ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ২০২৬ এর দ্বাদশ আসর শেষ হলো

ইউনিভার্সিটি অব লিবারাল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব) এর মিডিয়া স্টাডিজ অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগের একটি আউটরিচ প্রোগ্রাম হিসেবে আয়োজিত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ২০২৬ (ডিআইএমএফএফ ২০২৬) ধানমন্ডির সিমান্ত সম্ভার, স্টার সিনেপ্লেক্সে আনুষ্ঠানিক সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। স্টার সিনেপ্লেক্সের সহযোগিতায় এবং ইনফিনিক্স মোবাইল বাংলাদেশের উপস্থাপনায় আয়োজিত এই উৎসবটি মোবাইল চলচ্চিত্র নির্মাণ ও উদ্ভাবনী চলচ্চিত্র ভাষা বিকাশে তাদের অঙ্গীকার পুনরায় তুলে ধরে। চলতি বছরের আসরে ২৪টি দেশ থেকে মোট ১৩১টি চলচ্চিত্র জমা পড়ে, যা মোবাইল সিনেমার একটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ডিআইএমএফএফের ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও অবস্থানকে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত করে।

ইরানি নির্মাতা মোস্তাফা বোরজুইয়ান দাস্তজের্দি পরিচালিত চলচ্চিত্র “কনক্রিট ইকোস” দ্বাদশ ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে সর্বোচ্চ সম্মান “ডিআইএমএফএফ বেস্ট ফিল্ম” পুরস্কার অর্জন করে।

ভারতের নির্মাতা জেয়াচন্দ্র হাসম পরিচালিত “দ্য প্রে” চলচ্চিত্রটি ইউল্যাব বেস্ট ভার্টিক্যাল ফিল্ম পুরস্কার লাভ করে। সিটিজেন জার্নালিজম বিভাগে বাংলাদেশি নির্মাতা তানভীর জাওয়াদের “ওয়েভস অব হোপ” চলচ্চিত্রটি এমএসজে বেস্ট সিজে অ্যাওয়ার্ড অর্জন করে। এছাড়া বাংলাদেশের আরেকটি ওয়ান মিনিট চলচ্চিত্র আবিয়াজ আলিন্দ নির্মিত “আনটোল্ড ড্রিমস” অর্জন করে ইউল্যাব ইয়াং ফিল্মমেকার অ্যাওয়ার্ড। শর্ট ফিল্ম বিভাগে চীনের ওয়েই-না চিয়েন নির্মিত “ফ্যামিলি ট্রিও” চলচ্চিত্রটি সিনেমাস্কোপ বেস্ট ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড লাভ করে।

ডিআইএমএফএফ ২০২৬ এর বিচারকমণ্ডলীর সদস্যদের দুটি স্বতন্ত্র সম্মাননায় সম্মানিত করা হয়। ‘জুরি প্রাইড’ সম্মাননার মাধ্যমে বাংলাদেশি বিচারকদের জাতীয় উৎকর্ষের স্বীকৃতি দেওয়া হয় এবং ‘জুরি অনার’ সম্মাননার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিচারকদের স্বীকৃতি জানানো হয়, যা উৎসবটির ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক পরিসরকে প্রতিফলিত করে।

জুরি প্রাইড সদস্য ছিলেন শেখ রাজিবুল ইসলাম ও লীসা গাজী এবং জুরি অনার সদস্য ছিলেন দীপেন্দ্র গৌচান ও লিওঁ ডেসক্লোজো। এ আসরে সিটিজেন জার্নালিজম ও ওপেন ডোর বিভাগে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন লিওঁ ডেসক্লোজো ও লীসা গাজী, আর অন্যান্য বিভাগে চলচ্চিত্র মূল্যায়ন করেন শেখ রাজিবুল ইসলাম ও দীপেন্দ্র গৌচান।

অনুষ্ঠানের সূচনা হয় অধ্যাপক ইমরান রহমানের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে, যার মধ্য দিয়ে উৎসবটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। ডিআইএমএফএফ ২০২৬-এর জুরি প্রাইড সদস্য শেখ রাজিবুল ইসলাম নির্বাচিত চলচ্চিত্রসমূহ নিয়ে তাঁর মতামত তুলে ধরেন এবং মোবাইল সিনেমার ক্রমবিকাশমান ভিজ্যুয়াল ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন। ইনফিনিক্স মোবাইল বাংলাদেশের পক্ষে সিনিয়র ব্র্যান্ড ম্যানেজার ও পিআর হেড, মো. ইফতেখার উদ্দিন সানি ডিআইএমএফএফের প্রতি তাদের অব্যাহত সমর্থনের কথা ব্যক্ত করেন এবং বৃহত্তর পরিসরে উৎসবটির ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রা নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানের সম্মানিত অতিথি, প্রখ্যাত বাংলাদেশি অভিনেত্রী ও পরিচালক আফসানা মিমি, চলচ্চিত্র নির্মাণে প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার চেয়ে সৃজনশীল চিন্তার গুরুত্বের ওপর আলোকপাত করেন এবং আইডিয়ার শক্তিকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খ্যাতিমান গীতিকার আসিফ ইকবাল, যিনি প্রদর্শিত চলচ্চিত্রসমূহ নিয়ে তাঁর অভিমত তুলে ধরেন এবং বলেন, প্রযুক্তিগত উপাদান চলচ্চিত্রকে সমৃদ্ধ করলেও সৃজনশীলতাই শেষ পর্যন্ত নিজস্ব উদ্দেশ্য ও দিকনির্দেশনা খুঁজে নেয়।

ডিআইএমএফএফ ২০২৬ স্টার সিনেপ্লেক্সের সহযোগিতায় এবং ইনফিনিক্স মোবাইল বাংলাদেশের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠিত হয়। প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়া পার্টনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ও দৈনিক সমকাল, এবং অনলাইন মিডিয়া পার্টনার হিসেবে ছিল ঢাকা পোস্ট ও ইত্তেফাক। যুব সম্পৃক্ততা পার্টনার হিসেবে যুক্ত ছিল টিবিএস গ্র্যাজুয়েট এবং সম্প্রচার পার্টনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে চ্যানেল আই। ডিজিটাল মিডিয়া পার্টনার ছিল দ্য ক্যাস্টর, ম্যাগাজিন পার্টনার রঙ বেরঙ এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়া পার্টনার হিসেবে যুক্ত ছিল বাংলা ভিশন, যমুনা টিভি, ঢাকা জার্নাল ও মাছরাঙা। ক্যাম্পাস টিভি পার্টনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে ইউল্যাব টিভি। ইভেন্ট পার্টনার ছিল টিকমার্ক এবং ডকুমেন্টেশন পার্টনার হিসেবে লুমিয়ের মোমেন্টস ও বিভোর প্রোডাকশন দায়িত্ব পালন করে। সর্বশেষ ব্র্যান্ডিং পার্টনার হিসেবে যুক্ত ছিল এমডব্লিউ বাংলাভিশন।

ডিআইএমএফএফ ২০২৬ এর উপদেষ্টা সৈয়দা সাদিয়া মেহজাবিনের ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

one × 3 =