
বাংলা প্রবাদ তীরে এসে তরী ডোবার মতো শেষ ওভারে ব্যর্থতার পরিণতিতে ৪ রানে নেপাল হারলো ইংল্যান্ডের কাছে। ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়ার মতো মুক্তি পেলো ইংল্যান্ড। ইংল্যান্ডের করা ১৮৪/৭ স্কোর বীরের মতো তাড়া করে ১৮০/৬ করেছিল নেপাল। পরাজিত হলো মাত্র ৪ রানের ব্যাবধানে। দুর্দান্ত ব্যাটিং করে হিমালয় কন্যা নেপাল শেরপারা কাঁপুনি তুলেছিলো ইংলিশ লায়ন্স তাঁবুতে। সামান্যর জন্য রূপকথা লেখা হলো না। বীরের মতো লড়াই কই হেরেছে নেপাল। মাথা উঁচু করেই কাল মুম্বাই ম্যাচ ছেড়েছে নেপাল। এমন খেলা নিয়ে গর্ব করতেই পারে মাঠে থাকা উৎফুল্ল নেপালি ক্রিকেট সমর্থকরা।
প্রথম ব্যাটিং করে ইংল্যান্ড নেপালের চমৎকার বোলিং এবং তুখোড় ফিল্ডিং সত্ত্বেও জ্যাকব বেথেল (৩৫ বলে ৫৫) আর অধিনায়ক হ্যারি ব্রুকের (৩২ বলে ৫৩ রানের ) উপর ভর করে করেছিল ১৮৪/৭। ম্যাচের শেষ প্রান্তে এসে নেপাল চেপে ধরেছিলো ইংলিশ লায়ন্সদের। কিন্তু ইংল্যান্ড ইনিংসের শেষ ওভারে কৌশলগত ভুল করে নেপাল অধিনায়ক। শেষ ওভারটি দারুন বোলিং করা দিপেন্দ্রা সিং আইরিকে দিয়ে না করিয়ে পেস বোলার ব্যবহার করায় উইকেটে থাকা উইল জ্যাক চার ছক্কার ফুলকি ছুটিয়ে ইংল্যান্ড সংগ্রহে অন্তত ১৫ রান অতিরিক্ত জুড়ে দিয়েছিল। অথচ নেপাল ইনিংসের শেষ ওভারে জয়ের জন্য মাত্র ৯ রান প্রয়োজন থাকলেও স্যাম কুরানের বলে ৫ রানের বেশি করতে পারেনি নেপাল। পরাজয় মাত্র ৪ রানের। নেপালের বীরোচিত খেলার প্রশংসা করতেই হয়। এই টুর্নামেন্টে নেপাল হয়ত প্রথম রাউন্ড পেরিয়ে যাবে বলেই ধারণা করা যায়। পরাজয়ের দুয়ারে এসে এসে ইংল্যান্ড বেঁচে যায় স্যাম কুরআনের দক্ষ শেষ ওভার বোলিংয়ে।
ইংল্যান্ডের শুরুটা ভালো হয়নি। দ্বিতীয় ওভারেই ফিল সল্টকে ১ রানে ফিরিয়ে দিয়েছিল শের মাল্লা। নন্দন ইয়াদাভ ফিরিয়েছিল মারকুটে জস বাটলারকে বড় ক্ষতি করার আগেই। নেপাল বোলিংয়ের পোস্টার বয় লামিচান ফিরিয়েছিল টম বণ্টনকে। কিন্তু ইংলিশ ইনিংসকে গতি দিয়েছিল ৩৫ বল খেলে ৪ চার আর ৪ ছক্কায় ৫৫ রান তুলে জ্যাকব বেথেল। এর পর হ্যারি ব্ৰুক ৩২ বলে ৫৩ রান তুলে ইংল্যান্ডকে একটি লন্চিং প্যাড দিলেও নেপালের স্পিনার্সরা ইংলিশ ইনিংসের গতি রুদ্ধ করেছিল। শেষ ওভারটি ম্যাচ পরিস্থিতিতে হয়ত স্পিনার দিপেন্দ্র আইরিকে দিয়ে করানো যেত। উইকেটে পেস বোলারদের জন্য কিছু ছিল না। শেষ ওভারে উইল জ্যাক্স বেপরোয়া ব্যাটিং করে তিন ছক্কায় ২২ রান যোগ করে ইংল্যান্ড ইনিংস ১৮৪/৭ পৌঁছায়। চাপের মুখেও নেপালের বোলিং ফিল্ডিং কাল ছিল উপমাধর্মী।
তবে প্রশংসা করতেই হবে নেপালের ব্যাটিং। শুরু থেকেই পরিকল্পনা মতো অসামান্য দক্ষতায় ব্যাটিং করেছে নেপাল দল। শুরুতে কুশল বুৰ্টেল (২৯) আর রোহিত পাউদাল (৩৯) করার পর দিপেন্দ্র আইরির ২৯ বলে ৪৪ রান নেপালকে অনেকটা চালকের আসনে আসীন করেছিল। ১৯তম ওভার শেষে নেপালের স্কোর ছিল ১৭৫/৬। জয়ের জন্য শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ৯ রানের। এই সময় সাম কুরান স্নায়ুর চাপ উপেক্ষা করে অসামান্য দক্ষতায় সঠিক লাইন লেংথ বজায় রেখে মাত্র ৫ রান দিয়ে ইংল্যান্ডের জয় নিশ্চিত করে। ইংলিশ সিংহদের হুঙ্কার দিয়েও হিমালয় দুহিতা নেপাল শেরপাদের তরী তীরে এসে ডুবে যায়। মাত্র ৪ রানে পরাজিত নেপাল রূপকথা রচনায় ব্যর্থ হয়। মাঠ জুড়ে উৎফুল্ল নেপালি দর্শকদের উল্লাস খেলায় নতুন মাত্রা জুড়ে দিয়েছিল।