
আর মাত্র কয়েকদিন পরে ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ আইসিসি টি২০ বিশ্বকাপ ভারত, শ্রীলংকায় হাইব্রিড পদ্ধতিতে শুরু হওয়ার কথা। ইতিমধ্যেই যৌক্তিক কারণে নিরাপত্তা শংকায় বাংলাদেশ ভারতে খেলতে অসম্মতি জানানোয় আইসিসি বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে নিয়েছে। কিন্তু অন্যতম সেরা দল পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে খেলতে অসম্মতি জানিয়েছে। একই সঙ্গে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণের সংবাদ ছড়িয়ে পড়ায় প্রথমে ইংল্যান্ড এবং এর পর অস্ট্রেলিয়া উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
বাংলাদেশকে তাদের অনুরোধ অনুযায়ী শ্রীলংকায় খেলতে না দেয়ায় আইসিসি যথেষ্ট রেভিনিউ হারাবে। কিন্তু বিপুল ক্ষতি হবে পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে না খেলার সিদ্ধান্ত জানানোয়। পাকিস্তান-ভারত ব্লকবাস্টার ম্যাচ থেকে আইসিসি বিপুল পরিমাণ রেভিনিউ অর্জন করে। এমতাবস্থায় পাকিস্তান-ভারত পরবর্তী রাউন্ডে পরস্পরের মুখোমুখী হলে নতুন সংকট হবে। আর যদি নিপাহ ভাইরাস সংকট বৃদ্ধি পায় তাহলে সব ম্যাচ শ্রীলংকায় অথবা ভারতের বাইরে সরিয়ে নিতে হবে। সেই ক্ষেত্রে টুর্নামেন্ট স্থগিত করা ছাড়া গত্যন্তর থাকবে না।
ক্রিকেট বোদ্ধা মহল বাংলাদেশ বিষয়ে আইসিসির দ্বিমুখী নীতির কঠোর সমালোচনা করছে। সকল সদস্য দলের ক্ষেত্রে আইসিসি নীতি সমানভাবে প্রযোজ্য না হওয়ায় অনেকেই উষ্মা প্রকাশ করেছে। জানা গেছে, বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলংকায় স্থানান্তর করা বিষয়ে আইসিসি শ্রীলংকান বোর্ড বা সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি।
স্মরণে আছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলতে ভারত পাকিস্তানে যেতে অসম্মত হওয়ায় ভারতকে সব ম্যাচ দুবাইতে একই হোটেলে অবস্থান নিয়ে একই মাঠে খেলানোর অনুমতি দেয়া হয়েছে। একই ভাবে অনুর্ধ১৯ বিশ্বকাপের সকল খেলা ভারত দল জিম্বাবুয়েতে একই হোটেলে থেকে খেলছে।
বাংলাদেশ দলকে প্রতিটি ম্যাচ খেলতে একশহর থেকে অন্য শহরে ভ্রমণ করতে হয়েছে। কেন আইসিসি সব সময়ে দৃষ্টিকটুভাবে ভারতকে বিশেষ সুবিধা দিবে? ভারতের একজন খ্যাতিমান সাংবাদিক সঠিক বলেছেন, আইসিসির হেড অফিস ভারত ক্রিকেট বোর্ডের দুবাই অফিস।
ক্রিকেটের বিশ্বসংস্থার একচোখা নীতির কারণে সব সংকটের সৃষ্টি হচ্ছে। এভাবে চললে একসময় ক্রিকেটের সব বিশ্ব আয়োজন শুধু মাত্র ইংল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে যাবে।ব্যর্থ হবে ক্রিকেটের বিশ্বায়ন।