টি২০ বিশ্বকাপ সমীক্ষা: মৃত্যুকূপে প্রথম শিকার আফগানিস্তান

চেন্নাই ঘূর্ণি উইকেটে গ্রূপ অফ ডেথের  আফগানিস্তান-নিউজিল্যান্ড  ম্যাচটি ছিল টুর্নামেন্টের এযাবৎ খেলা সেরা ম্যাচ। ঘূর্ণি উইকেটে প্রথম ব্যাটিং করে আফগানিস্তান ১৮২/৬ প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক স্কোর গড়ে তুলেছিল। তিন বিশ্বমানের স্পিনার নিয়ে আফগানিস্তান ম্যাচ জয়ের স্বপ্ন দেখতেই পারতো। নিউজিল্যান্ড শুরুতেই ১৪ রানে দুই উইকেট হারিয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল। সেখান থেকে দেয়ালে পিঠ রেখে পরিকল্পিত ব্যাটিং করে কিউইজরা ১৭.৫ ওভারে ১৮৩/৫ করে ম্যাচ জিতে নিয়ে কঠিন গ্রূপে সুবিধাজনক অবস্থানে চলে যায়। গ্রূপের ওপর শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে খেলার আগে এই ম্যাচ জয় নিউজিল্যান্ডকে স্বস্তি দিবে সন্দেহ নেই। অন্যদিকে গ্রূপ সীমা পেরিয়ে পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়া আফগানিস্তানের জন্য কিছুটা কঠিন হয়ে গেলো।

আফগানিস্তান: ১৮২/৬ (গুলবাদিন নায়েব ৬৩, সাদিকুল্লাহ অতল ২৯, রামানুল্লাহ গুরবাজ ২৭, লকি ফার্গুসন ২/৪০)

নিউজিল্যান্ড: ১৮৩/৫ : ১৭.৫ ওভার  (টিম স্নেইফার্ট ৬৫,গ্লেন ফিলিপ্স ৪২, মার্ক চাপসম্যান ২৮, ড্যারিল মিচেল ২৫* , মুজিব উর রহমান ২/৩১)

নিউজিল্যান্ড ৫ উইকেটে জয়ী

টস জয় করে আফগানিস্তান প্রথম ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিলে রামানুল্লাহ গুরবাজ (২৭)  এবং ইব্রাহিম জাদরান (১০) সতর্ক সূচনা করেছিল। ফার্গুসন শুরুতেই দুই মারকুটে ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে দিয়ে আফগানিস্তানকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেয়। সেখান থেকে গুলবাদিন নায়েব (৬৩) এবং সাদিকুল্লাহ অতল (২৯) ভালো ব্যাটিং করে আফগানিস্তানকে সুবিধাজনক স্থানে নিয়ে যায়। ১৪.৩ ওভারে ৩/১৪৩ অবস্থানে থেকে আফগানিস্তানের ২০০+ রান করা সম্ভব ছিল। কিন্তু একমাত্র গুলবাদিন নায়েব (৩৫ বলে ৩ চার, ৪ ছক্কায় ৬৩) ছাড়া আর কেউ ভালো ব্যাটিং করতে না পারায় আফগানিস্তানের স্কোর ১৮২/৬ সীমিত থাকে।

নিউজিল্যান্ড দ্বিতীয় ওভারে মুজিবের বলে পর পর ফিন আলেন (১), রাচীন রাভিন্দ্রাকে (০) হারিয়ে হোঁচট খায়। তৃতীয় উইকেট জুটিতে টিম স্নেইফার্ট (৬৫), গ্লেন ফিলিপস (৪২) আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে তৃতীয় উইকেট জুটিতে ৭৪ রান যোগ করে। একসময় গ্লেন ফিলিপ্স, স্নেইফার্ট বিদায় নিলে ম্যাচ জমে উঠে। মার্ক চ্যাপম্যান (২৮), ড্যারিল মিচেল (২৫) আফগান স্পিননার্সদের সতর্কতার সঙ্গে খেলে কিউইজদের ১৭.৫ ওভারে জয়ের বন্দরে নিয়ে যায়। ১৭.৫ ওভারে ১৮৩/৫ করে ৫ উইকেটে ম্যাচ জয় করে। টুর্নামেন্টের কিছু দিন আগে নিউজিলান্ডের ভারত সফরের অভিজ্ঞতা কিউইজদের কাজে লেগেছে। মৃত্যুকূপে এই জয় বিজয়ী দলের জন্য আশীর্বাদ হয়েছে বলতেই হবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

12 − 3 =