প্রভাবশালী সঙ্গীতশিল্পীদের মধ্যে অন্যতম ফাহমিদা নবী। সঙ্গীত পরিবারে জন্ম তার। বাবা মাহমুদুন্নবী দেশের কিংবদন্তি সঙ্গীতজ্ঞ। বোন সামিনা চৌধুরীও নন্দিতদের একজন। ফাহমিদা নবীও জায়গা ভালোমতো পোক্ত করে নিয়েছেন মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে। অনেক জনপ্রিয় গান রয়েছে তার। আছে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। তবে নিজেকে একটি গণ্ডিতে বেঁধে রাখেননি ফাহমিদা। গাওয়ার পাশাপাশি লেখক সত্ত্বাও প্রকাশ পেয়েছে তার। অনেক আগে থেকেই পত্র-পত্রিকায় লিখছেন। সামাজিকমাধ্যমেও লেখক হিসেবে পরিচিতি অর্জন করেছেন। এবার অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০২৫-এ এই গায়িকা আত্মপ্রকাশ করেছেন লেখক হিসেবে। শব্দশিল্প প্রকাশনী থেকে বের হচ্ছে ‘ফাহমিদা নবীর ডায়েরি’। প্রচ্ছদ করেছেন চারু পিন্টু।
সামাজিকমাধ্যমে ফাহমিদা নবী নিজেই জানিয়েছিলেন বইয়ের কথা। ফেসবুকে বইয়ের প্রচ্ছদ প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘ছোটবেলা থেকেই আমার বাবার লেখা, কথার ভঙ্গী, গান গাইবার অনুভব আমাকে অনুপ্রাণিত করত। ফেসবুক পেজে ফাহমিদা নবী’স ডায়েরিতে নিয়মিত লিখি। অনেকেরই চাওয়া, আমার লেখাগুলোর একটি বই হোক। তাদের চাওয়া পূরণ করতেই এই বই।’
আরও লিখেছেন, ‘গানের গভীরতায় জীবনবোধ, আর চারপাশের যাপিত জীবন, কোনোটাই জীবনদর্শনের বাইরে নয়। তাই যা দেখি তা-ই নিজের মতো করে লিখি, ভাবনাগুলো নিয়ে ইতিবাচকতায় সমাধানের পথ খুঁজি আর লিখে ফেলি উপলব্ধি। দর্শন নিয়ে পড়েছিলাম বলেই জীবনের দর্শনে নিজেকে চেনা, জানা, বোঝার নানা দিক আমাকে ভীষণভাবে অনুপ্রাণিত করে। অল্পের গল্প আর সেই সঙ্গে নিজের উপলব্ধি ব্যাখ্যার মাধ্যমে নিজেও যেমন সহজ হতে চেষ্টা করি, তেমনি চাই মানুষও সহজ হোক আপন উপলব্ধিতে। বাঁচতে শিখুক ভালোবাসায়। জীবনকে জয় করুক সাহসী বিশ্বাসের মর্যাদায়।’
এরপর গায়িকা লিখেছেন, ‘সে কারণেই ফেসবুক পেজে ফাহমিদা নবী’স ডায়েরিতে নিয়মিত লিখি। যারা নিয়মিতভাবে পেজটির লেখা পড়েন, তারা আমার গানের পাশাপাশি লেখারও ভক্ত। তাদের অনেকেরই চাওয়া, আমার লেখাগুলোর একটি বই হোক, যেখানে সব লেখা একসাথে থাকবে। তাদের চাওয়ার ইচ্ছে পূরণ করতেই এই বই।’
সঞ্জয়কে নারী ভক্তের ৭২ কোটির সম্পত্তি দান
প্রিয় তারকাকে নিয়ে ভক্তদের উন্মাদনার শেষ নেই। কখনও সে পাগলামি রূপ নেয় আদিখ্যেতায়। আবার কখনও ছাড়ায় মাত্রা। তারকার জন্য ভক্ত এমন কাণ্ড ঘটিয়ে ফেলেন যা দেখে বা শুনে রীতিমতো তাজ্জব বনে যেতে হয়। এরকমই ঘটেছিল বলিউড তারকা সঞ্জয় দত্তের সঙ্গে। সঞ্জয় সাধারণত ব্যাড বয় হিসেবে খ্যাত। পর্দায়ও তার উপস্থিতি ছিল মারকুটে। জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন আকাশচুম্বী। নারী ভক্তের অভাব ছিল না তার। তাদেরই একজন ঘটিয়েছিলেন এক কাণ্ড। সঞ্জয়ের নামে লিখে দিয়েছিলেন ৭২ কোটি রুপি মূল্যের সম্পদ। নিশা পাতিল নামের ওই নারী ভক্ত মৃত্যুর আগে সঞ্জয়ের নামে ওই জায়গা উইল করে দিয়েছিলেন। ২০১৮ সালের ঘটনা। অভিনেতা নিজেও জানতেন না সেটি। সে বছর পুলিশের কাছ থেকে একটি ফোন আসে অভিনেতার নাম্বারে। তাকে জানানো হয় নিশা পাতিল নামের এক নারী তার সমস্ত সম্পত্তি সঞ্জয়ের নামে লিখে দিয়েছেন। যার পরিমাণ ৭২ কোটি রুপি। এমনকি ব্যাংকগুলোকেও অবগত করে গিয়েছিলেন নিশা। চিঠি লিখে জানিয়েছিলেন, আর সমস্ত কিছু যেন সঞ্জয়কে দিয়ে দেওয়া হয়।
