শ্রীকাইল-৫ কূপ থেকে প্রতিদিন ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ সম্ভব: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এমপি বলেছেন, শ্রীকাইল- ৫ কূপ থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। খবর বাসস

তিনি বলেন, এই গ্যাসক্ষেত্র থেকে আগামী প্রায় ১০ বছরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্যাস পাওয়া যাবে, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৬ হাজার ৮৩২ কোটি টাকা। এই গ্যাস যদি আমদানি করতে হতো, তাহলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি হতো।

আজ শনিবার কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার শ্রীকাইলে বাপেক্সের শ্রীকাইল-৫ মূল্যায়ন ও উন্নয়ন কূপ থেকে আবিষ্কৃত গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার। তাই জ্বালানি খাতে প্রতিটি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে, যাতে দেশের জনগণ জানতে পারেন তাদের সম্পদ কীভাবে উত্তোলন ও ব্যবহার করা হচ্ছে।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানি খাতে বর্তমানে অস্থিরতা বিরাজ করছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে অনেক দেশই জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের নিজস্ব গ্যাসক্ষেত্র থেকে নতুন গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়া বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক একটি খবর।

তিনি বলেন, বাপেক্সের দক্ষ প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের নিরলস পরিশ্রমের ফলেই এই কূপ থেকে গ্যাস উত্তোলন সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতেও তাদের দক্ষতা ও সক্ষমতার মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।

অমিত আরও বলেন, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ ধীরে ধীরে বাড়ানো হবে। বর্তমানে সরকার ভবিষ্যতে ৮২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। এটি শুধু পরিকল্পনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনার অংশ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, দেশের জ্বালানি খাতকে আমদানি নির্ভরতা থেকে বের করে এনে দেশীয় সম্পদের ওপর ভিত্তি করে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। দেশের মাটির নিচে থাকা প্রাকৃতিক সম্পদকে দেশীয় প্রকৌশলী ও প্রযুক্তির মাধ্যমে যথাযথভাবে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরে দেশের গ্যাসের চাহিদা দাঁড়াতে পারে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট প্রতিদিন। এই চাহিদার একটি বড় অংশ দেশীয় উৎপাদনের মাধ্যমে পূরণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

তিনি শ্রীকাইল গ্যাসক্ষেত্রের উন্নয়নে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, মুখলিসপুর ও মুরাদনগর এলাকার মানুষের সহযোগিতা না থাকলে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হতো না। দেশের উন্নয়ন এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনগণের এই সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

বাপেক্সের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের জ্বালানি খাতের উন্নয়নে তাদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের কিছু সমস্যার যৌক্তিক সমাধান খুঁজে বের করার জন্য সরকার কাজ করবে, যাতে তারা আরও দক্ষতার সঙ্গে দেশের জন্য কাজ করতে পারেন।

প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, বাপেক্স, পেট্রোবাংলা এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ জ্বালানি খাতে উল্লেখযোগ্য স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে পারবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব সাইফুল ইসলাম। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. এরফানুল হক।অনুষ্ঠানে বাপেক্স ও পেট্রোবাংলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

11 + five =