পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে মার্কিন পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক ও কিছু বিধিনিষেধ আরোপের ঘোষণা দিয়েছে চীন। দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা সব পণ্যে আগামী ১০ এপ্রিল থেকে অতিরিক্ত ৩৪ শতাংশ শুল্ক বসবে।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়, সামারিয়াম, গ্যাডোলিনিয়াম, টার্বিয়াম, ডিসপ্রোজিয়াম, লুটেনিয়াম, স্ক্যান্ডিয়াম ও ইট্রিয়ামসহ মাঝারি ও ভারী ‘বিরল খনিজ’ রপ্তানিতে নিয়ন্ত্রণ আনার ঘোষণাও দিয়েছে বেইজিং।
গত বুধবার হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলন করে নতুন সম্পূরক শুল্কহার ঘোষণা করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তিনি নতুন ‘রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ’ নীতির অংশ হিসেবে শতাধিক দেশের পণ্যে নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন।
তালিকায় বাংলাদেশও আছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় ৩৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্কের মুখোমুখি হতে হবে বাংলাদেশি পণ্যকে, যা এতদিন ছিল গড়ে ১৫ শতাংশ।
ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষণা অনুযায়ী, চীন থেকে আমদানি করা পণ্যে শুল্ক বাড়বে ৩৪ শতাংশ। এতে চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক দাঁড়াচ্ছে ৫৪ শতাংশ। এটি নির্বাচনী প্রচারণাকালে ট্রাম্পের দেওয়া ৬০ শতাংশ শুল্কের হুমকির প্রায় কাছাকাছি।
ট্রাম্পের ঘোষণার পরের দিন গত বৃহস্পতিবার একটি বিবৃতি দেয় চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, যেখানে অতির্কিত শুল্ক আরোপের পদক্ষেপ বাতিল করার আহ্বান জানানো হয়। সেদিনের বিবৃতিতে বলা হয়, “চীন দৃঢ়ভাবে এর বিরোধিতা করে এবং নিজের অধিকার ও স্বার্থ সুরক্ষিত করতে পাল্টা ব্যবস্থা নেবে।”
পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়ার একদিন পরেই মার্কিন পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক ও বিধিনিষেধ আরোপের ঘোষণা দিল বেইজিং। চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবারের বিবৃতিতে বলেছে, “জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থ আরও সুসংহত করতে আইন মেনে সংশ্লিষ্ট পণ্যের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
এর বাইরে ১১টি ‘সত্তাকে’ চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ‘অনির্ভরশীল স্বত্তার’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। এখন এসব ‘সত্তার’ বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিতে পারবে বেইজিং।