হাডাহাড্ডি লড়াইয়ের ম্যাচে হৃদয় ভাঙা পরাজয় আফগান দলের

ভারতের আহমেদাবাদে আজ মঙ্গলবার গ্রূপ ডি মৃত্যুকূপে দক্ষিণ আফ্রিকা আফগানিস্তান ম্যাচটি ছিল এযাবৎ টি২০ বিশ্বকাপের সর্বযুগের সেরা ম্যাচ।২০+২০=৪০ ওভার শেষে উভয় দলের স্কোর ১৮৭ টাই হওয়ায় খেলা গড়ায় সুপার ওভারে। প্রথম দুই সুপার ওভার শেষেও দুই দলের স্কোর সমান হওয়ায় খেলা গড়ায় দ্বিতীয় সুপার ওভারে। দক্ষিণ আফ্রিকা ২৩ রান করায় আফগানদের প্রয়োজন পরে ২৪ রানের।ওদের ওভারের ৩, ৪ ও ৫ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে আজকের খেলার অন্যতম প্রধান চরিত্র রামানুল্লাহ গুরবাজ ম্যাচ নিয়ে যায় শেষ বলে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে  কেশব মহারাজের করা শেষ বলে আউট হয় গুরবাজ। আশা নিরাশার দোলক দোলায় দুলতে থাকা ম্যাচ জিতে গ্রূপে দক্ষিণ আফ্রিকার অবস্থান সুদৃঢ় হয়। আফগান দল পর পর দুই ম্যাচ হেরে প্রায় ছিটকে পড়েছে। অতিনাটকীয় কিছু না হলে আফগান বীরদের গ্রূপ পর্যায় থেকেই বিদায় নিতে হবে।

দক্ষিণ আফ্রিকা ১৮৭/৬ (রায়ান রিকেলটন ৬১, কুইন্টন ডি কক ৫৯, ব্রেভিস ২৩, মিলার ২০*। আজমাতুল্লাহ ওমারজাই ৩/৪১, রাশিদ খান ২/২৮)

আফগানিস্তান ১৮৭ অল আউট (রামানুল্লাহ গুরবাজ ৮৪, আজমাতুল্লাহ ওমারজাই ২২, রাশিদ খান ২০। লুঙ্গি এনজিডি ৩/২৬)

ম্যাচ টাই।

প্রথম সুপার ওভার টাই

দ্বিতীয় সুপার ওভার ৫ রানে জয়ী দক্ষিণ আফ্রিকা

টস জয় করে কাল দক্ষিণ আফ্রিকাকে ব্যাটিং করার আমন্ত্রণ জানিয়েছিল রাশিদ খান। ফজল হক ফারুকী দ্বিতীয় ওভারেই প্রোটিয়া অধিনায়ক এইডেন মার্করামের উইকেট তুলে নিয়ে শুভ সূচনা করেছিল। কিন্তু এরপর দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে রায়ান বিকেলটন (২৮ বলে ৫ চার, ৪ ছয়ে ৬১) আর কুইন্টন ডি কক (৪১ বলে ৫ চার, ৩ ছক্কায়) ১০ ওভারেই ১১৪ রান তুলে ভয় ধরিয়ে দিয়েছিলো আফগান দলে। এই সময় বল হাতে নিয়ে আফগান দলনায়ক রশিদ খান উপর্যুপুরি আঘাত হেরে ডি কক, রিকেলটনকে ফিরিয়ে দিলো। বদলে গেলো খেলার বাঁক। ১৩ ওভারে ৩/১২৭ থেকে অবশ্যই স্কোর ২০০+ হতে পারতো। হয়নি বল হাতে আজমাতুল্লাহ ওমারজাই (৩/৪১) দ্রুত ৩ উইকেট তুলে নেওয়ায়। দক্ষিণ আফ্রিকা ইনিংস কিছুটা দিশে হারিয়ে ১৮৭/৬ শেষ হয়।

আফগান দলের বাঁচা-মরার ম্যাচে সংগ্রাম করা ছাড়া বিকল্প ছিল না। সঠিক ছন্দেই শুরু করেছিল গুরবাজ-জাদরান জুটি। ৪.২ ওভারেই সংগৃহীত হলো ৫১ রান। এই সময় দ্রুত ইব্রাহিম জাদরান, গুলবাদিন নায়েব, সিদিকুল্লাহ অতল আউট হলেও দুর্দান্ত খেলতে থাকা রামানুল্লাহ গুরবাজ দক্ষিণ আফ্রিকা দলের মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অবশেষে ৪২ বলে ৪ চার, ৭ ছক্কায় গড়া ৮৪ রানে গুরবাজ বিদায় নিলে স্বস্তি আসে প্রোটিয়ানদের। কিন্তু আজমাতুল্লাহ ওমারজাই (২৩), রাশিদ খান (২০), নূর আহমেদ দ্রুত ১৫ রান করে আফগান দলকে জয়ের দরজায় নিয়ে যায়। শেষ বলে প্রয়োজন ছিল ১ রান। শেষ ব্যাটসম্যান ফজল হক ফারুকী রান আউটে কাটা পড়লে উভয় দলের স্কোর ১৮৭ হলে ম্যাচ গোড়ায় সুপার ওভারে। সুপার ওভারের নাটকীয় মঞ্চায়ন শুরুতে লিখছি।

আমি নিশ্চিত কালকের ম্যাচ বিশ্বজোড়া ক্রিকেট আমুদেরা দারুন উপভোগ করেছে। সাহসী আফগানদের জন্য সহানুভূতি তীরে এসে তরী ডোবার জন্য। ক্রিকেট আমাদের দীর্ঘদিন খেলাটির কথা সরণরে রাখবে। এমন ক্রিকেট নিয়ে গল্প কবিতা শুধু নয় মহাকাব্য রচিত হতে পারে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

five + nineteen =