
কলম্বোর প্রেমাদাস স্টেডিয়ামে কাল অনুষ্ঠিত ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট যুদ্ধে ভারত পাকিস্তানকে ৬১ রানের বিশাল ব্যাবধানে শোচনীয় ভাবে পরাজিত করেছে। কঠিন উইকেটে ভারতের সূচনাকারী ব্যাটসম্যান ঈশান কিষানের (৭৭) রানের সুবাদে ১৭৫/৭ রান করে। ভারতের উঁচু মানের বোলিং পাকিস্তানকে ১৮ ওভারে ১১৪ রানে গুঁড়িয়ে দিলে বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয় ভারত। শোচনীয় পরাজয়ের পর টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। রান রেটে এখন যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে আছে। নিজেদের গ্রূপের অবশিষ্ট ম্যাচে পাকিস্তান নামিবিয়ার কাছে হেরে গেলে পাকিস্তানকে কলম্বো থেকে গ্লানিময় বিদায় নিতে হতে পারে। অন্যদিকে তিন ম্যাচের প্রতিটি জিতে ভারত ওয়েস্ট ইন্ডিজের পর দ্বিতীয় দল হিসাবে গ্রূপ অফ এইট নিশ্চিত করলো।
উইকেটে কাল স্পিন ধরেছিল। কঠিন উইকেটে ব্যাটিং করা সহজ ছিল না। সেই উইকেটে শুরুতে ভারতের ঈশান কিষান কাল বোশেখী ঝড়ের তাণ্ডবে ৪০ বলে ৭৭ রানের ইনিংস খেলে পাকিস্তান বোলিংকে চূর্ণ করে। পাকিস্তানের শাহীন শাহ আফ্রিদীর ২ ওভারেই ভারত সংগ্রহ করে ৩১ রান। এহেন উইকেটে ভারতের স্কোর ১৫০ পেরিয়ে ১৭৫ পৌঁছানোর সঙ্গেই ম্যাচের ভাগ্য নিশ্চিত হয়ে যায়।
ভারতের চতুর্মুখি সাঁড়াশি আক্রমণ মোকাবেলায় মুষড়ে পরে পাকিস্তান ব্যাটিং। সাহেবজাদা ফারহান (০), সাইযুম আইয়ুব (৬), সালমান আগা (৪), বাবর আজম (৫) দ্রুত উবে গেলে ৪.৫ ওভারেই পাকিস্তানের স্কোর দাঁড়ায় ৪/৩৪। শঙ্কা দেখা দেয় পাকিস্তান ঈশান কিষানের ব্যক্তিগত স্কোর ৭৭ পেরুতে পারবে কিনা। যাহোক উসমান খান ৪৪ আর শেষদিকে শাহীন আফ্রিদি ২৩ রান করে পাকিস্তান স্কোর ১১৪ রানে পৌঁছে।
৬১ রানে পরাজিত পাকিস্তান এখন পয়েন্টস টেবিলে ৩য় স্থানে। গ্রূপ সীমানা পেরিয়ে গ্রূপ অফ ফোরে পৌঁছাতে পাকিস্তান এখন নামিবিয়াকে হারাতেই হবে। কাজটি খুব সহজ হবে মনে করি না। কাল টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মত দর্শক গ্যালারি টইটম্বুর ছিল। আইসিসির লক্ষ্য পূর্ণ হয়েছে। কিন্তু একইসঙ্গে পাকিস্তানের লজ্জাজনক পরাজয়ে ক্রিকেট দর্প চূর্ণ হলো। এই ম্যাচ নিয়ে এতো মান অভিমান। দুই দলের সামর্থের ব্যাবধানে আকাশ-পাতাল ব্যাবধান কাল আবার প্রমাণিত হলো।
ভারত ১৭৫/৭ (ঈশান কিষান ৭৭, সূর্য কুমার যাদব ৩২, শিভাম দুবে ২৭, তিলক ভার্মা ২৫। সিয়াম আইয়ুব ৩/২৫)
