অস্কার ছুঁতে পারলেন না ইমন

সেই কবে প্রথম বাঙালি হিসেবে অস্কার পেয়েছিলেন সত্যজিৎ রায়। এরপর একাধিকবার হিন্দি গান, সিনেমা অস্কার জয় করলেও আর কোনো বাঙালির ছুৃঁয়ে দেখা হয়নি একাডেমি অ্যাওয়ার্ড। সে আক্ষেপ ঘোচানোর সুযোগ পেয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ইমন চক্রবর্তী। অস্কারের মনোনয়নে জায়গা পেয়েছিল তার গান। ‘পুতুল’ নামের সিনেমার ‘ইতি মা’ গানটি তালিকায় ছিল। এমন খবর উচ্ছ্বসিত করেছে ইমনকে। শোনার পরও তিনি যেন ভাবতেই পারছিলেন না এ অর্জনের কথা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে এভাবেই জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘এক মাস আগে গানটা গেয়েছিলাম। সারা বিশ্বের ৭৯টি সেরা গানের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে এই গান। বাংলা গান হিসেবে আমার গানটা রয়েছে। যেটা আমার কাছে অস্কারের সমান বলা চলে। খুব বড় পাওয়া। আমি এখনও ভাবতে পারছি না। একটা বাংলা গান নমিনেশন পেয়েছে, এর চেয়ে বড় আর কিছু হতে পারে না।’ অস্কারের মঞ্চে এই অর্জন ইমন পরিবারের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছিলেন। উৎসর্গ করেছিলেন পরিবারের সকল সদস্যদের। তিনি বলেছিলেন, এই সম্মান আমার একার নয়, বাংলার।

এই সিনেমা শুধু ইমনকে নয় দুহাত ভরে দিয়েছিল আরও দুজনকে। গানটির সুরকার সায়ানের নামও আসে অস্কারের নমিনেশনের তালিকায়। এছাড়া ছবির আবহসঙ্গীত করার জন্য তালিকায় নাম ওঠে ‘ইশকওয়ালা ডাকু’র সুরকার বিক্রম ঘোষের। গানটি গেয়েছেন শমীক ও ডালিয়া মাইতি। তবে ভাগ্যের শিকে ছেড়েনি ইমনের।

কেননা গেল ১৭ ডিসেম্বর ভোটের মাধ্যমে ১৫টি গান ও অরিজিনাল স্কোরের জন্য মোট ২০টিকে বাছাই করে অস্কার কমিটি। ৯ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয় প্রথম রাউন্ডের ভোটিং। একাডেমির সঙ্গীত শাখার সদস্যরা এদিন থেকে শুরু হওয়া প্রথম রাউন্ডের ভোটে ১৫টি গান এবং সেরা ২০টি অরিজিনাল স্কোরের জন্য ভোট দেন। তবে সে তালিকায় নেই ইমনের গান।

জামদানিতে জয়া

জয়া মানেই নতুন কিছু। নিজের অভিনীত সিনেমার ক্ষেত্রে বারবার এ প্রমাণ তিনি দিয়ে যাচ্ছেন। এবার শাড়িতেও ধরা দিয়েছেন অন্যভাবে। মাসখানেক আগে ভারতের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার বিতরণীর আসর ফিল্ম ফেয়ারের মঞ্চে গিয়েছিলেন জয়া। পরনে ছিল ঢাকাই জামদানি। তবে তা ঠিক প্রচলিত শাড়ির মতো ছিল না। জয়া নিজের মতো করে জামদানি পরেছিলেন। তাতে ফিল্মফেয়ারের জমকালো সে সন্ধ্যায় জয়ার জেল্লা যেন আরও বেড়েছিল। নজর কেড়েছিল উপস্থাপকের। যদিও এবার জয়া কোনো পুরস্কার পাননি। তাই বলে অভিনেত্রীকে অগ্রাহ্য করা হয়নি। দর্শক আসন থেকে মঞ্চে ডেকে নেওয়া হয়। দুই বাংলার ফাইনেস্ট আর্টিস্ট হিসেবে সম্মানের সঙ্গে পরিচয় করান উপস্থাপক। প্রশংসা করেন তার জামদানির। এদিকে জয়া যে সারিতে বসেছিলেন সেখানে আরও বসেছিলেন কারিনা কাপুর, ক্যাটরিনা কাইফেরদের মতো ডাকসাইটে বলিউড তারকারা।

