উই-নেট এর আত্মপ্রকাশ: জ্বালানি খাত ন্যায্য রূপান্তরে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিতের দাবি

বাংলাদেশে জ্বালানি ন্যায়বিচার ও জেন্ডার সমতা নিশ্চিত করতে আজ (সোমবার) জ্বালানি রূপান্তর প্রক্রিয়ায় নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (MJF)।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এই দাবি জানানো হয়। তারই সাথে এমজেএফ-এর নেতৃত্বে আরও ৩৪ টি সংগঠন নিয়ে উই-নেট – “WEE-NET (Women’s Empowerment and Energy Network)” আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ করে।

সংবাদ সম্মেলনে এমজেএফ-এর রাইটস অ্যান্ড গভর্ন্যান্স প্রোগ্রামসের পরিচালক বনশ্রী মিত্র নিয়োগী জানান, দেশে শ্রমবাজারে নারীর অংশগ্রহণ এখনো মাত্র ১৯ শতাংশ। FY25–এর প্রথমার্ধে চাকরি হারানোদের মধ্যে ৮৬ শতাংশই নারী।

তিনি আরও বলেন, জ্বালানি খাতেও বৈষম্য স্পষ্ট: নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে নারীর অংশগ্রহণ ১০ শতাংশেরও কম, এবং প্রায় ৯০ শতাংশ পরিবার এখনো ক্ষতিকর বায়োমাস জ্বালানি ব্যবহার করে—যার স্বাস্থ্যঝুঁকি প্রধানত নারীদের বহন করতে হয়।

নেটওয়ার্কটি নারীর দক্ষতা বৃদ্ধি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে কর্মসংস্থান, নারী-নেতৃত্বাধীন উদ্যোগের সহায়তা এবং ন্যায্য জ্বালানি নীতির পক্ষে সমন্বিত অ্যাডভোকেসি জোরদার করবে। এ লক্ষ্যে নাগরিক সমাজ সংগঠন, ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হবে।

উই-নেট এর উদ্দেশ্য হলো ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তরে নারীর নেতৃত্ব ও সক্ষমতা শক্তিশালী করা, নারী-নেতৃত্বাধীন নবায়নযোগ্য জ্বালানি উদ্যোগের জন্য সরকারি-বেসরকারি অর্থায়নে সহায়তা নিশ্চিত করা, এবং জেন্ডার সংবেদনশীল নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি ও পরিকল্পনার পক্ষে জাতীয় পর্যায়ের প্ল্যাটফর্ম ও যৌথ উদ্যোগে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়ে কার্যকর পক্ষসমর্থন করা।

এমজেএফ-এর লিড – ইয়ুথ অ্যান্ড সোশ্যাল কোহেশন, ওয়াসিউর রহমান তন্ময় নির্বাচন পরবর্তী সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন যেন নারীরা নবায়নযোগ্য জ্বালানির সকল খাতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে পারে তার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

এমজেএফ-এর অ্যাডভোকেসি অফিসার মৌসুমী ইয়াসমিন দবি জানান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি ও আলোচনায় নারীদের অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে হবে। এবং নারী উদোক্তা, গ্রামীণ ও প্রান্তিক নারীদের জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালনি খাতে বিশেষ বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

এছাড়াও নেটয়ার্কের সদস্য সংগঠন ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ (ঢাকা) – এর সানজিদা রহমান, ওয়েলফেয়ার ইফোর্টস (ঝিনাইদহ) – এর শরীফা খাতুন, পথচলা ফাউন্ডেশন (চট্টগ্রাম) – এর আমাইরা ইরতেজা ইরা বক্তব্য রাখেন।

উই-নেট এর দাবি – নীতি প্রণয়নের সব ধাপে নারীদের অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা; জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানো; জীবাশ্ম জ্বালানির ভর্তুকি কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে পুনর্বিনিয়োগ; নতুন জীবাশ্মভিত্তিক কেন্দ্র বন্ধ; ইভি সম্প্রসারণে কর-শুল্ক কমানো; ২০৫০ সালের মধ্যে ১০০% নবায়নযোগ্য জ্বালানি লক্ষ্য নির্ধারণ; নারী উদ্যোক্তা ও শ্রমিকদের জন্য প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান ও সহায়তা জোরদার করা, যাতে রূপান্তরটি হয় সত্যিকার অর্থে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জেন্ডার-ন্যায্য।

উই-নেট ঘোষণা করে—নারীর নেতৃত্ব ছাড়া ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তর (জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন) সম্ভব নয়, এবং জেন্ডার ন্যায়বিচার ছাড়া কোন রূপান্তরই ন্যায্য হতে পারে না। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন আশা করে—সকলের সহযোগিতায় একটি ন্যায়সঙ্গত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানুষকেন্দ্রিক জ্বালানি ভবিষ্যৎ গড়ে উঠবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

5 × one =