পাকিস্তান ১১৪ অল আউট (উসমান খান ৪৪, শাহীন শাহ আফ্রিদি ২৩*। হার্দিক পান্ডিয়া ২/১৬, জাসপ্রিত বুমরা ২/১৭, ভরুন চক্রবর্তী ২/১৭ )
উইকেট ছিল স্ল্যাগিস প্রকৃতির। গ্রিপ, টার্ন ছিল বাড়ন্ত। শুরুতেই সালমান আগা ০ রানে ফিরিয়ে দিয়েছিল অভিষেক শর্মাকে। কিন্তু পাকিস্তানের উপর চড়াও হয়ে তাণ্ডব চালানো ঈশান কিষান (৪০ বলে ৭৭) ছিল বেপরোয়া। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে তিলক ভার্মাকে (২৫) নিয়ে দ্রুত ৮৭ রান যুক্ত হলে ম্যাচ থেকে প্রায় ছিটকে গেল পাকিস্তান। ভালো বোলিং করেছে পাকিস্তানের সাইযুম আইয়ুব (৩/২৫), সালমান আগা (১/১০)।
কঠিন উইকেটে সূর্য কুমার যাদভ ৩২, শিবাম দুবে ২৭ রান করে দলের স্কোর পাকিস্তানের সামর্থ্যের সীমানা পেরিয়ে ১৭৫/৭ পৌঁছে দেয়। শাহীন আফ্রিদিকে নির্দয় প্রহার করে দুই ওভারেই ভারত তুলে নিয়েছে ৩১ রান। এখানেই রচিত হয়েছে ব্যাবধান।
পাকিস্তান ইনিংসের শুরুতেই হার্দিক পান্ডিয়া (২/১৬), জাসপ্রিত বুমরা (২.১৭) জোড়ায় জোড়ায় আঘাত হেনে আতঙ্ক জাগায়। মেরুদণ্ড ভেঙে যাওয়া পাকিস্তান উসমান খানের ৪৪, আর শাহীন আফ্রিদির ২৩* রান পুঁজি করে কোনো মতে ১১৪ রানে পৌঁছে। যে উইকেটে পাকিস্তান বোলিং ভালো করেছে সেখানে ভারতের বিশ্বমানের বোলিং আক্রমণের মোকাবেলায় পাকিস্তানের ভাগ্যলিপি ভারত ইনিংস ১৫০ পেরুনোর পরেই নির্ধারিত হয়েছিল।
পাকিস্তানের এই পরাজয়ে ওদের গ্রূপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়ার শঙ্কা জেগেছে। শেষ ম্যাচে নামিবিয়া কিন্তু পাকিস্তানকে হারানোর সামর্থ্য রাখে। অন্যদিকে টুর্নামেন্ট ফেভারিট ভারত কিন্তু সদর্পে পৌঁছে গেলো গ্রূপ অফ এইটে। কালকের ম্যাচে ব্যাতিক্রমী ব্যাটিং করে ঈশান কিষান হয়েছে ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়।
পাক অধিনায়ক ফাহিম আশরাফকে বোলিং করালে হয়তো ভারত স্কোর ১৫০ সীমিত থাকত। শেষ ওভারেও শাহীনকে বেধড়ক পিটিয়েছে ভারত। এমনিতেই ভারত আর পাকিস্তান দল দুটির শক্তিমত্তার ব্যাবধান ৬০:৪০। তদুপুরি ম্যাচ কৌশল, স্কোয়াড নির্বাচন, উইকেট পড়তে ভ্রান্তি, ফখর জামান ও নাসিম শাহকে বসিয়ে রাখা।শাহীন-বাবরের ব্যর্থতা পাকিস্তানের ভরাডুবি ত্বরান্বিত করে। কষ্ট লাগে যে পাকিস্তান যুগে যুগে উঁচু মানের পেস বোলার, এক্সপ্লোসিভ ব্যাটসম্যান উপহার দিয়েছে তাদের ক্রিকেটে এখন আকাল। ভারত এখন যোজন যোজন এগিয়ে।
এই ম্যাচ ঘিরে কত কূটনীতি, কত রাজনীতি। অথচ টুর্নামেন্টে ছোট দলগুলো কত দৃষ্টি মনোহর ক্রিকেট উপহার দিয়েছে। বিশ্ব ক্রিকেটে বাঁক বদলের সময় এসেছে।