২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলের ট্রফি বিশ্ব ভ্রমণ করছে। তারই অংশ হিসেবে আজ বুধবার ফিফা বিশ্বকাপের মূল ট্রফি ঢাকায় এসেছে। তবে ট্রফিটি সবার জন্য উন্মুক্তভাবে প্রদর্শিত হবে না। কোকা-কোলার ‘আন্ডার দ্য ক্যাপ’ প্রোমোশনাল ক্যাম্পেইনে অংশ নিয়ে নির্বাচিত ব্যক্তিরাই সরাসরি ট্রফি দেখার ও ছবি তোলার সুযোগ পাবেন। খবর বাসস
বিশ্বকাপ ট্রফির সঙ্গে ঢাকায় এসেছেন ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার গিলবার্তো সিলভা। সকালে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রফিটি পৌঁছালে সেখানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া।
বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন ফুটবলার ও ট্রফি একসঙ্গে পেয়ে অভিভূত জামাল বলেন, ‘সত্যি বলতে কি অভিজ্ঞতা দারুন ছিল। গিলবার্তো বিশ্বকাপ ট্রফির সাথে আসছে। এই প্রথম আমি বিশ্বকাপ ট্রফি সামনাসামনি দেখছি। আমার খুব ভালো লাগছে।’
বিমানবন্দরে ট্রফি বরণের পর হোটেল রেডিসনে নেওয়া হয়েছে। রেডিসনে দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ট্রফিটি প্রদর্শিত হবে। এসময় ফুটবল ফেডারেশন ও ফুটবল সংশ্লিষ্ঠ ব্যক্তিরা ছবি তোলার সুযোগ পাবেন। বিশেষ সুযোগ থাকছে ক্যাম্পেইনে অংশ নেয়া বিজয়ীদের জন্য।
জানা গেছে, কোকা কোলার বিশেষ ক্যাম্পেইনটি শেষ হয়েছে গত ৮ জানুয়ারি। অংশগ্রহণকারীদের নির্দিষ্ট প্রোমোশনাল বোতল কিনে কিউআর কোড স্ক্যানের মাধ্যমে ফিফা-থিমভিত্তিক কুইজে অংশ নিতে হয়। সেখান থেকে নির্বাচিত বিজয়ীরা পেয়েছেন এক্সক্লুসিভ পাস, যার মাধ্যমেই ট্রফি দেখার সুযোগ মিলবে।
ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি ট্যুর বাই কোকাকোলার ষষ্ঠ আসর শুরু হয়েছে সৌদি আরবের রিয়াদে। এই বৈশ্বিক সফরের উদ্বোধন করেন ইতালির কিংবদন্তি ফুটবলার ও ২০০৬ বিশ্বকাপজয়ী দেল পিয়েরো। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সৌদি ফুটবল ফেডারেশনের শীর্ষ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
রিয়াদ পর্বে দেল পিয়েরো শিশুদের নিয়ে একটি ফুটবল ক্লিনিকে অংশ নেন এবং দিনশেষে সাধারণ দর্শকদের জন্য একটি পাবলিক ফ্যান ইভেন্টের আয়োজন করা হয়। সেখান থেকেই ট্রফিটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যাত্রা শুরু করেছে।
এই ট্যুরে ট্রফিটি ৩০টি ফিফা সদস্য দেশের মোট ৭৫টি স্থানে প্রদর্শিত হবে। পুরো সফর চলবে ১৫০ দিনেরও বেশি সময়। এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকায় ট্রফির আগমন বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর হতে যাচ্ছে। প্রথমবারের মতো তিনটি দেশ- যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে টুর্নামেন্ট আয়োজন করছে। এই বিশ্বকাপে ৪৮টি দল অংশ নেবে। ম্যাচ হবে মোট ১০৪টি।
এবারের ট্রফি ট্যুরটি বিশেষ, কারণ এটি ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি ট্যুর বাই কোকা-কোলার ২০ বছর পূর্তি উদযাপন করছে। গত ২০ বছরে ট্রফিটি মোট ২১১ টি ফিফা সদস্য দেশের ১৮২ টিতে ভ্রমণ করেছে।
ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি ট্যুর বাই কোকা-কোলা প্রতিটি দেশে পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে গুরুত্ব দিচ্ছে। এই ট্যুরের অংশ হিসেবে প্যাকেজিং সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবহার কার্যক্রমসহ বিভিন্ন টেকসই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
ফিফার দীর্ঘদিনের অংশীদার হিসেবে কোকা-কোলার সঙ্গে সংস্থাটির সম্পর্ক ১৯৭৬ সাল থেকে। ১৯৭৮ সাল থেকে কোকা-কোলা ফিফা বিশ্বকাপ-এর অফিসিয়াল স্পন্সর হিসেবে যুক্ত রয়েছে।