
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘর্ষের প্রতিক্রিয়ায় আরব এবং পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো একপ্রকার অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। আত্মরক্ষার কারণে কৌশল হিসাবে ইরান মিসাইল আর ড্রোন ব্যবহার করে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে সৌদী আরব, কাতার, ইউএই, বাহরাইন, কুয়েত, ইরাকে অবস্থিত যুক্তরাষ্টের সামরিক স্থাপনাসহ দূতাবাসসমূহে।
জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে।পাশাপাশি সৌদি আরবের তেল, কাতারের এলএনজি স্থাপনায় ড্রোন আক্রমণ হওয়ায় এগুলোর অপারেশন স্থগিত করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই অপরিশোধিত তেল ব্রেন্ট ৮১ মার্কিন ডলার আর ডাব্লুটিআই ৭৩ মার্কিন ডলার হয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন অচিরেই তেলের মূল্য ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাবে।
একে মূল্য বৃদ্ধি তার উপর সাপ্লাই চেন ভেঙে পড়ায় বাংলাদেশসহ জ্বালানি আমদানিকারী দেশগুলোতে সৃষ্টি হয়েছে আতঙ্ক। বাংলাদেশ ১০০% অপরিশোধিত তেল আমদানি করে সৌদী আরব আর ইউএই থেকে। পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম আমদানির অবশ্য বিকল্প সূত্র রয়েছে চীন, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া।
এলএনজি ৭০-৮০% আসে কাতার এবং ওমান থেকে। সহজেই অনুমেয় এপ্রিল থেকেই বাংলাদেশ পড়বে মহাসঙ্কটে। জানিনা বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের স্ট্রাটেজিক রিজার্ভ কতদিনের আছে। এলএনজির কোন রিজার্ভ আদৌ নেই।
নতুন সরকার এমন সময় ক্ষমতায় এসেছে যখন বিদ্যুৎ চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে বিদ্যুৎ চাহিদা ১৬,০০০ পৌঁছাবে। কিন্তু এলএনজি আমদানি সংকটে পড়ায় এবং তেল আমদানি দুরূহ হয়ে পড়লে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ধস নামবে। জানিনা আমদানিকৃত কয়লা দিয়ে কয়লা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য পর্যাপ্ত কয়লা মজুদ আছে কি না।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিকল্পনায় কখনো আপৎকালীন পরিকল্পনা করেনি। বর্তমান অবস্থায় উদ্ভুত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য জ্বালানি বিদ্যুৎ ব্যবহারে কৃচ্ছতা ছাড়া বিকল্প নেই। সরকার ইতিমধ্যে সার উৎপাদন খাতে গ্যাস সরবরাহ স্থগিত এবং রমজানের পরে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ার কথা ভাবছে।
দেশে গ্যাস চাহিদা ৪২০০ এমএমসিএফডি, ১০০০ মিলিয়ন আমদানিকৃত এলএনজিসহ সরবরাহ ২৭৫০-২৮০০ মিলিয়ন। বর্তমান অবস্থা আর সপ্তাহ থাকলে এলএনজি সরবরাহ পর্যায়ক্রমে কমে ৭০০,৬০০, ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট হয়ে যেতে পারে। আর তেল, গ্যাস, এলএনজি, এলপিজি, কয়লা সব জ্বালানির মূল্য আকাশ ছুঁয়ে যাবে।
সরকার ইতিমধ্যে ব্যক্তিগত যানবাহন চলাচল সীমিত করার অনুরোধ করেছে। আশা করবো সরকার ব্যাবসায়ী সম্প্রদায়ের সঙ্গে আলোচনা করে বাণিজ্য বিতানগুলো শুক্র আর শনিবার ছাড়া অন্যান্য দিনে রাত ৮টার পর বন্ধ করে বিদ্যুৎ চাহিদা কমাতে চেষ্টা করবে।
এখন থেকে সামাজিক অনুষ্ঠানগুলো শুধুমাত্র দিনের বেলায় করার বিধান করা যেতে পারে। এর পরেও ঘাটতি থাকবে। তাই দেশব্যাপী পরিকল্পিত লোডশেডিং করতে হবে হবে। বিদ্যুৎ জ্বালানি একটি জাতীয় সমস্যা আর তাই জনস্বার্থে সবাইকে সাথে নিয়েই সরকারকে সমস্যা সমাধান করতে হবে। জ্বালানি বিদ্যুৎ ব্যাবহারে সকল পর্যায়ে কৃচ্ছতা এবং দক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে।
মধ্যকালীন ব্যবস্থা হিসাবে তেল, এলএনজি, এলপিজি আমদানির বিকল্প সূত্র খুঁজতে হবে। জ্বালানি তেল, এলএনজি স্টোরেজ ক্ষমতা বাড়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে। বাপেক্স/পেট্রোবাংলার গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিট দ্রুত উৎপাদনে আনতে হবে।
একবছরের মধ্যে অন্তত ১৫০০-২০০০ মেগাওয়াট রুফ টপ সোলার বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সকল প্রকার প্রণোদনা দিতে হবে। দীর্ঘকালীন কার্যক্রম হিসাবে অবিলম্বে সাগর এবং স্থলভাগে পিএসসি বিডিং রাউন্ড ঘোষণা করতে হবে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে জ্বালানি বিদ্যুৎ সেক্টরের কার্যক্রমে পেশাদারিত্ব এবং দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে। জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।