গ্রুপ অফ এইট: ক্যারিবীয় তান্ডবে লণ্ডভণ্ড জিম্বাবুয়ে

মুম্বাই ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে কাল ছিল x গ্রুপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ-জিম্বাবুয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। নিজেদের আদি খুনে ভূমিকায় আবির্ভুত ক্যারিবিয়ান দল টর্নেডো ক্রিকেট খেলে ১০৭ রানে হারিয়ে দিলো জিম্বাবুয়েকে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের সংহারী মূর্তির সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করলো জিম্বাবুয়ে। এমন বিধ্বংসী ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট রূপকথার উপজীব্য।

কাল প্রথম ব্যাটিং করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবারের টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ ২৫৪/৬ করেছিল দ্রুপদী ছন্দে। সিমরন হেটমেয়ার (৮৫), রোভম্যান পাওয়েল (৫৯), শেরফেন রাদারফোর্ড (৩১*), রোমারিও শেফার্ড (২০) সবার অবদান ছিল এই রণযজ্ঞে। রানের হিমালয় শৃঙ্গ পেরিয়ে ম্যাচ জয়ের সামর্থ ছিল না জিম্বাবুয়ের।

গুডাকেশ মতি (৪/২৮) আর আকিল হোসেনের (৩/২৮) স্পিন মায়াজালে ধরা পড়ে ১৭.৪ ওভারে ১৪৭ রানে শেষ হয় জিম্বাবুয়ে ইনিংস। ১০৭ রানের বিশাল ব্যাবধানে জয়ী ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিশ্বকাপ সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়।

গ্রুপের আগের ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা এমনি বিশাল জয়ে টুর্নামেন্ট ফেভারিট ভারতকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল। আপাত দৃষ্টিতে গ্রুপ থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর দক্ষিণ আফ্রিকার উত্তরণের সমীকরণ সরল হয়ে গেছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ভারত ম্যাচে থাকবে সবার দৃষ্টি। হবে ভারতের বাঁচা মরার লড়াই।

সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২৫৪/৬ (সিমরন হেটমেয়ার ৮৫, রোভম্যান পাওয়েল ৫৯, শেরফেন রাদারফোর্ড ৩১*, রোমারিও শেফার্ড ২০। ব্লেসিং মুজারামবানি ২/৪২, রিচার্ড এনগ্রাভা ২/৪৭)

জিম্বাবুয়ে ১৪৭ অল আউট (ব্র্যাড ইভান্স ৪৩, ডিওন মায়ের্স ২৮, সিকান্দার রাজা ২৭। গুডাকেস মতি ৪/২৮, আকিল হোসেন ৩/২৮, মাথেউ ফোর্ডে ২/২৭)

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১০৭ রানে জয়ী। ম্যাচের সেরা শিমরন হেটমায়ার।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ বাটিংয়ের এবারের বিশেষত্ব হলো টপ অর্ডারে শাই হোপ অথবা  শিমরন হেটমায়ার বড় ইনিংস খেলে এক প্রান্ত ধরে রাখছে। কোন প্রারম্ভিক চাপে ব্যাটিং ভেঙে পড়ছে না। মিডল অর্ডার বা লেট্ অর্ডারে পাওয়েল, রাদারফোর্ড, শেফার্ড দ্রুত ৩০-৩৫ রান জুড়ে দিচ্ছে। কাল ব্যতিক্রম হয়নি।

শিমরণ হেটমায়ার খেলেছে ৩৪ বলে ৭ চার আর ৭ ছক্কায় সাজানো ৮৫ রানের ম্যাচ জয়ী ইনিংস, সঙ্গী ছিল ৩৫ বলে ৪ চার আর ৪ ছক্কা সমন্বয়ে উপহার দেয়া রোভমান পাওয়েলের ৫৯ রান। তৃতীয় জুটিতে ওদের যোগ করা ১২২ রান বড় ইনিংসের ভিত্তি গড়ে দিয়েছিল। গুরুত্বপূর্ণ অবধান ছিল শেরফারিন রাদারফোর্ডের ১৩ বলে ৩১* আর রোমারিও শেফার্ডের ১০ বলে ২১ রানের। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিশাল ২৫৬/৬ ম্যাচ থেকে  জিম্বাবুয়েকে ছিটকে দিয়েছিল।

জিম্বাবুয়ে ইনিংসে উল্লেখ করার মত তেমন কিছু ছিল না। লেট মিডল অর্ডারে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েছিল ব্রাড ইভান্স (৪৩)। ডিওন মায়ের্স ২৮ আর সিকান্দার রাজা ২৭ উইকেটে স্থিতু হয়েও ইনিংস বড় করতে পারেনি। বিশাল স্কোর প্রতিরক্ষায় স্পিনার যুগল গুদাকেশ মতি ৪/২৮ আর আকিল হোসেন ৩/২৮ প্রলয় নাচনে বেঁধে ফেলেছে গ্রূপ পর্যায়ে অস্ট্রেলিয়া আর শ্রীলংকাকে হারানো জিম্বাবুয়ে দলকে। ১৪৭ রানে গুটিয়ে যাওয়া জিম্বাবুয়ে হেরে গেছে ১০২ রানে। টুর্নামেন্ট সেই সকাল থেকেই উজ্জ্বল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ক্রিকেট রূপ, রস, বর্ণ,গন্ধ সুষমায় ফিরে এসেছে। দেখতে হবে এই ধারা দলকে শিরোপার দুয়ার খুলে দিতে পারে কিনা?

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

5 × 2 =