সালেক সুফী
সুধীজন
ইচ্ছা ছিল স্বশরীরে উপস্থিত থেকে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আয়োজিত গ্যাস মূল্যবৃদ্ধির গণ শুনানিতে অংশগ্রহণের। চাইছিলাম ডিজিটালি সংযুক্ত থাকতে। দুটোর কোনটি হলো না. দেখলাম জ্বালানি মন্ত্রনালয়ের উপদেশে পেট্রোবাংলা গ্যাস সরবরাহ ব্যাবস্থায় আমদানী কৃত এলঙ্গির উচ্চ মূল্যের অভিঘাতের অজুহাতে নতুন শিল্প গ্রাহক এবং শিল্প কারখানাগুলোতে চালু থাকা ক্যাপটিভ বিদ্যুতে ব্যবহারকৃত গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে। আমি বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে সুদীর্ঘ ২৮ বছর কাজ এবং প্রবাসে জ্বালানি বিদ্যুৎ বিষয়ে দীর্ঘ দুই দশক কাজের অভিজ্ঞতা থেকে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধিকে বর্তমান সময়ে অযৌক্তিক এবং অগ্রহণযোগ্য মনে করি. সবাই জানি নিজেদের জ্বালানি সম্পদ উন্নয়ন এবং ব্যাবহারে শোচনীয় ব্যার্থতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে অত্যাধিক মূল্যে এলএনজি আমদানি অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। এর দায় কোন ভাবেই কোন গ্রাহক বিশেষত শিল্প গ্রাহকদের উপর বর্তানো সুযোগ নাই. সরকারকেই এই দায় বহন করতে হবে.
সরকার ইতি পূর্বে সকল শিল্প গ্রাহকদের মানসম্মত গ্যাস সার্বক্ষণিক ভাবে সরবরাহ করার নিশ্চয়তা দিয়ে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করেছিল। শিল্প গ্রাহক সহ সকল গ্রাহক সেই অনুযায়ী মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত মেনে নিলেও সরকার চাহিদা মাফিক গ্যাস সরবরাহে নিদারুন ভাবে বার্থ হয়েছে। অনেক ক্ষুদ্র মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গাছে। অধিকাংশ শিল্প বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। গ্রিড বিদ্যুৎ সরবরাহের নিশ্চিত ব্যবস্থা গৃহীত হয় নি. এমতাবস্থায় নতুন শিল্পে ব্যবহারের জন্য এবং ক্যাপটিভ বিদ্যুতে ব্যবহার করার গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করা হলে নতুন শিল্প স্থাপন দারুন ভাবে নিরুৎসাহিত হবে এবং চালু শিল্পগুলো মুখ থুবড়ে পড়বে। তদুপুরি পেট্রোবাংলা আগামী ৩-৪ বছরে শিল্পে চাহিদা মোতাবেক গ্যাস সরবরাহ দিতে পারবে না। আমি নিজে মাওনা ,গাজীপুর ,টঙ্গী ,আশুলিয়া ,যমুনা নদীর পশ্চিম পারে গ্যাস স্থাপনাযা গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির নাজুক অবস্থা দেখেছি। ভালোভাবেই জানি গ্যাস বিতরণ ব্যাবস্থায় অসংক্ষ অবৈধ গ্যাস সংযোগ রয়েছে। অনেক গ্যাস অবকাঠামো অবিবেচনা প্রসূতভাবে নির্মাণ করে সরকারি অর্থের অপচয় করা হয়েছে। পেট্রোবাংলা এবং জ্বালানি মন্ত্রণালয় অবৈধ গ্যাস ব্যবহার শুন্যের পর্যায়ে আন্তে পারলে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির কোন প্রয়োজন পড়বে না.
পেট্রোবাংলা এবং কোম্পানীসমূহের পরিচালনাগত নানা অযাচিত ব্যায় কমানো হলে গ্যাস মূল্য বৃদ্ধির প্রয়োজন হবে না. আমি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে অনুরোধ করবো পেট্রোববাংলা কোম্পানিসমূহকে এফিসিয়েনসি অডিটের আওতায় এনে ব্যায় কমানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে এবং ভবিষ্যতে সকল প্রকল্প সমূহ গ্রহণের ক্ষেত্রে বার্কের প্রাক অনুমোদন গ্রহণ করতে।
বিশ্বায়নের বর্তমান পর্যায়ে বাংলাদেশের শিল্প পণ্য বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে শিল্পে ব্যাবহার্জ গ্যাসের মূল্য বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই. আমি বর্তমান পরিস্থিতির জন্য সরকার তথা জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের ব্যার্থতাকে দায়ী করবো।