
সংশ্লিট অনেক পক্ষের অসহযোগিতা এবং বিরোধিতা মোকাবিলা করে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বিসিবি সফলভাবে বিপিএল শেষ করেছে। ঘরের ছেলে নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বে রাজশাহী ওরিয়ার্স ফাইনালে চট্টগ্রাম রয়্যালসকে ৬৩ রানে পরাজিত করে দাপটের সঙ্গে বিপিএল শিরোপা জিতে নিয়েছে।
ক্রিকেট কূটনীতির শিকারে পরিণত হয়ে বাংলাদেশের টি২০ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ এখন অনিশ্চিত। স্থানীয় ক্রিকেট এবং বিসিবি এবং ক্লাবসমূহের দ্বন্দ্বে স্থবির এমনি অবস্থায় ৬ দলের অংশগ্রহণে বিপিএল ২০২৫-২৬ নানা কারণেই বিসিবির অন্যতম মাইলস্টোন হিসাবে বিবেচিত হবে।
এবারের বিপিএল অপেক্ষাকৃত সুশৃঙ্খলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে, আম্পায়ারিং নিয়ে খুব একটা অভিযোগ ছিল না। ম্যাচগুলো নিয়ে ফিক্সিং অভিযোগ হয়নি, ব্রডকাস্টিং মান ছিল উন্নততর। ট্রফি উন্মোচনে ছিল ব্যতিক্রম। ফ্র্যাঞ্চাইজিদের বিরুদ্ধে খেলোয়াড়দের পাওনা পরিশোধে কোন অভিযোগ আপাতত আসেনি।
তবে শুরুতেই টুর্মামেন্টে দ্বিতীয় হিসাবে শেষ করা চট্টগ্রাম রয়্যালসের মালিক সরে যাওয়ায় বিসিবিকে দলের দায়িত্ব নিতে হয়েছে। আমি মনে করি বিদ্যমান অবস্থায় সফল আয়োজনের জন্য বিসিবি সাধুবাদ পেতেই পারে।
যোগ্য দল হিসাবেই শিরোপা জিতেছে রাজশাহী
ছয় দলের টুর্নামেন্টে খেলোয়াড় স্কোয়াড নির্বাচনে এগিয়ে ছিল নিঃসন্দেহে রংপুর রাইডার্স। রাজশাহী ওয়ারিয়ার্সকে ১৭৪/৪ ধরা হয়েছিল দ্বিতীয় ফেভারিট হিসাবে। তবে গ্রুপ পর্যায়ের খেলাগুলোতে সুষম পারফরম্যান্স করে পয়েন্টস তালিকার শীর্ষ স্থানে শেষ করেছিল রাজশাহীর ফ্রাঞ্চাইজ।
অন্যদিকে অপেক্ষাকৃত খর্বশক্তির দল নিয়েও সবাইকে বিস্মিত করে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল চট্টগ্রাম রয়্যালস। এমনকি কোয়ালিফায়ার্স ম্যাচে হারিয়েছিল রাজশাহী দলকে। কিন্তু ফাইনালে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে দাঁড়াতেই পারলো না চট্টগ্রাম। রাজশাহী কোয়ালিফায়ার্সে চট্টগ্রামের কাছে হোঁচট খাওয়ার পর রংপুর রাইডার্সকে হাড্ডাহাডি লড়াইয়ে হারিয়ে ফাইনালে ফিরে আসে। ফাইনালে ক্লিনিকাল পারফরমেন্স করে দাপটের সঙ্গে জিতে নেয় শিরোপা।
বিপিএল ২০২৬ ফাইনাল
রাজশাহী ওয়ারিয়র্স : চট্টগ্রাম রয়্যালস, শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম, ঢাকা
রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ১৭৪/৪ (তানজিদ হাসান তামিম ১০০, শাহিবজাদা ফারহান ৩০, কেন উইল্লিয়ামসন ২৪, মুকিদুল ইসলাম ২/২০, শরিফুল ইসলাম ২/৩৩)
চট্টগ্রাম রয়্যালস ১১১ অল আউট (মির্জা বেগ ৩৯, আসিফ আলী ২১, বিনুরা ফের্নান্দো ৪/৯, হাসান মুরাদ ৩/১৫, জেমস নিশাম ২/২৪)
পরিকল্পনা অনুযায়ী সিলেট, চট্টগ্রাম এবং ঢাকা তিন ভেনুতে অনুষ্ঠিত হবার কথা ছিল এবারের বিপিএল। সব প্রস্তুতি সেভাবেই নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দুৰ্ভাগ্যজনক ভাবে টুর্নামেন্ট চলাকালে বাংলাদেশের তিনবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী জনপ্রিয় নেত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জাতীয় শোকদিবস পালনের কারণে চট্টগ্রাম পর্ব বাতিল করে খেলাগুলো সিলেটে অনুষ্ঠিত হয়।
তীব্র শীত এবং রাতের কুয়াশা থাকা সত্ত্বেও উইকেট ভালো থাকায় নিয়মিত ১৭০-১৮০ এমনকি একটি খেলায় ২০০ স্কোর হয়। খুব ভালো মানের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার না থাকলেও পাকিস্তান। শ্রীলংকা, নিউজিল্যান্ড এবং ইংল্যান্ডের কয়েকজন খ্যাতিমান খেলোয়াড় এবার বিপিএল খেলেছে। বাংলাদেশ জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা নিয়মিত সাফল্য না পেয়েছে বলবো না. বিশেষত ঢাকার শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামের উইকেট আদৌ টি২০ উপযোগী ছিল না।
ফাইনাল খেলায় তানজিদ তামিমের ৬২ বলে দুর্দান্ত ১০০ রানের উপর ভর করে ১৭৪ রান ম্যাচ জয়ী পুঁজি এনে দেয়। জবাবে শ্রীলংকান পেসার বিনুরা ফার্নান্ডোর দুর্দান্ত বোলিং ৪/৯ এর সঙ্গে হাসান মুরাদের ৩/১৫ যুক্ত হলে মাত্র ১১১ রানে গুটিয়ে যায় চট্টগ্রাম।
৬৩ রানের বিশাল ব্যাবধানে দাপুটে জয়ে শিরোপা জিতে নেয় উত্তরবাংলার ক্রিকেটপ্রেমী রাজশাহী। রাজশাহীর হয়ে শেষ দুটি ম্যাচে অবদান রাখে নিউজিল্যান্ডের সর্বযুগের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান কেন উইলিয়ামসন।
৬ চার আর ৭ ছক্কায় সাজানো ১০০ রান আর দুটি ক্যাচ লুফে নেয়ায় ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় পুরুস্কার লুফে নেয় তানজিদ। আর টুর্নামেন্টে ২৬ উইকেটের নতুন মাইলফলক স্থাপন করে বিপিএল ম্যান অফ দি সিরিজ অর্জন করে জাতীয় দলের পেসার শরিফুল ইসলাম।
বিপিএল বাংলাদেশের একমাত্র আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। যদিও নানা কারণে বিপিএল অন্যান্য ফ্রাঞ্চাইজের মতে ব্র্যান্ড ভ্যালু অর্জন করেনি। তবুও বিপন্ন সময়ে সফলভাবে টুর্নামেন্ট সমাপ্তির জন্য বিসিবি সাধুবাদ দাবি করতেই পারে। আশা করা যেতে পারে আগামীতে টুর্নামেন্ট আরো গতিশীল এবং প্রাণবন্ত হবে।