কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) কল্যাণে দ্রুত বদলে যাচ্ছে পৃথিবী। এই গতির সঙ্গে তাল মেলাতে না পারলে ‘অপ্রাসঙ্গিক’ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। স্যামসাং গত মাসের প্রথমার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে অনুষ্ঠিত প্রযুক্তি-বিষয়ক প্রদর্শনী কনজিউমার ইলেকট্রনিকস শো (সিইএস) ২০২৬ -এ ভবিষ্যতে রান্নাঘরে কী ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার হতে পারে তা উপস্থাপন করেছে, যা এআইভিত্তিক জীবনযাপনের দিকে মানবসভ্যতার দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
এআই প্রযুক্তি জীবন অনেক সহজ করেছে। রান্নাঘরের নিত্যপ্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিতে এআই সংযোজন অনেক বড় একটি পদক্ষেপ। আমরা এমন এক যুগে প্রবেশ করছি, যেখানে রান্নাঘরের দৈনন্দিন অনুষঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সংযোজন হচ্ছে। এআই মানুষের বিকল্প নয় বরং সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তার একটি টুল।
এআই-এর সহযোগিতা আমাদের সিদ্ধান্তগুলোকে আরও সহজ ও নিখুঁত করে তুলতে পারে। যেমন, একটি এআই-চালিত ওভেন খাবারের ধরন অনুযায়ী কিছু রান্না ঠিক কতটুকু সময় নিয়ে হবে তা নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করতে পারে। কেউ কেক বেক করার সঠিক সময় না-ও জানেন তাহলেও সমস্যা নেই। ওভেনই রান্নার ধরণ অনুযায়ী তাপমাত্রা ও সময় সামঞ্জস্য করে নেয়। ফলে, কেক হয় একদম ঠিকঠাক। পুড়ে যাওয়া বা ভেতরে কাঁচা থাকার কোনো ঝুঁকিই থাকে না।
এআই প্রযুক্তি সংযোজনের ফলে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন রেফ্রিজারেটরের ক্ষেত্রে দেখা যায়। একবার ভাবুন তো, যদি দরজা খুলতেই ফ্রিজ নিজেই আপনার পছন্দ অনুযায়ী থাকা উপকরণের ভিত্তিতে কী রান্না করা যায়, তা বলে দিত! শুধু রেসিপি নয়, ধাপে ধাপে রান্নার নির্দেশনাও দিত! এতে রান্নার পরিকল্পনা করা আর ভয়ের কারণ না হয়ে সহজ হয়ে উঠত।
এসব ভাবনা এখন আর কেবল কল্পনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সিইএস ২০২৬ -এ ভবিষ্যতের রান্নাঘরে ব্যবহার উপযোগি এমন সব প্রযুক্তির প্রদর্শনী করেছে। এছাড়া স্যামসাং ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের বাজারে ‘বিস্পোক এআই’ ধারণা চালু করেছে এবং ভবিষ্যতে আরও উন্নত সংস্করণ নিয়ে আসার পরিকল্পনা করছে। রান্নাঘর মানে মানুষের জায়গা এআইকে দেওয়া নয়; বরং মানুষকে তার কাজে সহায়তা করা। আর সেই স্বপ্নটিকেই বাস্তবে রূপ দিচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।