টি২০ বিশ্বকাপ কে জিতবে?

নানা নাটকীয় ঘটনা আর অম্ল মধুর স্মৃতি উপহার দিয়ে ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম সংস্করণ টি২০ বিশ্বকাপের আরো একটি আয়োজন এখন ক্রান্তি লগ্নে। ভারত এবং শ্রীলংকায় হাইব্রিড পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত ২০ দল চার গ্রুপে বিভক্ত হয়ে প্রাথমিক রাউন্ড খেলার পর প্রতি গ্রুপ থেকে শীর্ষে থাকা দুই করে ৮ টি দল X আর Y দুটি গ্ৰুপে খেলে ৪ দল  দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড, ভারত এবং নিউ জিল্যান্ড এখন সেমিফাইনালে। দেখুন আইসিসি টি২০  সেরা ৫ দলের ৪টি পেয়েছে সেমি ফাইনালের টিকেট। প্রথম রাউন্ড থেকে ছিটকে গেছে নানা কারণে সেরা খেলোয়াড়দের ছাড়া খেলতে আসা ৩ নম্বরে থাকা অস্ট্রেলিয়া। সেই বিবেচনায় যদি বলি সেরা দলগুলোই আছে চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় তাহলে বাড়িয়ে বলা হবে না। এই টুর্নামেন্ট শেষে অবশ্যই ক্রম পুনঃবিন্যাস হবে।

টুর্নামেন্ট শুরুতেই একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা নিয়ে বিতর্কের কারণে বিশ্বক্রিকেটের অন্যতম জনপ্রিয় উদীয়মান দেশ বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়া হয়। বাংলাদেশের বিশ্বমানের পেস বোলার মুস্তাফিজুর রহমানকে ভারতের ঘরোয়া টুর্নামেন্ট আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্স দল থেকে অন্যায় ভাবে বাদ দেওয়া থেকে ঘটনার সূত্রপাত। বিষয়টিকে অজুহাত ধরে তৎকালীন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকা ভারতবিরোধী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অশুভ প্রভাবে বিসিবি ভুল কৌশলে ভারতে খেলতে রাজি না হওয়ায় নানা আলোচনার পর আইসিসি বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে খেলার সুযোগ দেয়। ঘরের পাশের দেশে বিশ্বকাপ খেলা থেকে বঞ্চিত হয় পুরোপুরি প্রস্তুত বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।

বাংলাদেশ দলকে নিয়ে যখন আলোচনা চলছে তখন বাংলাদেশের প্রতি সহানুভূতি দেখিয়ে পাকিস্তান হঠাৎ ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দিয়ে বসে। বেশ কিছু দিন ধরেই আইসিসির একচোখা মনোভাবের কারণে ভারত বাড়তি সুবিধা পেয়ে আসছে বৈষয়িক টুর্নামেন্টগুলোতে। রাজনীতি ক্রিকেটকে কলুষিত করছে। যাহোক শেষ পর্যন্ত আইসিসির উদ্যোগে আইসিসি, পিসিবি আর বিসিবির আলোচনায় ভারত পাকিস্তান ব্লকবাস্টার ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়।

এবারের টুর্নামেন্টের আকর্ষণ ছিল আইসিসির সহযোগী কয়েকটি দেশ নবাগত ইটালী, নেপাল, যুক্তরাষ্ট্র, নেদারল্যান্ড, স্কটল্যান্ডসের বড় দলগুলোর সঙ্গে চোখে চোখ রেখে লড়াই। এই ধারা বজায় থাকলে অদূর ভবিষ্যতে ক্রিকেটের বিশ্বায়ন আরো গতি পাবে সন্দেহ নেই। এবারে একসময়ের সকল ফরম্যাটে অজেয় দল ওয়েস্ট ইন্ডিজ দুর্দান্ত খেলেছে। শেষ ম্যাচে ভারতের বিরুদ্ধে পরাজয়ের আগ পর্যন্ত অনেকের ধারণা ছিল ওরা হয়ত সেমি ফাইনাল খেলবে।

