টি২০ বিশ্বকাপ ২০২৬ পরিক্রমা

নানা স্মৃতি পেছনে ফেলে ভারত ও শ্রীলংকায় অনুষ্ঠানরত আইসিসি টি২০ বিশ্বকাপ ক্রিকেট এখন ক্রান্তিলগ্নে পৌঁছেছে। ২০ দল ৫ গ্রূপে বিভক্ত হয়ে প্রাথমিক রাউন্ডে অংশ নিয়েছিল। প্রতিটি গ্রূপের ২ শীর্ষদল উত্তীর্ণ হয়েছে গ্রুপ অফ এইটে।  পাকিস্তান ভারতের রাজনৈতিক বৈরিতার কারণে ভারত বা পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত যে কোন আইসিসি টুর্নামেন্ট এখন হাইব্রিড পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কারণে আইসিসি গ্রুপ অফ এইটের সূচি পূর্ব নির্ধারিত  করেছিল। সেই অনুযায়ী এখন সূচি হলো।

X গ্রূপ: ভারত, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে।

y গ্রূপ: পাকিস্তান, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, শ্রীলংকা।

x গ্রূপ খেলবে ভারতে আর y গ্রূপের খেলাগুলো হবে শ্রীলংকায়।

প্রথম রাউন্ডের খেলা গুলো ফিরে দেখা

গ্রুপপ এ: ভারত, পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র, নেদারল্যান্ডস, নামিবিয়া

যেমনটি ভাবা হয়েছিল আইসিসির শীর্ষে থাকা ভারত চার ম্যাচের চারটি জিতে পরের রাউন্ডে উন্নীত হয়েছে। টুর্নামেন্টের প্রাক্কালে বাংলাদেশ তাদের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় মুস্তাফিজুর রহমানকে নোংরা রাজনীতির  বলী করে বাদ দেয়ার প্রতিবাদে অপর্যাপ্ত নিরাপত্তার অজুহাত তুলে বিশ্বকাপ বয়কট করে। বাংলাদেশের অনুরোধ অনুযায়ী আইসিসি তাদের খেলাগুলো শ্রীলংকায় নিতে সম্মত হয়নি। পাকিস্তান বাংলাদেশের প্রতি আইসির আচরণ পক্ষপাতদুষ্ট বিবেচনা করে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচটি বয়কট করার ঘোষণা দিয়েছিল।

সবাই জানে বিশ্বক্রিকেটে দুই জনপ্রিয় দলের মুখোমুখি লড়াই ক্রিকেট বিশ্বে আলোড়ন তোলে। যেকোন টুর্নামেন্টের প্রাণ ভোমরা এই মেগা খেলাটি। আইসিসি বাণিজ্যিক স্বার্থে বিষয়টি নিস্পত্তি করে পিসিবি এবং বিসিবির সঙ্গে আলোচনা করে। কিন্তু কাকতলীয় বিষয় হলো পাকিস্তান ভারত ম্যাচটি মাঠে ভারতের একচেটিয়া দাপুটে জয়ে শেষ হয়। ভারতের বিরুদ্ধে বরং যা কিছু প্রতিরোধ সেটি করেছে যুক্তরাষ্ট্র এবং নেদারল্যান্ডস।

এমনিতে ভারতের বর্তমান দলে ৫-৬ জন ইম্প্যাক্ট ব্যাটসম্যান আছে যারা যেকোন পরিস্থিতিতে ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিতে পারে। তাই গ্রূপের ৪ ম্যাচের ৩টিতে টপ অর্ডারের তুখোড় ব্যাটসম্যান অভিষেক শর্মা ০ রানে আউট হলেও কখনো ঈশান কিশান, কখনো সূর্য কুমার যাদব কখনোবা  ডুবে ঝোড়ো ইনিংস খেলে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে। আর পেস বলেন বা স্পিন ভারতের আক্রমণ সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ থাকায় স্বাভাবিক ভাবেই ভারত পৌঁছে গেছে রাউন্ড অফ এইটে।

পাকিস্তানকে কিন্তু ভারতের সামনে অপ্রস্তুত আর কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত মনে হয়েছে। এবারের দলের পেস বোলিং খুবই সাদা মাটা। আর ব্যাটিং অনেকটাই টপ অর্ডার নির্ভর। শাহীন আফ্রিদি আর বাবর আজম অনেকটাই দলের বোঝা। পাকিস্তান অনেকটা খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে শেষ ম্যাচে বিশাল ব্যাবধানে নামিবিয়াকে হারিয়ে প্রথম রাউন্ডের গন্ডি পেরিয়েছে। টুর্নামেন্টে যুক্তরাষ্ট্রকে  চেয়ে উজ্জ্বল মনে হয়েছে। ভালো খেলেছে নেদারল্যান্ডস।

