ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ই যুদ্ধের অবসান ঘটাতে পারে: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল শুক্রবার বলেছেন, ইরান যদি নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ না করে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ থামবে না। এদিকে যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়ে গেছে। এএফপি। খবর বাসস

লেবাননে ইসরাইলের হামলা বাড়ানোর পাশাপাশি তেহরানেও বড় ধরনের আক্রমণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান এই যুদ্ধে মাত্র এক সপ্তাহেই তিন হাজারের বেশি স্থানে আঘাত হানা হয়েছে।

এই সংঘাত কেবল ওই অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। এটি এখন অন্য দেশগুলোকেও ঝুঁকির মধ্যে টেনে এনেছে। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ও পরিবহন খাতকে অস্থিতিশীল করেছে এবং সাধারণত শান্তিপ্রিয় উপসাগরীয় অঞ্চলেও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে।

জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলছেন যে, এখনই শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজে বের করতে হবে, শান্তিপূর্ণ সমাধান বের করা না গেলে, পরিস্থিতি এত খারাপ হতে পারে যে আর কেউ তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না।

ক্রেমলিন জানিয়েছে, গতকাল শুক্রবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। তিনি ওই ফোনালাপের সময় তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। এই কথোপকথনে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও উত্তেজনা প্রশমনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে বলে জানা যায়।

ট্রাম্প এক সপ্তাহ আগে যুদ্ধ শুরু করার জন্য বিভিন্ন কারণ দেখিয়েছেন। তিনি ইরানের সঙ্গে  যে কোনো নতুন আলোচনা বা চুক্তি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, শর্তহীন আত্মসমর্পণ ছাড়া তেহরানের সঙ্গে আর কোনো সমঝোতা হবে না।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট বলেছেন, যখন প্রেসিডেন্ট সিদ্ধান্ত নেবেন যে ইরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আর কোনো হুমকি নয় এবং অভিযানের লক্ষ্য পূর্ণ হয়েছে, তখন ‘ইরান কার্যত নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হবে, তারা সেটা নিজে স্বীকার করুক বা না করুক।’

ট্রাম্প আরও প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, ‘যদি তেহরান ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্থলাভিষিক্ত হিসেবে তার কাছে ‘গ্রহণযোগ্য’ কাউকে নিয়োগ করে, তাহলে তিনি ইরানের  অর্থনীতি পুনর্গঠনে সহায়তা করবেন।

উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অপরিশোধিত তেলের দাম আগেই বেড়েছে। গতকাল শুক্রবার সেই দাম আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট নর্থ সি অপরিশোধিত তেলের দাম এক দিনে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯২ দশমিক ৬৯ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। এই উল্লম্ফন তেলের দামে সাপ্তাহিক প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

two + 12 =