বাংলাদেশ -নিউজিল্যান্ড ওডিআই সিরিজ: বিশ্বকাপ ২০২৭ সরাসরি খেলার জন্য সিরিজ জয় জরুরি

সালেক সুফী

আইসিসি ওডিআই রাংকিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ৯ম। ২০২৭ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলতে হলে মার্চ ২০২৭র মধ্যে বাংলাদেশকে অবশ্যই রাংকিংয়ে ৮ এ উন্নীত হতে হবে। সেই সুবাদে নিউ জিল্যান্ডের বিরুদ্ধে দেশের মাটিতে অনুষ্ঠিতব্য আসন্ন সিরিজের জন্য সম্ভাব্য শক্তিশালী স্কোয়াড ঘোষণা করেছে বিসিবি নির্বাচক মন্ডলী। তিন ম্যাচের ওডিআই সিরিজের প্রথম ম্যাচ শুরু হবে ঢাকার মিরপুরে শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে।  সিরিজের বাকি দুটি ম্যাচও একই মাঠে ২০ এবং ২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। মদ্ধপ্রাচ্চে যুদ্ধের প্রতিক্রিয়ায় বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের পটভূমিতে বাংলাদেশ সরকার বিদ্যুৎ ব্যাবহারে কৃচ্ছতা করছে। তাই ফ্লাড লাইট ব্যবহার সীমিত করার জন্য খেলার শুরুর সময় এগিয়ে আনা  হয়েছে। হয়তো তীব্র দাবদাহের সময়ে দিনের বেলায় খেলতে খেলোয়াড়দের বাড়তি কষ্ট হবে। এমনিতেই কয়েকজন প্রতিষ্ঠিত খেলোয়াড়দের বিশ্রাম দিয়ে বেশ কয়েকজন তরুণ খেলোয়াড় নিয়ে আসছে নিউজিল্যান্ড দল। তবে দলের সবাই নিউজিল্যান্ড উন্নত ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজেদের প্রমান করা উঠতি প্রতিভা। ওদের খাটো করে দেখার কোন অবকাশ নেই। বাংলাদেশকে সামর্থের সবকিছু দিয়ে খেলতে হবে।

বাংলাদেশ ওডিআই স্কোয়াড:

মেহেদি হাসান মিরাজ, সৌম্য সরকার, সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান, নাজমুল হোসেন, তাওহিদ হৃদয়, লিটন কুমার দাস, আফিফ হোসেন, মাহিদুল ইসলাম, রিশাদ হোসেন, তানভীর ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, শরীফুল ইসলাম, নাহিদ রানা।

দলের বেশ কয়েক জন খেলোয়াড় পাকিস্তানে পিএসএল খেলছে। ১২ এপ্রিল ওদের ফিরে আসার কথা। হাবিবুল বাসার সুমনের নেতৃত্বে চার সদস্যের নতুন নির্বাচন কমিটির জন্য এটি প্রথম সিরিজ। ওদিকে আবার আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বের বিসিবির কার্যকরী কমিটির পরিবর্তে এসেছে তামিম ইকবাল নেতৃত্বের ১১ সদস্যের এডহক কমিটি।

সরকার পরিবর্তনের পর অনেকের আশা ছিল দলে ফিরবে সাকিব আল হাসান। ২০২৭ বিশ্বকাপে ভালো দল গড়তে হলে সাকিবকে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক সিরিজ খেলার সুযোগ দেয়া উচিত বলে মনে করি। বলতে দ্বিধা নেই সাকিবের স্থান পূরণ করার মত এখনো কেউ দলে আসেনি। একজন সাকিব দলের ভারসাম্য সৃষ্টির জন্য এখনো অপরিহার্য।

আমি তবুও ঢাকার পরিবর্তিত উইকেটে বাংলাদেশকে ফেভারিট বলবো। এই উইকেটে তাসকিন, মুস্তাফিজ, শরিফুল, নাহিদ রানা অবশ্যই পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। পেসি বাউন্সি উইকেটে রিশাদ, মিরাজেরও ভালো করার কথা। তবুও ব্যাক আপ হিসাবে আছে তানভীর ইসলাম। হয়ত নাসুম বা শেখ মাহেদিকে সুযোগ দিলে ভালো হতো।

আমি ব্যাটিং নিয়ে খুব একটা নিশ্চিত নই। স্পোর্টিং উইকেটে নিউজিল্যান্ড বোলিং মোকাবিলা করা সহজ হবেনা। ইনিংস সূচনায় তানজিদ আর সাইফ নিঃসন্দেহে প্রতিভাবান। কিন্তু এখনো ধারাবাহিক না। আর ওদের খেলায় এখনো টি ২০ ধাঁচের ব্যাটিং প্রাধান্য পায়। সৌম্যকে ইদানিং সুযোগ দেয়া হয়নি। এই সূত্রে নাজমুল শান্ত, তাওহীদ হৃদয় আর লিটন দাসকে দলের ব্যাটিং নিউক্লিয়াস হতে হবে। বিশেষত যখন লেট মিডল অর্ডার এবং লেজের দিকে যখন দুর্বলতা। জানিনা মেহেদী মিরাজ, আফিফ হোসেন প্রয়োজনে জ্বলে উঠতে পারবে কিনা। বাংলাদেশকে আগে ব্যাটিং করলে ২৭০-২৮০ করতে হবে। আমি সুযোগ থাকলে বাংলাদেশকে আগে চাপমুক্ত থেকে ব্যাটিং করার পরামর্শ দিবো।

আশা করি মাঠের খেলায় খেলার বাইরের কিছু প্রভাব ফেলবে না। ক্রিকেট বাংলাদেশের একতার প্রতীক। প্রতিটি জয় বাংলাদেশের সাধারণ জনগণকে উল্লসিত করে। জানিনা গ্রীষ্মের এই সময়ে ঝড় বৃষ্টি খেলায় বিঘ্ন ঘটাবে কিনা।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

4 × 3 =