সালেক সুফী
সংবেদনশীল সময়ে ক্রিকেটের সঙ্গে সম্পৃক্ত সকল পক্ষ, খেলোয়াড়, বিসিবি, ক্লাব কর্তৃপক্ষ, ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, মিডিয়া, সমর্থকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা আর সংযম প্রদর্শন করতে হবে। বিসিবি একটি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা। বৈষয়িক সংস্থা কিন্তু কোন দেশের ক্রিকেট প্রশাসনের উপর সরকারের খবরদারি বরদাস্ত করে না। জুলাই আগস্টে ২০২৪ সরকার পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী কালীন সরকার কিন্তু বারবার ক্রিকেট প্রশাসনে অযাচিত হস্তক্ষেপ করেছে। সৌভাগ্য যে আইসিসি এখনো পরিস্থিতির কারণে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করে নি। মুস্তাফিজকে আইপিএল ২০২৬ থেকে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নির্দেশে অন্যায় ভাবে বাদ দেয়ার প্রতিক্রিয়ায় যেভাবে বাংলাদেশ সরকার প্রক্রিয়া দেখিয়ে বিবিসির উপর চাপ সৃষ্টি করেছে সেটি কিন্তু বাংলাদেশ ক্রিকেটের উপর বিপদ ডেকে আনতে পারে। বিসিবি -আইসিসি -বিসিসিআই ত্রিপক্ষীয় আলোচনায় টি ২০ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হলে বিসিবির উপর অর্থদন্ড, এমনকি সাসপেনশন আসতে পারে।
এমনি যখন অবস্থা তখন ক্রিকেটারদের নিয়ে জনৈক বিসিবি পরিচালকের মন্তব্য ঘিরে খেলোয়াড়দের বিপিএল ম্যাচ বয়কট সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল না। বিষয়টি আলাপ আলোচনার ভিত্তিতে নিস্পত্তি করা উচিত ছিল। যাক অবশেষে বিপিএল শুরু হচ্ছে। আশা করি টি ২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বিষয়েও সকল পক্ষের জন্য সম্মানজনক সমাধান মিলবে।
মনে রাখতে হবে বাংলাদেশ কিন্তু বিশ্ব ক্রিকেটে এখনো পরাশক্তি হয়ে উঠেনি। ঘরোয়া ক্রিকেট অবকাঠামো এখনো নাজুক, অনেক পিছিয়ে আছে। ক্রিকেটের উন্নয়নে আইসিসি, এসিসি এবং তিন মোড়লের অনেক সমর্থন প্রয়োজন। বিসিবি কর্মকর্তাদের দায় দায়িত্ব বিষয়ে সচেতন থাকা উচিত। পেশাদার ক্রিকেটারদেরও পেশার বিষয়ে আরো অনেক কমিটমেন্ট থাকা জরুরি। মিডিয়া এবং ক্রিকেট অনুরাগীদের দায়িত্ব বোধের পরিচয় দেয়া উচিত। ক্রিকেট তথা কোন খেলায় রাজনীতি সম্পৃক্ত করার ধ্বংসাত্মক পথ পরিহার করা জরুরি।