
বর্তমানে ক্রিকেট বিশ্বে সকল ফরম্যাটে শীর্ষ স্থানীয় দল কিন্তু দেশের মাটিতেও এখন অজেয় নয়। কালকের বিশাল পরাজয়ে সেটি আবার প্রমাণ হলো। আমি এটিকে আপসেট বলবো না। খেলার গতিধারায় এটি ছিল স্বাভাবিক পরিণতি।
যোগ্য দল দক্ষিণ আফ্রিকা ভালো খেলেই কাল ভারতের আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত গ্রূপ অফ এইট X গ্রূপের প্রথম খেলায় টুর্নামেন্ট ফেভারিট ভারতকে ৭৬ রানের বিশাল ব্যাবধানে পরাজিত করেছে। ম্যাচের এই ফলাফল ভারতের কোটি ক্রিকেট পূজারীদের জন্য আশা ভঙের কারণ হলেও যোগ্য দল হিসাবে ভারতকে কাল বিদ্ধস্ত করেছে প্রোটিয়া বাহিনী।
প্রথমে ব্যাটিং করে একটু পেস সহায়ক উইকেটে প্রতি মিডল অর্ডারে ডেভিড মিলার (৬৪), দেওয়াইড ব্রেভিস (৪৫)। ত্রিস্তান এস্ট্যাবের (৪৪) দৃঢ়তাপূর্ণ বাটিংয়ের ১৮৭/৭ লড়াকু স্কোর করে। জবাবে ভারতের শক্তিশালী অথচ ভঙ্গুর ব্যাটিং মার্কো জেনসেন (৪/২২) আর কেশব মহারাজের (৩/২৪), করবিন বচ (২/১২) ত্রিমুখী আক্রমণে ১১১ রানে গুটিয়ে যায়।
৭৬ রানের বিশাল ব্যাবধানে জয়ী দক্ষিণ আফ্রিকা গ্ৰুপ থেকে সেমি ফাইনালে উত্তীর্ণ হবার সম্ভাবনা সমুজ্জ্বল করে। ভারতকে নিজেদের আঙ্গিনায় সফল হতে হলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে বিশাল ব্যাবধানে জয়ী হতে হবে। কাজটি খুব সহজ হবে মনে হয় না।
অনেকের বিশ্লেষণে ভারতকে এবারের টুর্নামেন্টে অজেয় মনে করার যথেষ্ট কারণ আছে। দলে অনেক ইমপ্যাক্ট খেলোয়াড় আছে তবে গ্রুপ পর্যায়ের খেলাগুলোতে মানসম্মত বোলিংয়ে ভারত ব্যাটসম্যানদের দুর্বলতা ফুটে উঠেছিল। কয়েকজন বিশ্লেষক ভারত গ্রুপ অফ এইট থেকে ঝরে যাবে এমন পূর্বাভাস দিয়েছিল। বড় ব্যাবধানে হেরে ভারতের সম্ভাবনা অনেকটা জটিল হয়ে গেলেও অসম্ভব না। তবে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারানো সহজ হবে না। আর লড়াই করে উঠে আশা জিম্বাবুয়ে সহজে হাল ছাড়বে না।
সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড
দক্ষিণ আফ্রিকা ১৮৭/৭ (ডেভিড মিলার ৬৩, দেওয়াল্ড ব্রেভিস ৪৫, ত্রিস্তান স্টাব ৪৪। জাসপ্রিত বুমরা ৩/১৫, আরশ দীপ সিংহ ২/২৮)
ভারত ১১১ অল আউট ( সিবাম দুবে ৪২, সূর্যকুমার যাদব ১৮, হার্দিক পান্ডিয়া ১৮, মার্কো জেনসেন ৪/২২. কেশব মহারাজ ৩/ ২৪, করবিন বচ ২/১২)
দক্ষিণ আফ্রিকা ৭৬ রানে জয়ী। ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়: ডেভিড মিলার
টস জয়ী দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথমে ব্যাটিং করে শুরুতে বিপদে পড়েছিল। ভালো বোলিং করে বুমরা আর আরশদীপ সিংহ ৩.৬ ওভারেই এইডেন মারকরাম (৪), কুইন্টন ডি কক ৬, রায়ান রিকেলটন (৭) দলীয় ২০ রানের মাঝেই ফিরিয়ে দিয়েছিল। দেয়ালে পিঠ রেখে সংগ্রাম করে দলকে উদ্ধার করে ডেভিড মিলার-দেওয়াল্ড ব্রেভিস জুটি। ওদের যোগাযোগে চতুর্থ উইকেট জুটিতে যোগ হয় ৯৭ রান।
ডেভিড মিলারের ৩৫ বলে করা ৬৩ রানে ছিল ৭ চার ৩ ছক্কা। ব্রেভিস ২৯ বল খেলে ৩ চার, ৩ ছক্কায় করে ৪৫। ভারতের স্পিনাররা প্রোটিয়া মিডল অর্ডারকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেনি। শেষ দিকে ত্রিস্তান স্তাব ২৪ বলে অপরাজিত ৪৪ রান করে দলের স্কোরে যুদ্ধ করার রসদ যোগায়। প্রোটিয়াদের চোকার ট্যাগ করা হতো। সেটি হয়ত এখন ইতিহাস। বোলিং সহায়ক উইকেটে ১৮৭/৭ নিঃসন্দেহে ভালো স্কোর ছিল যা ইনিংসের শুরুতে কিন্তু চিন্তা করাও কঠিন ছিল।
ভারতের সূচনাও কিন্তু মারকরাম, জেনসেন এলোমেলো করে দেয়। ঈশান কিষান (০), অভিষেক শর্মা (১৫), তিলক ভার্মা (১) রানে ফিরে গেলে ভারত দারুন চাপে পড়ে। সূর্যকুমার যাদব (১৮), ওয়াশিংটন সুন্দর ( ১১) কারো পক্ষেই চাপের মুখে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হয়নি। জানিনা হার্দিক পান্ডিয়াকে কেন ৭ নম্বরে ব্যাটিং করায় গৌতম গম্ভীর। এই ব্যাটিং লাইন আপে পান্ডিয়াকে ৪ নম্বরে ব্যাটিং করানো উচিত।
যাহোক সিবাম দুবের ৪২ দলকে ১১১ রানে গুটিয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে পারেনি। মার্কো জেনসেন, কেশভ মহারাজ আর করবিন বচ ত্রিমুখী আক্রমণ সামাল দিতে পারেনি। ৭৬ রানের বিশাল ব্যাবধানে পরাজিত ভারতের জন্য এখন জটিল সমস্যার সৃষ্টি করলো।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ কিন্তু এখন আগ্রাসী ক্রিকেট খেলছে। ভালো খেলেই গ্রুপ অফ এইটে এসেছে জিম্বাবুয়ে। ভারতের প্রতি আইসিসির কথিত পক্ষপাত এমনিতেই ক্রিকেট বিশ্বে ভাইরাল হয়ে আছে। তবুও ক্রিকেট জনপ্রিয়তার খাতিরে ভারত লাইফ লাইন নিয়ে টিকে থাকুক অনেকেই চাইবে। আর যদি ভারত ছিটকে পড়ে তাহলে ভারতের ক্রিকেট কৌশল দারুন সমালোচনার মুখে পড়বে।
দক্ষিণ আফ্রিকার অধিকাংশ খেলোয়াড় ভারতে আইপিএল খেলে। সেই অভিজ্ঞতা কালকের ম্যাচ জয়ে অনেকটাই সহায়তা করেছে। ভারত দলের ব্যাটিং দুর্বলতা উন্মুক্ত হয়ে গেছে।