মুস্তাফিজ ইস্যুতে উত্তপ্ত বাংলাদেশ ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক

সবার জানা ভারত সরকারের উর্ধতন মহলের নির্দেশে আসন্ন আইপিএল ২০২৬ খেলা হচ্ছে না বাংলাদেশের কাটার মাস্টার খ্যাত মুস্তাফিজুর রহমানের। ভারতের বিসিসিআইয়ের নির্দেশে বলিউড কিংবদন্তি শাহরুখ খানের মালিকানাধীন কোলকাতা নাইট রাইডার্স মুস্তাফিজকে বাদ দিতে বাধ্য হয়েছে।

প্রতিক্রিয়ায় সঙ্গত কারণেই বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশে ফেব্রুয়ারী ২০২৬  অনুষ্ঠিতব্য আইসিসি টি২০ বিশ্বকাপে ভারতে দল না পাঠানোর কথা আইসিসিকে জানিয়েছে বিসিবি। যেহেতু মুস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেয়ার অজুহাত হিসাবে নিরাপত্তা উল্লেখ করা হয়েছে সেই প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ দলের ভারতে খেলার সময়ে নিরাপত্তা বিষয়ে শংকা প্রকাশের যথেষ্ট যুক্তি আছে।

এই অবস্থায় আইসিসি কতটা ভারত প্রভাব মুক্ত হয়ে বাংলাদেশের অনুরোধে শেষ মুহূর্তে বাংলাদেশের খেলাগুলো শ্রীলংকায় সরিয়ে নিতে পারবে সন্দেহ আছে। টুর্নামেন্ট শুরু হতে মাত্র মাস খানেক সময় আছে। বাংলাদেশ গ্রূপ পর্যায়ে তিনটি ম্যাচ ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইতালি এবং ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলার কথা কলকাতায় এবং নেপালের বিরুদ্ধে খেলার সূচি আছে মুম্বাইতে।

ভেন্যু স্থানান্তরের জন্য আবাসন, যাতায়াত ব্যবস্থাসহ নানা লজিস্টিকস বিষয়াদি স্বল্প সময়ে পরিবর্তন কঠিন হলেও অসম্ভব না। এই ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দলের নিরাপত্তায় ভারত সরকার রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার আশ্বাস দিলেও বরফ গলবে বলে মনে হয় না। সেই ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এবারের টি২০ বিশ্বকাপে না খেললে ক্রিকেট ক্ষতিগ্রস্ত  হবে। বাংলাদেশ ভারতের ক্রীড়া সম্পর্কে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হবে।

ঘটনা প্রবাহ কিন্তু টি২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ না করার বিষয়ে যৌক্তিক অবস্থানে সীমিত থাকলে ভালো  ছিল। কিন্তু সরকারি নির্দেশে ইতিমধ্যে বাংলাদেশ আইপিএল সম্প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারি  করেছে, চলতি বিপিএল সম্প্রচারে ভারতীয় ঋধিমা পাঠককে বাদ দিয়েছে। এমনিতেই জুলাই আগস্ট ২০২৫ সরকার পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ভারত সম্পর্ক এখন শীতল। মুস্তাফিজকে ঘিরে নতুন পরিস্থিতি সংকটকে আরো ঘনীভূত করবে।

আমি রাজনীতিকে ক্রিকেটের সঙ্গে মিলিয়ে মুস্তাফিজকে বাদ দেয়া ভারতীয় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টতা মনে করি। কিন্তু একই সঙ্গে বাংলাদেশ খুব দ্রুত খুব বেশি আক্রমণাত্মক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। বিসিবির উচিত ছিল মুস্তাফিজকে বাদ দেয়ার বিষয়ে কেকেআর এবং বিসিসিআইর কাছে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা চাওয়া এবং আইসিসিকে বাংলাদেশ দলের ভারতে খেলার সময় সার্বিক নিরাপত্তা প্রসঙ্গে গ্যারান্টি প্রদান নিশ্চিত করার অনুরোধ করা।

ভারত ঢিল ছুড়েছে বাংলাদেশ পাটকেল দিয়ে জবাব দিয়েছে। ফলশ্রুতিতে আইসিসি বাংলাদেশের খেলাগুলো শ্রীলংকায় স্থানান্তর করতে রাজী না হলে কি করবে বাংলাদেশ? বাংলাদেশ কি টি২০ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকবে? সেই ক্ষেত্রে ক্ষতি কার হবে? বাংলাদেশ ভারতের ক্রীড়া সম্পর্কে কি দীর্ঘ ক্ষতের সৃষ্টি হবে না?

আমি মনে করি আলোচনার পথ এখনো রুদ্ধ হয়নি। বাংলাদেশ এবং ভারতের মানুষদের মধ্যে পারস্পরিক সুসম্পর্কের ঘাটতি নেই। কিছু উগ্রবাদী গোষ্ঠী নানা অজুহাতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার ফলশ্রুতি মুস্তাফিজকে কেন্দ্র করে চলতি সংকট।

আমি মনে করি বাংলাদেশ এবং ভারতের উচিত পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধান। বাংলাদেশ টি২০ বিশ্বকাপ বর্জন করলে বাজে দৃষ্টান্ত সৃষ্টি হবে। বাংলাদেশ ভারত উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

5 × two =