এদিকে বিষয়টি জেনে হাঁ হয়ে যান সঞ্জয় দত্ত। অচেনা অজানা এক নারী তার সমস্ত সম্পত্তির উত্তরাধিকার করে গেলেন তাকে! ভাবতে পারছিলেন না তিনি। তবে বিচক্ষণ সঞ্জয় কখনই ওই সম্পত্তি দাবি করেননি। এবং এ-ও জানিয়েছেন তিনি নিশাকে ব্যক্তিগতভাবে চিনতেন না। তবে এমন ঘটনায় তিনি আনন্দিত হয়েছেন বলে জানিয়েছিলেন।
বলিউডে প্রায় সাড়ে চার দশক কাটিয়েছেন সঞ্জয়। পথচলা শুরু হয়েছিল ১৯৮১ সালে। রকি সিনেমার মাধ্যমে। প্রথম সিনেমা দিয়েই পেয়েছিলেন কাক্সিক্ষত সাফল্য। ফলে আর পেছনে তাকাতে হয়নি। একে একে উপহার দিয়েছেন সব ব্যবসাসফল সিনেমা। বলিউডে জায়গা করে নিয়েছেন অন্যতম অভিনেতাদের কাতারে। পা রেখেছেন দক্ষিণী সিনেমায়। ‘কেজিএফ চ্যাপ্টার ২’-এ খল চরিত্রে দেখা গিয়েছিল তাকে। অভিনয় করেছেন থালাপাতি বিজয়ের ‘লিও’ সিনেমায়। কাজ করেছেন পর্দার আড়ালে। একাধিক সিনেমার প্রযোজক তিনি।
দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম যে সম্মান পেলেন ফারুক
বৈশ্বিক স্বীকৃতি সর্বদাই গর্বের। তা যদি হয় তৃতীয় বিশ্বের কোনো দেশের তবে যেন আরও অনুপ্রেরণা জোগায়। সম্প্রতি এরকমই একটি সম্মান বয়ে রয়েছেন দেশের রক ব্যান্ড ভাইকিংস-এর লিড গিটারিস্ট ফারুক হোসেন (শুভ)। দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম শিল্পী হিসেবে ওয়াম্পলার পেডালস-এর আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি অর্জন করেছেন। খবরটি জানাতে দেরি করেনি ব্যান্ড ভাইকিংস।
নিজেদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ তথ্য প্রকাশ করেছে তারা। ওই বিবৃতিতে ভাইকিংস বলেছে, ‘ওয়াম্পলার পেডালস-এর স্বীকৃতি পাওয়া ফারুকের জন্য নিঃসন্দেহে একটি অসাধারণ অর্জন। তিনি তার নাম ওয়াম্পলারের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে অন্তর্ভুক্ত করে বৈশ্বিকভাবে স্বীকৃত একজন গিটারিস্ট হিসেবে তার অবস্থান আরও দৃঢ় করেছেন। তার গভীর আবেগপূর্ণ ও শক্তিশালী সঙ্গীত পরিবেশনের দক্ষতা ওয়াম্পলারের উদ্দেশ্যের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা সঙ্গীতশিল্পীদের সৃজনশীলতাকে আরও ফুটিয়ে তুলতে সহায়তা করে।’
আরও বলা হয়, ‘দক্ষিণ এশিয়ার সঙ্গীত জগতে দীর্ঘদিন ধরে যার একটি শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে, সেই ফারুক হলেন ভাইকিংস ব্যান্ডের অন্যতম সদস্য। জোড়ি’র মতো চার্ট-টপিং গান বহু প্রজন্মের সঙ্গীতপ্রেমীদের অনুপ্রাণিত করেছে। একটি বিশ্বমানের ব্র্যান্ডের স্বীকৃতির মাধ্যমে তা আরও দৃঢ় হলো।’
ভাইকিংস জানায়, ওয়াম্পলার পেডালস-এর অফিশিয়াল শিল্পী হিসেবে ফারুক এখন ব্র্যাড পেইসলি ও ব্রেন্ট মেসনের মতো বিশ্বখ্যাত সঙ্গীতশিল্পীর অভিজাত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। এটি বাংলাদেশের সঙ্গীতশিল্পীদের জন্য এক নতুন দ্বার উন্মোচন করবে, যা আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও স্বীকৃতির পথ প্রশস্ত করবে।
