নোয়াখালী এক্সপ্রেসকে হারাল রংপুর রাইডার্স

প্লে অফের সমীকরণ আগেই শেষ নোয়াখালী এক্সপ্রেসের। আজকের ম্যাচটা কেবলই তাদের জন্য নিয়মরক্ষার। আসরে বাজেভাবে শুরু করা নোয়াখালী আসর শেষ করলো একইভাবে। নোয়াখালীর হাসান ইশাখিলের সেঞ্চুরির জবাবে রংপুর রাইডার্সের তাওহীদ হৃদয়ও করলেন শতক। আর তাতেই নোয়াখালীকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে রংপুর।

মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে আজ বিপিএলে দিনের প্রথম ম্যাচে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে হাসান ইসাখিলের সেঞ্চুরিতে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ২ উইকেট হারিয়ে ১৭৩ রান করে নোয়াখালী। জবাবে ব্যাট করতে নেমে হৃদয়ের ১০৯ রানের ইনিংসে ভর করে ১৯.৪ ওভারে ২ উইকেট হারিয়েই জয় তুলে নিয়েছে রংপুর। উঠে এসেছে টেবিলের তিনে।

১৭৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ৭৮ রানের জুটি গড়েন ডেভিড মালান ও হৃদয়। যদিও জুটিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন হৃদয়ই৷ মালান ১৫ রান পরে ফিরে যান সাজঘরে৷ এরপর অধিনায়ক লিটনকে সঙ্গে নিয়ে বড় জুটি গড়েন হৃদয়। তুলে নেন বিপিএল ক্যারিয়ারে তার দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। লিটনের ব্যাট থেকে এসেছে অপরাজিত ৩৯ রান। আর তাতেই সহজেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় রংপুর।

এর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে বরাবরের মতো আজও প্রথমেই হোঁচট খায় নোয়াখালী। ৭.৪ ওভারে বোর্ডে জমা হয় মাত্র ৩৬ রান, হারায় দুই উইকেট। তবে এখানেই শেষ। এরপর আর কোনো উইকেট হারাতে হয়নি দলটিকে। তৃতীয় উইকেট জুটিতে ইসাখিল ও অধিনায়ক হায়দার আলী গড়েন ১৩৭ রানের জুটি।

দ্বিতীয় ইনিংসটা যেমন হৃদয়ের, তেমনি ম্যাচের প্রথম ইনিংসটা পুরোটাই নিজের করে নিয়েছিলেন মোহাম্মদ নবীর পূত্র ইসাখিল। আফগান এই ব্যাটার অর্ধশতক করেছিলেন ৫০ বলে। তবে পরের ৫০ রান করে সেঞ্চুরি পূরণ করতে খেলেছেন মাত্র ২০ বল! এটি তার ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। অপরাজিত ছিলেন ৭২ বলে ১০৭ রানে।

এবারের আসরে নোয়াখালীর হয়ে প্রথম ৭ ম্যাচ বেঞ্চেই বসে থাকতে হয়েছে ইসাখিলকে। সুযোগ পেয়েছেন মাত্র শেষ তিন ম্যাচে। তিন ম্যাচ খেলেই নোয়াখালীর হয়ে এবারের আসরে সর্বোচ্চ ২২৪ রান করেছেন তিনি। এছাড়া এই তিন ম্যাচে ছক্কা মেরেছেন ১৮ টি। যা বিপিএলে এবারের আসরে এখনো পর্যন্ত সর্বোচ্চ।

১৫ ওভার শেষে নোয়াখালীর রান ছিল ২ উইকেটে মাত্র ৯৮। তবে পরের ৫ ওভারে রান এসেছে ৭৫। সবমিলিয়ে শেষ দশ ওভারে নোয়াখালী করেছে ১২৬ রান। অধিনায়ক হায়দার অপরাজিত ছিলেন ৪২ রানে।

নোয়াখালী বিপিএলের এবারের আসর শুরু করেছিল প্রথম ৬ ম্যাচ হেরে। প্লে-অফে খেলার স্বপ্ন সেখানেই প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল। ১০ ম্যাচে অষ্টম হার নিয়ে মাঠ ছেড়েছে নোয়াখালী এক্সপ্রেস। অন্যদিকে শেষের দিকে টানা তিন ম্যাচ হারের পর লিটনের অধিনায়কত্বে আবারও জয়ে ফিরেছে রংপুর। ১০ ম্যাচে ৬ হয়ে রংপুরের পয়েন্ট ১২। রংপুর আগেই প্লে-অফ নিশ্চিত করে এখন প্রথম কোয়ালিফায়ারে খেলার অপেক্ষায়।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

নোয়াখালী এক্সপ্রেস: ২০ ওভারে ১৭৩/২ (ইসাখিল ১০৭*, হায়দার ৪২*; আলিস ১/২২, নাহিদ ১/৪০)।

রংপুর রাইডার্স: ১৯.৪ ওভারে ১৭৪/২ (হৃদয় ১০৯, লিটন ৩৯*; হাসান ১/২৩)।

ফল: রংপুর রাইডার্স ৮ উইকেটে জয়ী।

ম্যাচসেরা: তাওহিদ হৃদয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

6 − 5 =