সালেক সুফী
স্কিল, স্ট্রাটেজি, স্ট্যামিনা, এক্সপেরিএন্সে যোজন যোজন ব্যাবধানে এগিয়ে থাকা উত্তর কোরিয়ার কাছে বাংলাদেশ আজ এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়নশিপের দ্বিতীয় ম্যাচে (০-৫) গোলের বিশাল ব্যাবধানে হেরেছে। অনেক উন্নত দক্ষতা আর লাগসই কৌশলে এগিয়ে থাকা বিজয়ী দলের আগ্রাসী কৌশলের কাছে হকচকিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের নিজেদের খেলাটাই খেলতে পারেনি।
স্মরণে আছে আগের ম্যাচে শিরোপাধারী চীনের কাছে বাংলাদেশ (০-২) হারলেও লড়াকু পারফরমেন্স মুগ্ধতা ছড়িয়ে সবার মন জয় করেছিল। আজ কিন্তু বাংলাদেশের খেলায় আগের খেলার মত ছন্দ ছিলনা। নিজেদের রক্ষণ ভাগ একেবারেই আক্রমণে উঠে আসতে পারেনি। ভুল পাস্, মধ্যমাঠে সংযোগহীনতার কারণে প্রতিপক্ষের উপর সামান্যতম চাপ সৃষ্টি করতে পারেনি। বরং সারাক্ষন নিজেদের রক্ষণ ভাগে আকড়ে থাকা বাংলাদেশের গোলে ৩১ বার কোরিয়া আঘাটত হানলেও বাংলাদেশ একবারের জন্য গোল সম্ভাবনা সৃষ্টি করতে পারেনি। প্রথমার্ধে ২ গোল করার পর দ্বিতীয়ার্ধে আরো ৩ গোল করে উত্তর কোরিয়া ম্যাচ জিতে দুই ম্যাচে ৬ পয়েন্টস নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে। উত্তর কোরিয়ার হয়ে জোড়া গোল করেছেন কিম কিয়ং-ইয়ং। আর একটি করে গোল করেছেন মিয়ং ইউ-ঝং, চায়ে উন-ইয়ং এবং কিম হায়ে-ইয়ং।
মিলি আকতার পোস্টের নিচে অতিমানবীয় কিছু সেইভ না করলে এই ব্যবধান আরও বড় হতে পারত। বিশেষ করে মিলির কথা আলাদা করে বলতেই হয়। চীনের বিপক্ষে আলো ছড়ানো মিলি পোস্টের নিচে আজকেও অসাধারণ কিছু সেইভ করেছেন। পরিসংখ্যান বলছে এই ম্যাচে মিলি ৫ গোল খেয়েছেন, বিপরীতে অন্তত ৫টি গোল সেইভও করেছেন। এ ছাড়া অসংখ্যবার উত্তর কোরিয়ার আক্রমণের সামনে ঢাল হয়ে দলকে বাঁচিয়েছেন তিনি।
সিডনিতে আজ মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগে বাংলাদেশের কোনো অবস্থানই ছিলনা। ঠিকঠাকভাবে বলের নিয়ন্ত্রণই নিতে পারেননি ঋতুপর্ণা-মারিয়ারা। ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার দখলে বল ছিল ৬৫.৩ শতাংশ, আর বাংলাদেশের দখলে বল ছিল ৩৪.৭ শতাংশ। এমনকি পুরো ৯০ মিনিট ধরে শট নেওয়া দূরে থাক, বলার মতো কোনো আক্রমণেই যেতে পারেনি বাংলাদেশের মেয়েরা।
আগের ম্যাচে বাংলাদেশের লড়াকু খেলা প্রতিপক্ষ সহ সবার মন কেড়েছিল। মানুষের প্রত্যাশার মাত্রাও আকাশ ছুঁয়েছিল। কিন্তু মাত্র তিন দিনের ব্যাবধানে বাংলাদেশের মত নবীন উদীয়মান দলের পক্ষে বিশ্বমানের আগ্রাসী একটি দলের বিরুদ্ধে লড়াই করার চ্যালেঞ্জ বিবেচনা করতে হবে। কোরিয়া দল বাংলাদেশের আগের খেলা বিশ্লেষণ করেই কৌশল সাজিয়েছে বুঝতে অসুবিধা হয়নি। শুরু থেকেই দ্রুত গতিতে আক্রমনের পর আক্রমণ সাজিয়ে বাংলাদেশ দলকে নিজেদের এলাকায় বন্দি রেখেছে। আক্রমণের চাপে খেই হারিয়ে ফেলেছে তরুণ দল। এখানেই প্রয়োজন ছিল সাবিনা, সুমাইয়া, কৃষ্ণাদের মত কয়েকজন অভিজ্ঞতায় পোড় খাওয়া সিনিয়র খেলোয়াড়।
আমি কষ্ট পেলেও আদৌ হতাশ হই নি। এমনটা হতেই পারে। বিশ্বসেরা দলও অনেক সময় ছন্দ হারিয়ে ৭-০ গোলে হেরেছে নজির আছে। প্রথম ম্যাচ শেষে যেভাবে বাংলাদেশ দলকে প্রশংসায় প্লাবিত করা হয়েছে। একই ভাবে আজ যেন সমালোচনায় হতাশ করা না হয়।
আজকের ম্যাচের দুঃস্বপ্ন ভুলে এবং ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশ পার্থে অনুষ্ঠিতব্য উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়াক সেই প্রত্যাশা করি।
পরাজয়ের কোন অজুহাত দিবো না। বিশ্বমানের ফুটবল থেকে বাংলাদেশ কতটা পিছিয়ে সেটি আজকের ম্যাচ প্রমান করেছে। বাংলাদেশের মেয়েদের অবশ্যই স্কিল আছে, খেলার আগ্রহ আর কমিমেন্ট আছে। কিন্তু শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খেলার অভিজ্ঞতা নেই বললেই চলে। বাংলাদেশের তরুণ দলটি যত শক্তিশালী প্রপ্তিপক্ষের বিরুদ্ধে খেলবে ততই পরিণত হবে। হতাশ হবার কিছু নেই। এখন বাটলারকে মেয়েদের সাথে বসে কৌশল সাজাতে হবে।