
মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে অনুষ্ঠিত সাফ অনুর্ধ ২০ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর পেনাল্টি শুট আউটে ভারতকে ৪-৩ গোলে পরাজিত করে উপর্যুপরি দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জয় করলো বাংলাদেশ। দুই দলের খেলায় গতি ছিল, ছন্দ ছিল। দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করছে।
ব্রিসবেন থেকে রাত জেগে বাংলাদেশের প্রতিটি ম্যাচ দেখেছি, মালেতেও গ্যালারিতে প্রতিটি ম্যাচে বিপুল সংখ্যায় বাংলাদেশী সমর্থকরা সমবেত হয়ে দলকে উজ্জীবিত করেছে। আর মাঠের খেলায় বাংলাদেশী তরুণরা প্রতিটি ম্যাচে উঁচুমানের ছন্দময় ফুটবল খেলে যোগ্য দল হিসাবে শিরোপা জিতেছে। বাংলাদেশের খেলায় ছিল গতি, কুশলতা, দক্ষতা আর সর্বোপরি হার না মানা জয়ী মনোভাব।
বোনাস হিসাবে প্রাপ্তি যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী অত্যন্ত উঁচু মানের সুলিভান যমজ ভাই রোনান আর ডেকলান। রোনানকে যতদূর দেখলাম ওর মাঝে জাত স্ট্রাইকারের সহজাত প্রতিভা আছে।সযত্নে পরিচর্যা করা হলে সুলিভান বাংলাদেশের জাতীয় দলের আক্রমণ ভাগের অন্যতম স্তম্ভে পরিণত হবে। ডেকলানকে হয়তো টিমের কম্বিনেশনের কারণে সীমিত ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু যতটুকু সুযোগ পেয়েছে জাত চিনিয়েছে।
বাংলাদেশ দলের রক্ষণভাগ ছিল দুর্ভেদ্য দুর্গ। গোলকিপার মাহিন টুর্নামেন্টের সেরা গোলরক্ষক হয়েছে। মুহুর্মুহু আক্রমণ করেছে প্রতিটি ম্যাচে। কিন্তু আক্রমণ ভাগে কিছুটা সমন্বয়ের অভাবে ম্যাচগুলোতে বড় ব্যাবধানে জয় পায়নি। গ্রুপের প্রথম ম্যাচে রোনান সুলিমানের দুটি বিশ্বমানের গোলে পাকিস্তানকে উড়িয়ে দিয়ে শুভ সূচনা করে। দ্বিতীয় ম্যাচে ভারতের বিরুদ্ধে ০-১ পিছিয়ে পরেও রোনানের কর্নার থেকে বদলি খেলোয়াড় গোল করে ১-১ সমতায় খেলা শেষ করে।
সেমি ফাইনালে অনেকটা একচেটিয়া খেলেও নেপালের বিরুদ্ধে মাত্র ১-০ গোলে জয়ী হয়ে ফাইনালে উঠে। অন্যদিকে টুর্নামেন্ট জুড়ে দারুন খেলা ভারত দল পাকিস্তানকে ৩-০ এবং সেমি ফাইনালে ভুটানকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশের মুখোমুখি হয়। ফাইনালটি উভয় দলের ছন্দময় ফুটবলে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছিল। দুটি দলই গোলের সুযোগ হারানোয় ০-০ সমতায় ৯০ মিনিট শেষ হলে খেলা টাই ব্রেকারে গড়ায়।
প্রথম শটটি বাংলাদেশের গোলরক্ষক মাহীন বাম দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে রুখে দিলে বাংলাদেশের আশার প্রদীপ জ্বলে উঠে। দুই দলের ৯টি (ভারতের ৫ আর বাংলাদেশের ৪) পেনাল্টি শেষে স্কোর দাঁড়ায় ৩-৩। শেষ পেনাল্টির জন্য দৃঢ় পদে এগিয়ে আসে রোনান সুলিভান। বাংলাদেশের স্নেহময়ী নানীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশের হয়ে খেলা যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম আর বেড়ে ওঠা রোনান অপূর্ব দক্ষতায় গোল করে বাংলাদেশের বিজয় তথা শিরোপা নিশ্চিত করে। মাঠে উপস্থিত বাংলাদেশী সমর্থক, দেশে আর প্রবাসে থাকা অগণিত গুণমুদ্ধ বাংলাদেশিরা জয়ধ্বনিতে জেগে উঠে।
সাবাস বাংলাদেশ শত সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের ছেলে আর মেয়েদের ফুটবলে ক্রমাগত সাফল্য লাভ করছে বাংলাদেশ। ঘরোয়া ফুটবল কাঠামো উন্নত হলে আর প্রবাসে থাকা উঁচু মানের বাংলাদেশী খেলোয়াড়দের যোগ্যতার ভিত্তিতে মূল্যয়ন করে দলে নিয়মিত সুযোগ দেওয়া হলে অচিরেই বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়া পেরিয়ে এশিয়া এবং বিশ্বমঞ্চে আলো ছড়াবে।