গ্যাস চুরি বন্ধ হলে তা দিয়ে আরও প্রায় ১২শ’ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এডিটরস গিল্ডের গোল টেবিল আলোচনায় তারা বলেন, সিস্টেম লসের নামে চুরির কারণে জ্বালানি দুষ্টচক্রে পড়েছে বাংলাদেশ।
রোজার পর গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ানো উচিত ছিলো উল্লেখ করে তারা বলেন, আগামী ৯ মাসের মধ্যে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে।
শনিবার বেইলি রোডের অগ্নিকাণ্ডে নিহতের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে শুরু হয় এডিটরস গিল্ডের ‘অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ: বিদ্যুৎ-জ্বালানী-দ্রব্যমূল্য’ শীর্ষক গোল টেবিল। যেখানে উঠে আসে বিদ্যুৎসহ জ্বালানীর মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তে জনজীবনে নেতিবাচক প্রভাবের বিষয়টি।
গোল টেবিলের বক্তারা বলেন, গেল একবছর নষ্ট হয়েছে, তাই আগামী এক বছরই হাতে সময় আছে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য।
অর্থনীতিবিদ ড. আব্দুর রাজ্জাকের মতে, সরকারের ৯ মাস থেকে এক বছরের মধ্যে সময় লাগে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে। তার মতে, এরইমধ্যে একবছর সময় নষ্ট হয়েছে।
সানেমের গবেষণা পরিচালক অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা মনে করছেন, রোজার পরেই বিদ্যুতের দাম বাড়ানোটা বেশি যৌক্তিক হতো।
এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক সৈয়দ নুরুল ইসলাম বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ে নীতিনির্ধারকদের জানাশোনা একেবারেই কম না হলে এ ধরনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাশিত না।
জ্বালানীর দুষ্ট চক্রের কারণেই গ্যাস বিদ্যুতের চুরি বা সিস্টেম লস। সেটা না কমিয়ে দাম বাড়ানোর সমালোচনাও করেন বিশ্লেষকরা।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সাবেক সদস্য মকবুল ই ইলাহী চৌধুরী বলেন, চুরি সবার আগে বন্ধ করা উচিত।
বাংলাদেশ পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ হোসেনও মনে করেন গ্যাস চুরি বন্ধের কোনো বিকল্প নেই।
জ্বালানী ও টেকসই উন্নয়ন বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন বলছেন, জ্বালানির প্রাপ্যতার অভাবের কারণেই বেড়েছে বিদ্যুতের দাম।
দি বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের সম্পাদক ইনাম আহমেদ বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয় সবার সাথে সমন্বয় করে কাজ করবে। তাদের বিষয়টি নিয়ে আরও একটু ভাবা উচিত।
দেশে কেনো সমস্যার কথা বললেই সেটাকে খারিজ করার আমলাতান্ত্রিক মানসিকতার কারণ সময়মতো নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া যায় না বলেও মনে করেন তারা।
অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, টাকা পাচার আগে থামাতে হবে।
পাঁচ লাখ শূন্য পদে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগপাঁচ লাখ শূন্য পদে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ
নবায়ণযোগ্য জ্বালানীর ব্যবহার বাড়ানোর নীতি থাকলেও কার্যকর করা হচ্ছে না বলে জানান গোল টেবিল আলোচনার সঞ্চালক ও এডিটরস গিল্ডের সভাপতি মোজাম্মেল বাবু।
তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য যে টুলগুলো ব্যবহার করতে হবে- সেগুলো আগে ঠিক করতে হবে। আমাদের সাধারণ মানুষকে সাপোর্ট দিয়েই এ কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে।