জয়ের সুখস্মৃতি নিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিলো নেপাল

ক্রিকেটে দক্ষিণ এশিয়ার উদীয়মান দেশ নেপাল নিজেদের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে সহজেই পরাজিত করে মাথা উঁচু করে বিদায় নিলো। স্মরণে আছে শক্তিশালী ইংলান্ডকেও কাঁপিয়ে দিয়েছিল নেপাল। ভাগ্য সহায় থাকলে জয়ের দুয়ার থেকে ফিরতে হতো না। কাল স্কটল্যান্ড প্রথম ব্যাটিং করে সংগ্রহ করেছিল ১৭০/৭। ১৯.২ ওভারে ১৭১/৩ করে ৭ উইকেটের বিশাল ব্যাবধানে জয়ী হয়েছে নেপাল। রাজনীতির দূষণে দূষিত হয়ে বাংলাদেশ বিশ্বকাপ বিসর্জন দেয়ায় টুর্নামেন্টে সুযোগ পাওয়া স্কটল্যান্ড প্রস্তুতির খুব একটা সুযোগ পায়নি। তবুও গ্রূপে প্রান্তিক তিন দল ইতালি, নেপাল, স্কটল্যান্ডকে  গ্রূপ সেরা ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইংল্যান্ডের মোকাবেলায় অনুজ্জ্বল মনে হয়নি।

স্কটল্যান্ড ১৭০/৭ (মাইকেল জোন্স ৭১, জর্জ মুনসে ২৭, ব্রেন্ডন মাকুলাম ২৫। সমপাল কামি ৩/২৫ ,   নন্দন যাদব ২/৩৪ )

নেপাল ১৭১/৩ (দিপেন্দ্র সিংহ আইরি ৫০*, কুশাল ভুর্টেল ৪৩, আসিফ শেখ ৩৩। মাইকেল লেস্ক ৩/৩০)

নেপাল ৭ উইকেটে জয়ী। ম্যাচের সেরা: দিপেন্দ্রা সিংহ আইরি।

মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত কালকের খেলায় প্রথম ব্যাটিং করে স্কটল্যান্ড প্রথম উইকেট জুটিতে জর্জ মুনসে (২৭) আর মাইকেল জোনসের (৭১) যোগাযোগে ১০ ওভারে ৮০ রান তুলে শুভ সূচনা করেছিল। কিন্তু এর পর সোমপাল কামি (৩/২৫) আর নন্দন যাদবের (২/৩৪) দুর্দান্ত বোলিংয়ের মোকাবেলায় নিয়মিত উইকেট হারানো স্কটল্যান্ড ইনিংস ১৭০/৭ শেষ হয়। একমাত্র ব্রেন্ডন মাকমুলেন (২৫) ছাড়া আর কারো কোন অবদান না থাকায় সুযোগ থাকা সত্ত্বেও স্কটিশ ইনিংস ২০০ পেরুয়নি। ইনিংসের উজ্জ্বল অংশ ছিল জোনসের ৮ চার ৩ ছক্কায় সাজানো ৪৫ বলে ৭১ রান।

নেপালের জবাবে প্রথম উইকেট জুটিতে কুশাল বুৰ্টেল (৪৩) আর আসিফ শেখ (৩৩) ৭৪ রান তুলে জয়ের সড়কে নিয়ে যায় দলকে। গোটা টুর্নামেন্ট জুড়ে ভালো খেলা দিপেন্দ্র সিং আইরি (৫০*) গুলশান  ঝাঁ (২৪*) অজেয় চতুর্থ উইকেট জুটিতে ৭৩ রান যোগ করে দলের ৭ উইকেটে সহজ জয় নিশ্চিত করেছে। টুর্নামেন্ট জুড়ে নেপাল দলের উজ্জ্বল নৈপুণ্য অনেকের মন কেড়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকা কিংবদন্তি ডেল স্টেইন বিনা পারিশ্রমিকে নেপাল দলকে প্রশিক্ষণ দেয়ার প্রস্তাব করেছে। নিজেদের ক্রিকেট অবকাঠামো উন্নত করার ধারায় এগিয়ে গেলে অচিরেই হিমালয় বধূ নেপাল বিশ্ব ক্রিকেটে নিজেদের অবস্থান আরো উজ্জ্বল করবে।

বাংলাদেশ টুর্নামেন্ট না খেলে কি অর্জন করলো দায়িত্বশীল কারো কাছ থেকে জানতে ইচ্ছা হয়। আর খেলেই যে নেপাল, ইতালির মত প্রান্তিক দলগুলোর সাথে বিপর্যস্ত হতো না ভাবার ভরসা পাচ্ছি না।

আয়ারল্যান্ড জিম্বায়ুয়ের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য  ম্যাচটি বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হওয়ায় কপাল পুড়ে আমাদের অস্ট্রেলিয়ার। গ্রূপ থেকে শ্রীলংকার সাথী হয়ে গ্রূপ এইটে উত্তীর্ণ হয় জিম্বাবুয়ে। অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান ৫ দলের গ্রুপে তৃতীয়। কেন অস্ট্রেলিয়া ধোপে টিকলো না সেটি নিয়ে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার জবাবদিহি করা জরুরি।গ্রূপ পর্যায় থেকে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিদায়ে টুর্নামেন্ট কিছুটা জৌলুশ হারালো নিঃসন্দেহে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

two + 6 =