সালেক সুফী
টুর্নামেন্টের যৌথ স্বাগতিক এবং শিরোপাধারী ভারত এবারে শিরোপা জয়ের সবচেয়ে ফেভারিট দল। গ্রুপ অফ এইটে একটি খেলায় বিশাল ব্যাবধানে দক্ষিণ আফিকার কাছে পরাজিত হয়ে খাদের কিনারে চলে গিয়েছিলো। সেখান থেকে দারুন ভাবে ফিরে এসে প্রত্যাশিত ভাবে সেমি ফাইনাল জিতে ভারত এখন ফাইনালে। মুম্বাইয়ের ওয়াংখেদে স্টেডিয়ামে রান প্লাবনের খেলায় ৭ রানে জয়ী হয়েছে ভারত। টস হেরে প্রথম বাট করে ভারত করেছিল ২৫৩/৭। ১৯.১ ওভারে ২২১/৭ ইংল্যান্ড শেষ ৫ বলের নাটকীয়তায় ২৪৬/৭ করে ৭ রানে হেরে যায়। ফাইনালে টুর্নামেন্ট জয়ের ফেভারিট হিসাবেই এখন ভারত খেলবে নিউ জিল্যান্ডের বিরুদ্ধে।
কাল শুরুতেই ভারতের মারকুটে ওপেনার অভিষেক শর্মার (৯) তুলে নিয়ে ভালো সূচনার ইঙ্গিত দিয়েছিলো থ্রী লায়ন্সরা। কিন্তু দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে দারুন ছন্দে থাকা সানজু স্যামসন (৪২ বলে ৮৯) আর ঈশান কিষান (১৮ বলে ৩৯) করে দ্রুত ৯৯ রান যোগ করলে বড় স্কোর করার প্লাটফর্ম পেয়ে যায় ভারত। সবাই জানে ভারতের ব্যাটিং গভীরতা সুযোগ পেয়ে কি করতে পারে। শিবাম দুবে (৪৩), হার্দিক পান্ডিয়া (২৭) আর তিলক ভার্মা (২১) সক্ষিপ্ত অথচ দ্রুত অবদান রাখলে দলের ম্যাচ জয়ী ২৫৩/৭ স্কোর গড়ে উঠে। ব্যটিং সহায়ক উইকেটে সীমিত বোলিং শক্তি নিয়ে ইংল্যান্ড কেন কাল ভারতকে প্রথম ব্যাটিং করার সুযোগ দিয়েছিলো বোধগম্য হয়নি। উইল জ্যাক্স (২/৪০) আর আদিল রাশিদ (২/৪১) ছাড়া জোফরা আর্চার সহ বাকি সব বোলার ছিল খরুচে। স্পিনার রেহান আহমেদের পরিবর্তে জেমী ওভারটনকে খেলানো সঠিক সিদ্ধান্ত ছিলনা।

স্নায়ুক্ষয়ী ম্যাচে স্বাগতিক দলের বিশাল স্কোর তাড়া করার মিশনে ইংল্যান্ডের সূচনা ভালো হয়নি। শুরুতেই পান্ডিয়া ফিল সল্টকে (৭) আর বুমরা ৩ নম্বরে ব্যাটিং করতে অধিনায়ক হ্যারি ব্রুককে (৭) ফিরিয়ে দিলে কোনঠাসা হয়ে পড়ে ইংল্যান্ড। ভালো খেলতে থাকা জস বাটলার (২৫) ডানা মেলে উড়াল দেয়ার আগেই ভারুনের চাতুর্যে ধরা পড়লে তরুণ জ্যাকব বেথেলকে যোগ্য সাহচর্য দিতে পারেনি উইল জ্যাক্স (৩৫) আর কোন ইংলিশ ব্যাটসম্যান। ৪৮ বলে ৮ চার আর ৭ ছক্কায় সাজানো বেথেলের সঙ্গে লেট্ মিডল অর্ডারে কেউ মারকুটে ব্যাটিং করলে হয়ত কাল ইংল্যান্ড জয় ছিনিয়ে আনতে পারতো। ভারত বোলিং বৈচিত্র আর মুম্বাই স্টেডিয়ামে ভারত সমর্থকদের নীল সাগরের তরঙ্গের চাপে ১৯.