যদিও নতুনত্বের এই স্বাদ সহজভাবে সবাই নিতে পারেনি। ফলে কটাক্ষের শিকার হতে হয় নায়িকাকে। অবশ্য সেসব কোনো পাত্তাই পায়নি জয়ার কাছে। জামদানি গায়ে জড়িয়ে যেভাবে বেপরোয়া লুক ধারণ করেছিলেন ঠিক সেভাবেই সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘হ্যাঁ আমি দেখেছি অনেকে এটা নিয়ে কথা বলছেন। আমরা আমাদের ঐতিহ্যবাহী খাবার যদি ফিউশন করে খেতে পারি, যেমন পিঠা বা মাছ তো আমরা ফিউশন করে খাই। তাহলে আমাদের দেশের কস্টিউম কেন ফিউশন করে পরতে পারব না? কেউ তো দাসখত দেয়নি যে, জামদানি এভাবে পরা যাবে না, ওভাবে পরা যাবে না। জামদানি যদি স্কার্ট হয়, জ্যাকেট হয় তাহলে এভাবে পরলে সমস্যা কোথায়। আমরা যত ফিউশন করবো ততো বাইরের দেশের কাছে উপস্থাপন করতে পারবো। এটার চাহিদা অনেক বেড়ে যাবে। এসব ভেবেই আমি জামদানির এই ফিউশন করেছি। দেখুন, কয়েক বছর আগেও জামদানির এতটা চাহিদা ছিল না। কিন্তু এখন জামদানির এত চাহিদা যে, মনে হয় এটা শুধু একটি শাড়ি নয়, এটা অলঙ্কারের মতো। একটা মেয়ে চায়, তার ঘরে একটা সুন্দর, দামি জামদানি থাকুক।’

অভিনেত্রী আরও বলেন, ‘এটাই প্রথম নয়, আমি যতটুকু পারি জামদানি, মসলিন পরার চেষ্টা করি। এই লুকটারও একটা বিষয় ছিল। পুরানে যেসব মেয়েরা যুদ্ধ করতো, তাদের যে লুক সেই লুকেই আমি সেজেছিলাম এবং সেটা ইচ্ছে করেই। এমনকি পরিচালক সুজয় ঘোষও আমার লুকের প্রশংসা করেছিলেন।’

হ্যারি পটার হতে ভিড়

হ্যারি পটার বইটি লিখে বিশ্বজুড়ে ক্রেজ তৈরি করেছিলেন জে কে রাউলিং। পৃথিবীর সকল প্রান্তের বইপ্রেমীরা লুফে নিয়েছিল। এই উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে সিনেমা। সাতটি পর্বের পর এসেছে তিনটি স্পন অব সিরিজ। সেগুলোও তুমুল জনপ্রিতা পেয়েছে। তবে হ্যারি পটারের ভক্তরা যাদের পটার হেডস বলে ডাকা হয় তারা চাইছিলেন উপন্যাসটি এবার আসুক টিভি সিরিজ রূপে। প্রযোজনা সংস্থাও একই ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন। এদিকে সিনেমায় পটার চরিত্র অভিনয় করেছেন ড্যানিয়েল রেড ক্লিপ। তিনিসহ কেন্দ্রীয় চরিত্রগুলোতে যারা অভিনয় করেছেন তারা কেউই এখন আর মানানসই নন। কেননা সময়ের সঙ্গে তাদের বয়স বেড়েছে কিন্তু হ্যারি পটার সেই কিশোরই রয়ে গেছে। এ কারণেই নতুন অভিনয়শিল্পীর অডিশন নেওয়া হচ্ছে। হ্যারি পটার হতে ইচ্ছুকদের সংখ্যা কম নয়। প্রতিদিনই প্রায় হাজার খানেক আবেদন জমা হচ্ছে। এ পর্যন্ত জমা হয়েছে ৩২ হাজার আবেদন। এখান থেকে রোজই কাউকে না কাউকে বাছাই করা হচ্ছে। তাদের নিয়ে কর্মশালা হবে জানুয়ারিতে। এরপর সেখান থেকে একজনকে চূড়ান্ত করা হবে রিপোর্টার চরিত্রে।

আগামী বছর থেকেই শুটিং ফ্লোরে যাবে সিরিজটি। ২০২৫ সালের গ্রীষ্মে ইংল্যান্ডের লিভসডেনে অবস্থিত ওয়ার্নার ব্রুসের স্টুডিওতে শুরু হবে শুটিং। হ্যারি পটার সিনেমাগুলোরও শুটিং হয়েছিল সেখানে। ২০২৬ সাল থেকে টিভি সিরিজটির প্রচার শুরু হবে এইচবিওতে। সম্প্রতি লন্ডনে ওয়ার্নার ব্রুস ডিসকভারির প্রধান কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানিয়েছেন শো রানার ফ্রান্সেসকা গার্ডিনার ও পরিচালক মার্ক মাইলড।

