ থাকছে একজন বা দুইজন বোলারকে টার্গেট করার। বাংলাদেশের কিন্তু লেট্ মিডেল অর্ডারে দুর্বলতা আছে। টপ অর্ডারে একটি বা দুটি লম্বা পার্টনারশিপ দরকার হবে। পাকিস্তান কিন্তু আজ হারিস রউফকে খেলাতে পারে।

সব কিছু মিলিয়ে বলবো পরিকল্পনা ঠিক মত মাঠে বাস্তবায়ন করলে আজ সিরিজ জয় নিশ্চিত হবে অপেক্ষা থাকবে ৩-০ সিরিজ জিতে ক্রিকেট বিশ্বকে সতর্ক সংকেত দেয়ার।

প্রস্তাবিত একাদশ: তানজিদ তামিম, সাইফ হাসান, নাজমুল হাসান শান্ত, তাওহীদ হৃদয়, লিটন কুমার দাস, আফিফ হোসেন,  মেহেদী হাসান মিরাজ, রিশাদ হোসেন, শরফুল ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান, নাহিদ রানা।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

four − two =