টেস্ট ক্রিকেটে পাঁচ শীর্ষ রান স্কোরার


ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট যতই ক্রিকেট বিশ্বকে আন্দোলিত করুক ক্রিকেটের আদি বনেদি ফরমেট টেস্ট ক্রিকেট এখন ক্রিকেট বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। কালের বিবর্তনে যদিও উইকেট, খেলার নিয়ম কানুনে বিবর্তন এসেছে তবুও এখন টেস্ট ক্রিকেটে ব্যাট বলের লড়াই প্রাণ ভোরে উপভোগ করে ক্রিকেট প্রেমিকরা। আর প্রযুক্তির বিশ্বায়নের সময়ে ঘরে বসে এমনকি সেল ফোনে দেখা যায় ক্রিকেট লাইভ।

টেস্ট ক্রিকেটে ফর্ম ফিটনেস ধরে রেখে দীর্ঘ সময় টিকে থাকতে  নিঃসন্দেহে অনেক নিবেদন এবং ধৈর্য্যের প্রয়োজন। আজ আমি টেস্ট ক্রিকেটে শীর্ষ পাঁচ ব্যাটসম্যানদের কথা বলবো। সর্বাধিক রান করলেই যে ওরা সর্বযুগের সেরা সেটি ভাবার কারণ নেই। কিন্তু যে কোনো বিবেচনায় যারা ১৩,০০০ অধিক টেস্ট রান করেছেন তারা বিশেষ ভাবে স্মরণ যোগ্য।

আমরা জানি ভারত কিংবদন্তি শচীন রমেশ টেন্ডুলকার ১৯৮৯-২০১৩ টেস্ট জীবনে ২০০ টেস্ট খেলে ৫৩.৭৮ গড়ে ১৫,৯২১ রান করে আছেন সবার উপরে। এই রান করার পথে ৫১ শতরান এবং ৬৮ অর্ধশত করেছেন। শচীন অবসর নিয়েছেন। শুধু মোট রান নয় সর্বাধিক শত রানের রেকর্ডেরও অধিকারী শচীন। হয়ত কোনোদিন তার রেকর্ড কেউ ছুঁয়ে ফেলবে। তবুও টেস্ট ক্রিকেটকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য সমাদৃত এবং স্মরণীয় হয়ে থাকবেন শচীন।

এখন যারা টেস্ট ক্রিকেটে সক্রিয় তাদের মধ্যে শচীনের রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলার উজ্জ্বল সম্ভাবনা আছে যেন ইংল্যান্ডের তুখোড় ব্যাটসম্যান জো রুটের।  ২০১২-২০২৫ বর্তমানে খেলতে থাকা সিডনি টেস্ট সহ ১৬৩ টেস্ট খেলে ৰূট সংগ্রহ করেছে ১৩,৯৩৭ রান। এই সময়ে রুটের ৫১.২৪ ব্যাটিং গড়ে ৪১ শতরান এবং ৬৬ অর্ধশত করেছে। ফর্ম ধরে রাখলে আরো ৩-৪ বছর টেস্ট খেলবে রুট। সম্ভাবনা থাকবে শচীনের শতরান এবং মোট রান ছুঁয়ে ফেলার।

তালিকায় তৃতীয় স্থানে আছে অস্ট্রেলিয়ার সর্বকালের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান রিকি পন্টিং। তিনি ১৯৯৫-২০১২ পর্যন্ত বিস্তৃত টেস্ট জীবনে ১৬৮ টেস্ট খেলে ৫১.৮৫ গড়ে সংগ্রহ করেছে ১৩,৩৭৮ রান। এই রান করার পথে পন্টিং ৪১ শতরান এবং ৬২ অর্ধশত করেছে।  পন্টিং অবসরের পরে বিশ্বজুড়ে ক্রিকেট ধারাবিবরণী এবং মেন্টোরিং করে সম্পৃক্ত আছেন।

তালিকায় চতুর্থ স্থানে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার তুখোড় অল রাউন্ডার জ্যাক ক্যালিস। ১৯৯৫-২০১৩ ব্যাপ্ত টেস্ট ক্যারিয়ারে ক্যালিস ১৬৬ টেস্ট খেলে ৫৫. ৩৭ গড়ে সংগ্রহ করেছে ১৩,২৮৯ রান। এই সংগ্রহের পথে ক্যালিস ৪৫ শতরান এবং ৫৮ অর্ধশত রান করে। অনেকের ধারণা ফর্মে থাকা অবস্থায় টেস্ট ক্রিকেট খেলা ছেড়ে না দিলে হয়ত শচীনের শতরানের রেকর্ড ছুতে পারতো ক্যালিস। বাটিংয়ের পাশাপাশি পেস বোলিং এবং ফিল্ডিংয়েও চৌকষ ছিল কালিস।

তালিকায় পঞ্চম স্থানে রয়েছে ভারতের ‘দি ওয়াল’ খ্যাত রাহুল দ্রাবিড়। শচীনের সমসাময়িক সময়ে ১৯৯৬-২০১২ সময়ে ১৬৪ টেস্ট খেলে ৫২.৩১ গড়ে দ্রাবিড় সংগ্রহ করেছে ১৩,২৮৮ রান। এই সংগ্রহের পথে দ্রাবিড় ৩৬ শতরান এবং ৬৩ অর্ধশত করেছে। অনেকের মতে তার সমসাময়িক সময়ে দ্রাবিড় ছিল বোলারদের জন্য  সবচেয়ে কঠিন ব্যাটসম্যান। অনেক দৃষ্টিনন্দন ইনিংস উপহার দেয়ার পাশাপাশি দলের বিপদ মুহূর্তে ত্রাতা হয়ে আবির্ভুত হয়েছে। একসময় ভারতের হেড কোচ হিসাবে দলকে বিশ্ব সেরাদের অবস্থানে নিয়ে যায় দ্রাবিড়।

এই শীর্ষ পাঁচ ব্যাটসম্যানের পরেই আছে আলিস্টার কুক, কুমারা সংগ্রকারা, ব্রায়ান লারা, শিবনারায়ণ চন্দরপল এবং মাহেলা জয়বর্দনা। বর্তমানে সক্রিয় টেস্ট ব্যাটসম্যানদের মধ্যে স্টিভ স্মিথ, কেন উইলিয়ামসন এক সময় আলোচনায় থাকলেও উভয়েই টেস্ট ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে চলে এসেছে।

টেস্ট ক্রিকেট কিন্তু যুগে যুগে অনেক কিংবদন্তির জন্ম দিয়েছে। এখন অনেক খেলা হয় বিধায় অনেক কিংবদন্তির নাম তালিকায় নেই। তবুও ডোনাল্ড ব্রাডম্যান, হার্ভে, হবস, হাটন, হ্যামন্ড, ওয়ালকট, ওরেল, উইকস, ভিভ রিচার্ডস, বারি রিচার্ডস, গাভাস্কার, জাহির আব্বাস, মিয়াঁদাদ স্বমহিমায় সমাদৃত হয়ে আছেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

15 + seventeen =