‘বাজে স্বভাব’র গায়ক বিয়ে করলেন

‘কথা হবে, দেখা হবে/ প্রেমে প্রেমে মেলা হবে, কাছে আসা-আসি আর হবে না’ – এমন কথামালায় সাজানো গানের শিরোনাম ‘বাজে স্বভাব’। গানটি দিয়ে সবার নজর কাড়েন গায়ক রেহান রাসুল।

৬ বছর আগে প্রকাশিত গানটির ইতোমধ্যেই ইউটিউবে ৫৩ মিলিয়নের কাছাকাছি ভিউ হয়েছে। এরপর রেহান কণ্ঠ দিয়েছেন বেশ কিছু গানে। যা শ্রোতামহলে হয়েছে প্রশংসিতও।

গত ৭ ডিসেম্বর রাতে বিয়ের খবরটি প্রকাশ্যে আনেন রেহান রাসুল। স্ত্রীর সঙ্গে একটি স্থিরচিত্র ফেসবুকে প্রকাশ করে ক্যাপশনে লিখেন, ‘বিয়ে করেছি, শক খাইয়েন না, ঘটনা সত্য। ’

জানা গেছে, রেহান রাসুলের স্ত্রীর নাম সাদিয়া ইসলাম। পরিবারের সবাই তাকে বৃষ্টি নামে ডাকেন। আর রেহানের লালমাটিয়ার বাসায় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে।

রেহানের কথায়, এক বছরের প্রেম আমাদের। পরিচয় ২০১৬ সালে। একসঙ্গে আমরা তখন এবিসি রেডিওতে কাজ করেছি। বৃষ্টি তখন ছয়-সাত মাস কাজ করেছিল প্রযোজক হিসেবে। তখন অবশ্য ওর সঙ্গে আমার প্রেমের সম্পর্ক ছিল না। ছিল শুধু বন্ধুত্ব। ২০২৩-এ এসে আমাদের আরেকটা আড্ডা হওয়া শুরু করে। ২০২৪ এর শুরু থেকে প্রেম। তারপর বিয়ে করে ফেললাম।

তিনি আরও বলেন, সব সময় সবাইরে বলে আসছি, জীবনেও বিয়ে করব না। বলার কারণ, এ রকম মানুষ পাব কোনোদিন চিন্তাও করি নাই। আমি চেয়েছিলাম, যে মানুষটা আমাকে আমার মতন রাইখা ভালোবাসবে। আমাকে বদলাইয়ে ফেলবে না। বলবে না যে ‘তুমি এমন হও, আমার এমন স্বামী লাগবে।’ আমাকে সবাই যেভাবে চেনে – বাজে স্বভাব, ছন্নছাড়া, মুখের ওপর কথা বলে দেওয়া ছেলেটা, এই মানুষটাকে সে ভালোবাসে।

গায়ক জানান, সাদিয়া ইসলামের সঙ্গে তার বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে সম্প্রতি। গতকাল সেই সুখবরটি প্রকাশ্যে এনেছেন শুধু।

এর কারণ প্রসঙ্গে রেহান বলেন, আমরা বিয়েতে কোনো অনুষ্ঠান করিনি। আত্মীয়-স্বজন কাউকে জানানোও হয়নি। দুই পরিবারের অভিভাবকপর্যায়ে মাত্র কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। হঠাৎ মনে হয়েছে কাকে আলাদা করে জানাব, কাকে আয়োজন করে জানাব, কে আবার মন খারাপ করবে, কে অভিমান করবে – এসব চিন্তা করতে করতে মনে হলো, বিয়ের খবরটা এবার জানিয়ে দেওয়া উচিত। তাই ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে জানিয়ে দেওয়া। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন।

রেহান রাসুলের গাওয়া প্রথম গান ‘বাজে স্বভাব’। এর সংগীতে ছিলেন পৃথ্বীরাজ। আর প্রথম সিনেমায় গেয়েছেন ‘নেটওয়ার্কের বাইরে’র ‘রূপকথার জগতে’ গানটি। আর সবশেষ ‘প্রিয়তমা’ সিনেমায় ‘গভীরে’ ও ‘তুফান’-এ ‘আসবে আমার দিন’ গানে কণ্ঠ দিয়েছেন রেহান রাসুল।

লেখাটির পিডিএফ দেখতে চাইলে ক্লিক করুন: ফ্রেমবন্দি

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

5 × 1 =