নেপালের জাতীয় নির্বাচনে প্রচারের শেষ দিন আজ

দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভে সরকার পতনের ছয় মাস পর নেপালের জাতীয় নির্বাচনে প্রচারণার শেষ দিনে আজ সোমবার প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক নেতারা চূড়ান্ত প্রচারণায় নেমেছেন। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী নেতারা শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় জোর দিচ্ছেন। এএফপি। খবর বাসস

হিমালয় ঘেরা ৩ কোটি মানুষের এই প্রজাতন্ত্রে আগামী বৃহস্পতিবার সংসদ নির্বাচনে দেশের জন্য নতুন সংসদ সদস্যরা নির্বাচিত হবেন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে অন্তর্বর্তী সরকার দেশটি পরিচালনা করছে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠিত হবে। ওই বিক্ষোভে অন্তত ৭৭ জন নিহত হয়।

অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কি বলেছেন, আগামী ৫ মার্চের নির্বাচনই দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।

দুই সপ্তাহের প্রচারণায় তরুণ প্রার্থীদের শক্ত অবস্থান দেখা গেছে। তারা দেশের দুর্বল অর্থনীতি ও ব্যাপক দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। অন্যদিকে দুই দশক ধরে রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করা অভিজ্ঞ নেতারা বলছেন, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের অভিজ্ঞতাই ভরসা।

প্রধান আলোচিত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ৭৪ বছর বয়সী মার্ক্সবাদী নেতা কেপি শর্মা অলি। তিনি গত বছর প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে অপসারিত হন।

নিজ নির্বাচনী এলাকায় তিনি কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন সাবেক কাঠমান্ডু মেয়র ৩৫ বছর বয়সী র‌্যাপার-থেকে-রাজনীতিক বলেন্দ্র শাহের কাছে, যিনি ‘বালেন’ নামেই বেশি পরিচিত।

নেপালের পূর্বাঞ্চলের শহর ও কৃষিপ্রধান জনপদ নিয়ে গঠিত ঝাপা-৫ আসনটি এবার গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এই আসনে দু’জনের মধ্যে যে কেউ পরাজিত হলে তার প্রধানমন্ত্রিত্বের সম্ভাবনা প্রায় শেষ হয়ে যাবে।

গত শনিবার কাঠমান্ডুতে বালেনের সমাবেশে অংশ নেওয়া ৪০ বছর বয়সী নির্মলা শ্রেষ্ঠা বলেন, ‘আমি বালেন্দ্র শাহকে ভোট দেব, কারণ যারা তিন দশক ধরে দেশ পরিচালনা করেছে তারা আমাদের জন্য সন্তোষজনক কিছুই করতে পারেনি এবং অনেক বেশি দুর্নীতি ছিল।’

ওলি এফপিকে বলেন, ‘আমাকে অপসারণের জন্য নৈরাজ্যবাদী শক্তি দায়ী।’ অস্থিরতার সময় নিরাপত্তা বাহিনীকে বিক্ষোভকারীদের হত্যা করার নির্দেশ দেওয়ার কথা অস্বীকার করেন তিনি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

five × three =