১ ওভারে ইংল্যান্ড ২২৫/৭ পৌঁছালে ম্যাচের ভাগ্য অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যায়। তবুও হাল ছেড়ে দেয়নি জোফরা আর্চার। শেষ ওভারে ৩ ছক্কায় ১৯ রান তুলে ম্যাচ জমিয়ে দিয়েছিলো আর্চার। তবে জয়ের টার্গেট ছিল আওতার বাইরে। ইংল্যান্ড ইনিংস ২৪৬/৭ শেষ হলে ৭ রানে ম্যাচ জয় করে ভারত। কাল বিশাল স্কোর ডিফেন্ড করায় ভালো ভালো বোলিং করেছে বলবো না। রান কুশন না থাকলে ভারত হেরে যেতেও পারতো। ভারতের হয়ে আরো একটি দর্শনীয় ইনিংস ৮৯ উপহার দেয়া ত্রিভান্দ্রামের সানজু সামসনকে ম্যাচ সেরা খেলোয়াড় পুরুস্কার দেয়া হয়েছে। ইংল্যান্ড জয়ী হলে অবশ্যই এই পুরুস্কারের দাবিদার হতো বার্বাডোজে জন্ম নেয়া ২২ বছরের ইংলিশ তরুণ জ্যাকব বেথেল (১০৫)। শেষ ওভারের প্রথম বলে বেথেল রান আউট না হলে লড়াইটা আরো জমি জমাট হতে পারতো।
দুটি সেমি ফাইনাল দেখার পর বলতে হবে একটি ম্যাচে হোঁচট খাওয়া ভারত কিন্তু ছন্দ ফিরে পেয়েছে। ব্যাটিংয়ে ভারতের অন্যতম প্রধান ভরসা অভিষেক শর্মা নিজেকে এখনো সেভাবে মেলে ধরতে পারেনি। কে জানে ফাইনালটা হয়তো রাঙ্গিয়ে দিবে নিজ মূর্তিতে জ্বলে উঠে। কালকের ম্যাচে ইংল্যান্ডের হ্যারি ব্রুক বা জস বাটলার বড় কিছু করলে ইংল্যান্ডের জন্য ভিন্ন কিছু করা সম্ভব ছিল।
ফাইনালে এখন ভারতের মুখমুখী তাসমান সাগর পারের ক্ষুদ্র জন গোষ্ঠীর দেশ নিউজিল্যান্ড। ব্ল্যাক ক্যাপ্স নামে ডাকা কিউই পাখির দেশ কিন্তু বিশ্ব মঞ্চে সব ফরম্যাটে নীরব ঘাতক। নিউজিল্যান্ড যদিও নিজেদের সেমি ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে উড়িয়ে দিয়ে দাপুটে জয় পেয়েছে তবুও ফাইনালে ভারতকে চমক দিতে হলে নিজেদের ছাপিয়ে যেতে হবে।
আমার বিশ্লেষণে ভারত টুর্নামেন্টে এখন ফেভারিট। তবে নিউজিল্যান্ড সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেয়ার অবকাশ নেই।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ভারত ২৫৩ /৭ (সানজু স্যামসন ৮৯, শিবাম দুবে ৪৩, ঈশান কিষান ৩৯, হার্দিক পান্ডিয়া ২৭, তিলক ভার্মা ২১, উইল জ্যাক্স ২/৪০, আদিল রাশিদ ২/৪১)
ইংল্যান্ড ২৪৬/৭ (জ্যাকব বেথেল ১০৫, উইল জ্যাক্স ৩৫, জস বাটলার ২৫, হার্দিক পান্ডিয়া ২/৩৮)
ভারত ৭ রানে জয়ী। ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় : সানজু স্যামসন।