সাবালেঙ্কাকে হারিয়ে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের শিরোপা জিতলেন রিবাকিনা

বিশ্বের এক নম্বর খেলোয়াড় আরিনা সাবালেঙ্কার বিপক্ষে প্রতিশোধ নিয়ে শনিবার রুদ্ধশ্বাস অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ফাইনাল জিতে নিজের দ্বিতীয় গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা জিতলেন এলিনা রিবাকিনা। খবর বাসস

শক্তিশালী সার্ভিসের জন্য পরিচিত কাজাখস্তানের পঞ্চম বাছাই রিবাকিনা রড লেভার অ্যারেনায় ২ ঘণ্টা ১৮ মিনিটের লড়াইয়ে ৬-৪, ৪-৬, ৬-৪ সেটের জয় তুলে নেন। এটি ছিল ২০২৩ সালের ফাইনালের প্রতিশোধ, যেখানে নারী টেনিসের দুই শক্তিশালী হিটারের লড়াইয়ে জয়ী হয়েছিলেন বেলারুশের সাবালেঙ্কা।

২৬ বছর বয়সী, মস্কোতে জন্ম নেওয়া শান্ত-স্থির রিবাকিনা ২০২২ সালের উইম্বলডন জয়ের পর দ্বিতীয় গ্র্যান্ড স্ল্যাম হিসেবে এবার মেলবোর্নের ট্রফিটিও নিজের করে নিলেন। ম্যাচ শেষে উচ্ছসিত রিবাকিনা বলেন, “এখন কথাগুলো খুঁজে পাওয়া কঠিন।’

পরাজিত প্রতিপক্ষকে উদ্দেশ্য করে তিনি যোগ করেন, “আমি জানি এটা কঠিন, কিন্তু আশা করি আমরা একসঙ্গে আরও অনেক ফাইনাল খেলব।” গ্যালারিতে থাকা কিছু কাজাখ সমর্থকের দিকে তাকিয়ে তিনি বলেন, “কাজাখস্তানকে অনেক ধন্যবাদ। এদিক থেকে আমি দারুণ সমর্থন অনুভব করেছি।”

অন্যদিকে সাবালেঙ্কার জন্য এটি আবারও কোনো বড় ফাইনালে হতাশার গল্প। তিনি গত বছর দ্বিতীয়বার ইউএস ওপেন জিতলেও ফ্রেঞ্চ ওপেন ও মেলবোর্নের ফাইনালে হেরেছেন। টানা চতুর্থবারের মতো অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ফাইনালে ওঠা সাবালেঙ্কা পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত খেলেছেন ছিলেন, তবে ম্যাচ শেষে চোখে জল ছিল তার।

“আশা করি, হয়তো আগামী বছরটা আমার জন্য ভালো হবে,” হতাশ স্বরে বলেন সাবালেঙ্কা।

মেলবোর্নে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির কারণে ছাদ বন্ধ রেখে ম্যাচ শুরু হয়। শুরুতেই রিবাকিনা সার্ভিস ব্রেক করে নিজের সার্ভিস ধরে ২-০’তে লিড নেন। ৪-৩ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা অবস্থায় তিনি দুটি ব্রেক পয়েন্টের মুখে পড়েন, তবে একটি এসসহ দারুণ সার্ভিস করে বিপদ কাটিয়ে ওঠেন, এতে সাবালেঙ্কাকে স্পষ্টতই হতাশ দেখায়।

রিবাকিনা পুরোপুরি ছন্দে থেকে ৩৭ মিনিটে প্রথম সেট পয়েন্টেই সাবালেঙ্কার শটটি বাইরে চলে গেলে সেটটি জিতে নেন । অবিশ্বাস্য হলেও, এটি ছিল ২০২৬ সালে সাবালেঙ্কার প্রথম সেট হার।

দ্বিতীয় সেটের দ্বিতীয় গেমটি ছিল উত্তেজনায় ভরা; ১০ মিনিটের লড়াইয়ে রিবাকিনা তিনটি ব্রেক পয়েন্ট বাঁচান। এরপর দু’জনই সার্ভিস ধওে রেখে এগিয়ে যেতে থাকেন। সপ্তম গেমে দীর্ঘ র‌্যালির পর সাবালেঙ্কা ৪-৩ ব্যবধানে এগিয়ে যান।

চাপ বাড়তে থাকে এবং ৫-৪ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে সাবালেঙ্কা রিবাকিনার সার্ভিসে তিনটি সেট পয়েন্ট পান। প্রথম সুযোগেই তিনি ম্যাচ সমতায় আনেন এবং ফাইনাল গড়ায় নির্ধারণী সেটে।

এবার ম্যাচের নিয়ন্ত্রণে ছিলেন সাবালেঙ্কা। দারুণ এক ব্যাকহ্যান্ডে ব্রেক করে ২-০, পরে সার্ভিস ধরে ৩-০’তে লিড নেন। ফাইনালে ওঠার পথে কোনো সেট না হারানো রিবাকিনাকে তখন কিছুটা বিচলিত মনে হচ্ছিল। তবে তিনি নিজেকে গুছিয়ে সার্ভিস ধরে রাখেন এবং পরে ব্রেক ফিরিয়ে আনেন। ৩-৩ সমতায় শিরোপা যেন যে কারও দিকে যেতে পারত।

কিন্তু দুর্দান্ত ছন্দে থাকা রিবাকিনা টানা চতুর্থ গেম জিতে ৪-৩ ব্যবধানে ব্রেক করেন, এরপর সার্ভিস ধরে রেখে রোমাঞ্চকর জয়ের একদম কাছাকাছি পৌঁছে যান। শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ষষ্ঠ এসটি মেরে শিরোপা নিশ্চিত করেন রিবাকিনা।

এর আগে দু’জনের মুখোমুখি লড়াই হয়েছিল ১৪ বার, যার আটটিতেই জয় পেয়েছিলেন সাবালেঙ্কা। ফাইনালে সাবালেঙ্কাই ছিলেন ফেভারিট, তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে নারী ট্যুরে রিবাকিনা ছিলেন অন্যতম সেরা ফর্মে থাকা খেলোয়াড়।

তিনি মৌসুম শেষের ডব্লিউটিএ ফাইনালেও সাবালেঙ্কাকে হারিয়েছিলেন। মেলবোর্নে রিবাকিনা কোয়ার্টার ফাইনালে দ্বিতীয় বাছাই ইগা সোয়াইতেক এবং সেমিফাইনালে ষষ্ঠ বাছাই জেসিকা পেগুলাকে পরাজিত করেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

12 − nine =