গ্রুপ বি: গ্রুপ বি তে স্বাগতিক শ্রীলংকার সঙ্গে ছিল টুর্নামেন্টে অন্যতম ফেভারিট বিবেচিত অস্ট্রেলিয়া, জিম্বাবুয়ে, আয়ারল্যান্ড এবং ওমান। এই গ্রুপে হয়েছে অস্ট্রেলিয়া নামের ক্রিকেট নক্ষত্রের পতন। সকল ফরম্যাটে বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা দল জিম্বাবুয়ে এবং শ্রীলংকার কাছে হেরে গ্রুপ পর্যায় থেকে বিদায় নিয়েছে। শ্রীলংকা নিজেদের মাঠে দাপুটে জয় দিয়ে পৌঁছেছে দ্বিতীয় রাউন্ডে সঙ্গী জিম্বাবুয়ে ভালো খেলেই অস্ট্রেলিয়াকে পিছনে ফেলে পৌঁছে গাছে গ্রূপ অফ এইটে। টুর্নামেন্টের প্রান্তিক দল আয়ারল্যান্ড, ওমান খুব একটা বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি শীর্ষ দলগুলোর জন্য।

গ্রুপ সি: ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইংল্যান্ড, ইতালি, নেপাল, বাংলাদেশ নিয়ে করা হয়েছিল গ্রুপটি। বাংলাদেশ না খেলায় শেষ মুহূর্তে নেয়া হয়  স্কটল্যান্ডকে। এই গ্রূপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ আদি রূপে আবির্ভুত হয়ে হুঙ্কার দিয়ে সবার আগে পৌঁছে যায় দ্বিতীয় রাউন্ডে। সবাই জানে ওয়েস্ট ইন্ডিজ একসময়ের বিশ্বত্রাস দল। ২ বার বিশ্বকাপ আর ২ বার টি২০ বিশ্বকাপ জেতা দলকে এবার কিন্তু দারুন ক্ষুধার্থ মনে হচ্ছে। তবে গ্রূপ পর্যায় পেরুতে ইংল্যান্ডকে ঘাম ঝরাতে হয়েছে। নেপাল , ইতালি এমনকি স্কটল্যান্ড টুর্নামেন্টে দারুন ক্রিকেট উপহার দিয়েছে। নেপাল প্রায় হারিয়েই দিয়েছিল ইংল্যান্ডকে। আর প্রথমবারের মত বিশ্বকাপ খেলা ফুটবলের দেশ ইতালী দুর্দান্ত ক্রিকেট  খেলেছে।

গ্রুপ ডি: সাউথ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড, আফগানিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা নিয়ে গঠিত গ্রুপটি ছিল মৃত্যুকূপ। বিশেষত প্রথম তিনটি দল ছিল সম শক্তির। যুক্তরাষ্ট্র প্রতিটি দলের সঙ্গে চোখে চোখ রেখে লড়াই করেছে। হাড্ডাহাডি লড়াইয়ের দক্ষিণ আফ্রিকা-আফগানিস্তান ম্যাচটি ছিল শুধু এবারের টুর্নামেন্ট না টি২০ বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা ম্যাচ। মূল সময়ে টাই হওয়া ম্যাচটি দারুন উত্তাপ ছড়িয়ে দ্বিতীয় সুপার ওভারে জয় পরাজয় নির্ধারিত হয়। দুর্ভাগ্য আফগানিস্তানের ভালো খেলেও দ্বিতীয় রাউন্ডে যেতে পারলো না। দক্ষিণ আফ্রিকা আর নিউজিল্যান্ড পেয়েছে দ্বিতীয় রাউন্ডে উত্তরণ।

চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রতিটি ম্যাচ হবে নক আউটের মত। ভারত অবশই টুর্নামেন্ট জয়ের জন্য সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ দল। তবে আমি মনে করি শুরু থেকেই দুর্দান্ত খেলতে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজ নিজেদের ধরে রাখলে শেষ হাসি হাসতেও পারে। এর বাইরে সম্ভাবনা আছে শ্রীলংকা এবংপাকিস্তানের। যে দল জিতুক ভালো লেগেছে নেপাল, ইতালি, যুক্তরাষ্ট্র, নেদারল্যান্ডস দলের উপভোগ্য ক্রিকেট। কষ্ট পেয়েছি আমাদের বাংলাদেশ না খেলায় আর আমাদের এখনকার দল অস্ট্রেলিয়া ছিটকে পড়ায়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

2 × 4 =