এদিকে এমন সম্মান পেয়ে উচ্ছ্বসিত ফারুক। তার কথায়, ‘এই স্বীকৃতি বাংলাদেশের সঙ্গীতশিল্পীদের প্রতিভার প্রতি এক সম্মানসূচক স্বীকৃতি। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজের দেশকে তুলে ধরতে পারা আমার জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। ভাইকিংস, আমার পরিবার, বন্ধু এবং আমার সকল ভক্ত ও অনুসারীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা। তোমাদের অকুণ্ঠ সমর্থন আমার কাছে অমূল্য, এবং তোমাদের ছাড়া এই যাত্রা সম্ভব হতো না।’
বিষয়টি নিয়ে নিজের ফেসবুক পোস্টে ফারুক লেখেন, ‘ওয়াম্পলার পেডালস-এর প্রথম দক্ষিণ এশীয় অফিশিয়াল শিল্পী হিসেবে স্বীকৃতি পেয়ে আমি গর্বিত। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে পারা বিশাল একটি সম্মান। ওয়াম্পলার, যা যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক, গিটার ইফেক্টস পেডাল তৈরিতে অন্যতম সেরা (শুধু আমি এটির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর বলেই নয়, সত্যিই অসাধারণ)। আমি বহু বছর ধরে এটি ব্যবহার করছি, এগুলো সত্যিই অবিশ্বাস্য। এটি আমার সঙ্গীত জীবনের এক বিশাল মাইলফলক, এবং আমি দারুণ উচ্ছ্বসিত!’
আরও লেখেন, ‘ভাইকিংস, আমার পরিবার, বন্ধু এবং আমার ভক্তদের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা, যারা আমাকে এই যাত্রায় সমর্থন করেছেন। তোমাদের বিশ্বাস আমাকে প্রতিনিয়ত সামনে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে এবং আমি কৃতজ্ঞ। চলুন, আরও সঙ্গীত তৈরি করি এবং আরও অসাধারণ সুরের দিকে এগিয়ে যাই!’
ওয়াম্পলার পেডালস যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের মার্টিনসভিলে অবস্থিত। এটি একটি বিখ্যাত বুটিক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান। বিশ্বব্যাপী উচ্চমানের গিটার ইফেক্টস পেডাল তৈরি করে তারা। প্রতিষ্ঠানটি ২০০৭ সালে ব্রায়ান ওয়াম্পলারের হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত। এই কোম্পানিটি ওভারড্রাইভ, ডিস্টরশন, ফাজ এবং মডুলেশনের জন্য উদ্ভাবনী এবং চমৎকার ডিজাইন করা পেডালের জন্য খ্যাতি পায়। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় অনেক সঙ্গীতশিল্পী তাদের পেডাল ব্যবহার করে থাকেন।
ভারতে এড শিরানের গানে পুলিশি বাধা
ব্রিটিশ গায়ক এড শিরানের দারুণ জনপ্রিয়তা রয়েছে ভারতে। এর আগে কনসার্ট করতে এসে মন জয় করেছিলেন শ্রোতাদের। চলতি বছরও গান শোনাতে ভারতে এসেছেন। বেঙ্গালুরুতে কনসার্ট করার কথা ছিল তার। এর আগে গিটার হাতে নেমেছিলেন বেঙ্গালুরুর রাস্তায়। চার্চ স্ট্রিটে হঠাৎই ফুটপাথে গান গাইতে দেখা যায় তাকে। পরনে সাদা টি শার্ট, হাফ প্যান্ট। গিটার নিয়ে মাইক হাতে ‘শেপ অফ ইউ’ গানটি গাইছিলেন শিল্পী। ধীরে ধীরে লোক জমছিল।
ঠিক এমন সময় হাজির হয় বেরসিক পুলিশ। তারা এডের গান তো বন্ধ করে দেয়ই পাশাপাশি মাইকের তারও বিচ্ছিন্ন করে। এরপরও খালি গলায় কিছুক্ষণ গান করেন এড। এদিকে গানে বাধা দেওয়ার ওই ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিকমাধ্যমে। যা দেখে সমালোচনায় মেতেছেন নেটিজেনরা। তারা পুলিশকে ধুয়ে দিয়েছেন। কেউ কেউ মনে করছেন পুলিশের কাজ পুলিশ করেছে। তবে এ বিষয়ে এড কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।
লেখাটির পিডিএফ দেখতে চাইলে ক্লিক করুন: ফ্রেমবন্দি