দীপিকা পাড়ুকোন মানেই এক দৃঢ়চেতা, সচেতন ও সাহসী ব্যক্তিত্ব। বলিউডে টানা ১৮ বছরের পথচলায় তিনি শুধু শীর্ষ অভিনেত্রীই নন, বরং সময়ের অন্যতম প্রভাবশালী নারী কণ্ঠ। সোমবার (৫ জানুয়ারি) এই তারকার জন্মদিন।
২০০৫ সালে মডেলিং দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করা দীপিকা ২০০৭ সালে শাহরুখ খানের বিপরীতে ‘ওম শান্তি ওম’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক করেন। প্রথম ছবিতেই বাজিমাত করা এই অভিনেত্রী এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাননি।
‘লাভ আজ কাল’, ‘পিকু’, ‘বাজিরাও মাস্তানি’, ‘পদ্মাবত’, ‘ছপক’, ‘পাঠান’—একটির পর একটি আলোচিত ও বাণিজ্যিকভাবে সফল সিনেমা তাঁকে পৌঁছে দিয়েছে বলিউডের শীর্ষে। তবে দীপিকার পরিচয় শুধু পর্দার সাফল্যে সীমাবদ্ধ নয়। বাস্তব জীবনেও তিনি বারবার সাহসী সিদ্ধান্ত ও সামাজিক অবস্থানের মাধ্যমে নিজের আলাদা জায়গা তৈরি করেছেন।
২০১৫ সালে নিজের দীর্ঘদিনের অবসাদ নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলে ভারতীয় বিনোদন অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেন দীপিকা। মানসিক স্বাস্থ্য যে লুকিয়ে রাখার বিষয় নয়, বরং সচেতনতার জায়গা—এই বার্তা ছড়িয়ে দিতে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘লিভ লাভ লাফ’। এই সংস্থা মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা ও কাউন্সেলিং নিয়ে দেশ-বিদেশে কাজ করছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামেও তিনি নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন।
বলিউডে নারী-পুরুষের পারিশ্রমিক বৈষম্য নিয়ে বরাবরই সোচ্চার দীপিকা। একাধিকবার পুরুষ সহ-অভিনেতার তুলনায় কম পারিশ্রমিকের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি। তার স্পষ্ট বক্তব্য, ‘আমি আমার কাজের মূল্য জানি, আর সেই মূল্য থেকেই আমার পারিশ্রমিক নির্ধারিত হওয়া উচিত।’
ব্যস্ত বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে দীপিকা ঘোষণা দিয়েছেন, দিনে আট ঘণ্টার বেশি কাজ করবেন না। বড় বাজেটের ছবি হাতছাড়া হলেও তিনি নিজের এই সিদ্ধান্তে অটল থেকেছেন। তার এই অবস্থান পরবর্তীতে অনেক তারকার জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে।
আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে দীপিকা সবসময় সংস্কৃতির প্রতি সম্মান দেখিয়েছেন। আবুধাবির মসজিদে হিজাব পরা বিজ্ঞাপন থেকে শুরু করে কান চলচ্চিত্র উৎসবে শাড়ি পরে হাজির হওয়া—সব ক্ষেত্রেই তিনি তুলে ধরেছেন ভারতীয় ঐতিহ্য ও বহুত্ববাদী চেতনাকে।
নারীর স্বাধীনতা, শরীর ও সিদ্ধান্তের অধিকার নিয়ে সবসময় সোচ্চার দীপিকা। অ্যাসিড হামলায় আক্রান্ত নারীর গল্প নিয়ে নির্মিত ‘ছপক’ সিনেমায় অভিনয় করে তিনি সামাজিক বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন মূলধারার দর্শকের কাছে।
২০২০ সালে জেএনইউতে এনআরসি ও সিএএ-বিরোধী আন্দোলনের সময় নীরবে উপস্থিত হয়ে সংহতি জানানোর ঘটনাও তাকে এনে দেয় ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। বিতর্ক হলেও নিজের অবস্থান থেকে সরে যাননি তিনি।
চার দশকের জীবনে দীপিকা পাড়ুকোন প্রমাণ করেছেন—তিনি শুধু একজন সফল অভিনেত্রী নন, বরং সময়ের সাহসী নারী নেত্রী, যিনি আলোচনার কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে সমাজকে প্রশ্ন করতে জানেন। পর্দার ভেতর ও বাইরে—দুই জায়গাতেই তার প্রভাব আজ অনস্বীকার্য।