এবারের টুর্নামেন্ট ভালো খেলে অপেক্ষাকৃত খর্ব শক্তির দল জিম্বাবুয়ে সবার নজর কেড়েছে। গ্রুপ পর্যায়ে টুর্নামেন্ট ফেভারিট অস্ট্রেলিয়া এবং অন্যতম স্বাগতিক দেশ শ্রীলংকাকে পরাজিত করে গ্রুপ অফ এইটে উঠেছে। কিন্তু সেখানে দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত, ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে শক্তি সামর্থের বাবধানের কারণে পেরে উঠতে পারেনি।

পাকিস্তানকে অনেকেই এই সময়ে টি২০ ফরম্যাটের অন্যতম সেরা দল ভাবলেও দলে বিশ্বমানের খেলোয়াড় হাতে গোনা দুই একজন। দুই বরেণ্য ক্রিকেটার বাবর আজম ও শাহীন আফ্রিদি এখন পড়তি ফর্মে। পাকিস্তান সেমি ফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হওয়ায় আমি বিস্মিত হইনি।

ভারত অবশ্যই এবারের টুর্নামেন্ট জয়ের হট ফেভারিট দল। দলে আছে ম্যাচ জয়ের জন্য ৫-৬ জন ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার। ব্যাটিং গভীরতা আর ভারসাম্য বোলিং আক্রমণ সত্ত্বেও ছন্দ হারিয়ে ভারত দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে হেরে নিজেদের অবস্থান অনিশ্চিত করে ফেলেছিল। সৌভাগ্য ভারতের ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে যাওয়ায় লাইফ লাইন পায়। নিজেদের গুছিয়ে নিয়ে ভারত শেষ দুই খেলায় জিম্বাবুয়ে এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে এখন সেমি ফাইনালে।

টুর্নামেন্টের একমাত্র অপরাজিত দল দক্ষিণ আফ্রিকা তুখোড় ক্রিকেট খেলছে। দলের অধিকাংশ খেলোয়াড়ের ভারতে আইপিএল খেলার অভিজ্ঞতা থাকা দলের জন্য বাড়তি সুবিধা দিয়েছে। বিশেষত ভারত দলের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার বিশাল ব্যাবধানে জয় ছিল টুর্নামেন্টের বিশেষ আকর্ষণ।দক্ষিণ আফ্রিকা এখন বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়ন দল। আন্তর্জাতিক আসরে ওদের আর এখন  চোকার বলে না।

ইংল্যান্ড অনেক প্রত্যাশা নিয়ে বিশ্বকাপে আসলেও ওদের খেলায় উত্থান-পতন ছিল। দক্ষিণ এশিয়ার উদীয়মান দেশ নেপাল প্রায় হারিয়ে দিয়েছিল ওদের। বোলিং-ফিল্ডিং ভালো হলেও ব্যাটিং মাঝে মাঝে ভেঙে পড়েছে। সেমি ফাইনালে ওদের এখন মোকাবিলা করতে হবে ভারতকে। মনে হয় না ভারতের সামনে আদৌ বাধা হয়ে দাঁড়াবে ইংল্যান্ড।

বাকি থাকলো নিউ জিল্যান্ড। ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর দক্ষিণ গোলার্ধের প্রান্তিক সীমার দেশটির ক্রিকেট সব সময় আকর্ষণীয়। তবে এবারের সেমি ফাইনালে ওদের খেলতে হবে শক্তিশালী দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে। ম্যাচটিতে সেয়ানে সেয়ানে লড়াই হলেও আমার বাজির ঘোড়া দক্ষিণ আফ্রিকা।

আমি মনে করি বর্তমান অবস্থায় ফাইনাল খেলার সমূহ সম্ভাবনা ভারত এবং দক্ষিণ আফ্রিকার। নিজেদের দেশে বিপুল সমর্থক গোষ্ঠী আর আগ্রাসী মিডিয়ার চাপ নিয়ে খেলতে হবে ভারতকে। যে দল নির্দিষ্ট দিনে সঠিক কাজগুলো সঠিকভাবে করতে পারবে ওরাই জিতবে বিশ্বকাপ। আমি বলবো দক্ষিণ আফ্রিকা।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

nine + five =