আইসিসি ওডিআই অবস্থান এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ বাংলাদেশের

আইসিসি ওডিআই অবস্থানে বাংলাদেশকে মার্চ ২০২৭ র মধ্যে নিজেদের অবস্থান টপ আট জনের মধ্যে উন্নীত করতে হবে। তাহলেই বাংলাদেশ ২০২৭ ওডিআই  বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার সুযোগ পাবে।৭৪ পয়েন্টস নিয়ে বর্তমান ১০ম আর ৭৭ পয়েন্টস নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর ৮৮ পয়েন্টস নিয়ে ইংল্যান্ড আছে ৯ম আর ৮ম অবস্থানে। পাকিস্তানের চলতি সিরিজে ৩-০ জয় পেলে বাংলাদেশের অবস্থান অনেক উন্নত হবে।

২০২৬ শেষ হবার আগেই দেশে এবং বিদেশে আরো ১৯ ওডিআই খেলতে হবে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কাল কালকের দাপুটে জয় যেন বাংলাদেশের আত্মতুষ্টির কারণ না হয়ে দাঁড়ায়। বাংলাদেশের মোমেন্টাম ধরে রেখে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। তুখোড় অলরাউন্ডার সাকিব আল যত দ্রুত সম্ভব হাসানকে দলে ফিরিয়ে এনে অবদান রাখার সুযোগ দিতে হবে। সাকিবের অন্তর্ভুক্তি দলের ভারসাম্য সম্পূর্ণ পাল্টে দেয়। বাংলাদেশ একজন বাড়তি ব্যাটসম্যান খেলানোর ঝুঁকি নিতে পারে। তরুণ খেলোয়াড়রা ভরসা পায়।

দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ের পেসি বাউন্সি উইকেটে খেলতে হলে বাংলাদেশকে দেশের স্টেডিয়াম গুলোতে স্পোর্টিং উইকেট তৈরি করে অনুশীলন করতে হবে। বাংলাদেশের পেস ইউনিটে এখন উঁচুমানের ৫-৬ জন বোলার আছে। মুস্তাফিজ, তাসকিন, নাহিদ, শরিফুল, খালেদ, হাসান মাহমুদ, এবাদত পেসি উইকেটে সাফল্য এনে দিতে পারে। তবে ওদের ওয়ার্ক লোড বিচক্ষণতার সঙ্গে সংরক্ষণ করতে হবে।

ব্যাটিংয়ে অনেক উন্নতি হলেও ধারাবাহিকতা আসেনি। তানজিদ তামিম, সাইফ হাসান, শেখ নাঈমরা ভালো শুরু করেও ইনিংস বড় করতে পারছে না নিয়মিত।শান্ত, তৌহিদ, হৃদয়, লিটন কুমার দাস বাংলাদেশ ব্যাটিং নিউক্লিয়াস। কিন্তু ১০-৪০ ওভার পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাটসম্যানরা ইনিংস বিল্ড  করে নিয়মিত লেট অর্ডারের জন্য প্লাটফর্ম গড়ে দিতে পারছে না। মুশফিক আর মাহমুদুল্লার অভাব অনেকটাই অনুভূত হচ্ছে।

জাকের অনিক, শামীম হোসেনকে আরো সুযোগ দিয়ে অনেক পরিণত করতে হবে। আফিফের ধারাবাহিক হওয়ার সুযোগ আছে। মিরাজকে নিয়মিত ভালো ব্যাটিং করতে হবে। সাকিব থাকলে ব্যাটিং, বোলিং উভয় ক্ষেত্রেই দল উপকৃত হবে। দলের স্পিন আক্রমণে দক্ষিণ আফ্রিকার বাউন্সি উইকেটে বাংলাদেশের ট্রাম্প কার্ড হবে রিশাদ হোসেন, সঙ্গে সাকিব, মেরাজ স্পিন সহায়ক উইকেটে ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিতে পারবে।

বাংলাদেশের এই বছর বিভিন্ন ফরম্যাটে ব্যাস্ত সময় কাটাতে হবে। তিন ফরম্যাটের দলের মূল কোর ইউনিট ঠিক রেখে অন্তত ৩০ জন খেলোয়াড়ের একটি শক্তিশালী পুল তৈরি রাখতে হবে। একইসঙ্গে অন্যানো দলগুলোর প্রস্তুতি এবং খেলা বিশ্লেষণ করে কৌশল সাজাতে হবে।

আমি দেখছি দেশের ক্রিকেট অঙ্গনের একটি সুবিধাবাদী সিন্ডিকেট নানা কারণে বিভেদ সৃষ্টি করে খেলার স্বার্থহানী করছে। ওদের কারণে ভর মৌসুমেও ক্লাব ক্রিকেট মাঠে গড়ায়নি। পাপন নিয়ন্ত্রিত দুর্নীতি দূষিত বিসিবি সময়কালে সুবিধাভোগী অনেকেই এখন পরিবর্তিত সময়ে  উস্কে দিতে দেখছি।

আশা করি পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন সরকার ক্রিকেটের স্বার্থে দেশের স্বার্থে ক্রিকেট অঙ্গনের অচল অবস্থা আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নিবে। ক্রিকেট যেন কোনোভাবেই রাজনৈতিক দূষণে কলুষিত না হয়। ১৮ মাসে যথেষ্ট ক্ষতি হয়েছে। টি২০ বিশ্বকাপ না খেলার মতো আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত সঠিক হয়নি। কৌশলগত ভুল ছিল স্বীকার করতেই হবে।

আমাদের ক্রিকেটারদের যথেষ্ট সামর্থ আছে দেশে-বিদেশে ম্যাচ জয় করে গৌরব বয়ে আনার। দেশের ঐক্যের প্রতীক ক্রিকেট বর্তমান অচল অবস্থা উত্তরণ করুক সবাই সেটি আশা করে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

sixteen − 7 =