
বদলে যাওয়া শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে উপভোগ্য হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে ১১ রানে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ম্যাচ জিতে সিরিজ ২-১ জয় করলো বাংলাদেশ। কাল গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে টস হেরে স্পোর্টিং উইকেটে ভালো ব্যাটিং করে বাংলাদেশ করেছিল ২৯০/৫। হতে পারতো ৩১০-৩২০। লেট অর্ডারে পাওয়ার হিটার না থাকায় হয়নি সেটি। পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত লড়াই করে ইনিংসের শেষ বলে ২৭৯ রানে অল আউট হলে হেরে যায় ১১ রানে। বাংলাদেশের এই জয় আইসিসি অডিআই রাংকিং একধাপ এগিয়ে করেছে ৯ম।
সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড।
বাংলাদেশ ২৯০/৫ (তানজিদ হাসান তামিম ১০৭, তাওহীদ হৃদয় ৪৮, লিটন কুমার দাস ৪১, সাইফ হাসান ৩৬। হারিস রউফ ৪/৫২)
পাকিস্তান ২৭৯ অল আউট (সালমান আলী আগা ১০৬, সাদ মাসুদ ৩৮, শাহীন শাহ আফ্রিদি ৩৭, আব্দুল সামাদ ৩৪, গাজী ঘরে ২৯। তাসকিন আহমেদ ৪/৪৯, মুস্তাফিজুর রহমান ৩/৫৪. নাহিদ রানা ২/৬২)
বাংলাদেশ ১১ রানে জয়ী। বাংলাদেশ ২-১ সিরিজ জয়।
ম্যাচের সেরা: তানজিদ হাসান তামিম।
সিরিজ নিয়ে সমীক্ষায় প্রথমেই লিখবো মিরপুরের উইকেটের চরিত্রে শুভ পরিবর্তন নিয়ে। ধীর ঘূর্ণি উইকেটকে স্পোর্টিং উইকেটে রূপান্তরের জন্য বিসিবি এবং টনি হেমিং বাহবা পেতেই পারে। যদিও এহেন উইকেটেও প্রথম ম্যাচে পাকিস্তান আর দ্বিতীয় ম্যাচে ১১৪ রানেই গুটিয়ে গেছে। সেটি কিন্তু ছিল ভিন্ন প্রেক্ষিতে দুই দলের ব্যাটিং ব্যর্থতা। বাংলাদেশ চাপমুক্ত প্রথমে ব্যাটিং করে ২৯০/৫ পৌঁছে প্রমাণ করলো বড় টার্গেট চেজ করতে বাংলাদেশ ব্যাটিং সচরাচর ভেঙে পড়ে। চাপের মুখে শীতল স্নায়ুর পরিণত ব্যাটসম্যান মুশফিক, মাহমুদুল্লার অবসরে নতুন কেউ গড়ে উঠেনি।
কাল বাংলাদেশ ইনিংসের হাইলাইট ছিল মেধাবী ওপেনার তানজিদ তামিমের ১১৭ বলে ১১৭ রান। প্রথম উইকেট জুটিতে সাইফ হাসানের (৩৬) সঙ্গে ১৮.১ ওভারে ১০৫ রানের জুটি দলকে বড় স্কোর গড়ার ভিত্তি দিয়েছিল। ৬ চার আর ৭ ছক্কায় সাজানো তামিমের ইনিংসটি ছিল ওডিআই ক্রিকেটে প্রথম শত রান। ভালো ব্যাটিং করেছে তাওহীদ রিদয় (৪৮*) আর লিটন দাস (৪১)। উইকেটের মান অনুযায়ী বাংলাদেশের রান ৩২০-৩৩০ হতে পারতো। পাকিস্তান বোলিংয়ে হারিস রউফ (৩/৫২) ছাড়া আর কেউ সুবিধা করতে পারেনি (৪)।
কাল দুর্দান্ত ছন্দে থাকা তাসকিন আহমেদ (৪/৪৯) আর নাহিদ রানা (২/৬২) শুরুতেই ফারহান (৬), সাদাত (৬), রিজওয়ানের উইকেট তুলে নিয়ে ২.৫ ওভারে ৩/১৭ কোনঠাসা করে ফেলেছিল। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানো সহজ ছিল ছিল না। তবুও সালমান আগা (১০৬), নবাগত সাদ মাসুদ (৩৮), আব্দুল সামাদ (৩৪) লড়াই করে পাকিস্তানের আশা জিয়িয়ে রেখেছিল। বিশেষ করে সালমানের ৯৯ বলে করা ১০৬ রানের ইনিংস দলকে জয়ের স্বপ্ন দেখিয়েছিল।
চেষ্টা করেছিল অধিনায়ক শাহীন আফ্রিদি ৩৮ বলে ৩৭ রান করে জয় ছিনিয়ে নিতে। কিন্তু বাংলাদেশের হয়ে কাটার মাস্টার মুস্তাফিজ (৩/৫৪) গুরুত্বপূর্ণ সময়ে জ্বলে উঠে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করে। স্বস্তির ১১ রানে জয় বাংলাদেশের ২-১ ম্যাচে সিরিজ জয় নিশ্চিত করে। মেরাজ বোলিং গুলিয়ে ফেলেছিল। শেষ ওভারটি রিশাদকে করতে হয়েছিল। সৌভাগ্যক্রমে শাহীন স্টাম্পড হয়ে যাওয়ায় শেষ ওভারে ১৪ রান তাড়া করতে পারেনি পাকিস্তান।
সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। কিন্তু সিরিজ থেকে অনেক কিছুই শেখার আছে। বাংলাদেশকে অবশ্যই সাকিব আল হাসানকে দলে জরুরি ভিত্তিতে ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন। নিউ জিল্যান্ড এবং ভারত কিন্তু অনেক তুখোড় দল। সেখানে সাকিবের মতো পরিণত ম্যাচ উইনারকে না পেলে বাংলাদেশের সিরিজ জয় কঠিন হবে। এক সাকিব বাংলাদেশ দলকে ভারসাম্য এনে দিবে। পাকিস্তান কিন্তু একঝাঁক তরুণদের নিয়ে ভালোই করেছে বলবো। কষ্ট লাগে দেখে ইমরান, ওয়াসিম, ওয়াকার, শোয়েব আক্তারদের দেশে এখন ম্যাচজয়ী পেস বোলারের ঘাটতি দেখে।