বিপিএলে সহজেই জিতেছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। নোয়াখালী এক্সপ্রেসকে ৪ উইকেটে হারিয়ে শেষ হাসি হেসেছে রাজশাহী। এই নিয়ে এবারের আসরে ৬ ম্যাচ খেলে ৬টিতেই হেরেছে নোয়াখালী। বিপিএল ইতিহাসে প্রথম ৫ ম্যাচ হেরে আগের ম্যাচেই রেকর্ড গড়েছিল নোয়াখালী, এবার নিজেদের রেকর্ডই নিয়ে গেল ৬ ম্যাচে।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে জিতে আগে ফিল্ডিংয়ে নামে রাজশাহী। ব্যাট করতে নামা নোয়াখালীর দুই ওপেনার শাহাদাত হোসেন দিপু এবং সৌম্য সরকার এগিয়েছেন দেখেশুনে। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে বিনা উইকেটে ৪১ রান তোলে নোয়াখালী।
পাওয়ারপ্লে শেষে বেশিক্ষণ টেকেননি দিপু। ২৮ বলে ৩০ রান করে বিদায় নেন দিপু। ওপেনিং জুটি থেকে আসে ৫৭ রান। তিনে নেমে সুবিধা করতে পারেননি মাজ সাদাকাত। ১৩ বলে ৭ রান করে বিদায় নেন তিনি।
এক প্রান্ত আগলে রেখে খেলেন সৌম্য সরকার। সাদাকাতের বিদায়ের পর ক্রিজে আসেন মোহাম্মদ নবী। কৌশলী ব্যাটিংয়ে সৌম্য তুলে নেন ফিফটি। ফিফটির পর যদিও থামতে হয়েছে সৌম্যকে। ৪৩ বলে ৫৯ রান করে দলের ১২৩ রানের মাথাতে বিদায় নেন সৌম্য সরকার।
শেষ দিকে ঝড়ো ব্যাটিং চালান মোহাম্মদ নবী। বের করেছেন একের পর এক বাউন্ডারি। শেষের আগের ওভারে আউট হন নবী। ২৬ বলে ৩৫ রান করে দলের ১৩৯ রানের মাথাতে থামেন তিনি।
নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৫১ রান তোলে নোয়াখালী এক্সপ্রেস। শেষের দিকে ৫ বলে ১০ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলেন মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের হয়ে ২ উইকেট নেন রিপন মণ্ডল। ১টি করে উইকেট নেন নাজমুল হোসেন শান্ত, বিনুরা ফার্নান্দো এবং রায়ান বার্ল।
জবাব দিতে নেমে তানজিদ হাসান তামিম এবং মোহাম্মদ ওয়াসিমের ব্যাটে ভালো শুরু পায় রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। শুরু থেকেই ভালো খেলেছেন ওয়াসিম। অন্য প্রান্তে তানজিদ খেলেন রয়েসয়ে। ওপেনিং জুটিতে রান আসে ৪৭। ২০ বলে ২১ রান করে বিদায় নেন তানজিদ তামিম। তিনে নামা নাজমুল হোসেন শান্ত করেন ৩ বলে ১ রান।
টিকে থাকা ওপেনার ওয়াসিম এক প্রান্ত আগলে রেখে খেলেন। চারে নেমে তার সাথে যোগ দেন মুশফিকুর রহিম। ওয়াসিম ছুঁয়ে ফেলেন ফিফটি। দুর্দান্ত এক ফিফটি হাঁকিয়ে ৩৫ বলে ৬০ রান করে দলের ১০৫ রানের মাথাতে সাজঘরে ফিরে যান মোহাম্মদ ওয়াসিম।
ওয়াসিম হন রান আউট। তাতে কিছুটা চাপে পড়ে যায় রাজশাহী। মুশফিকও বেশি একটা সুবিধা করতে পারেননি। ২২ বলে ১৯ রানের ইনিংস খেলে বিদায় নেন মুশফিকুর রহিম। মুশফিকের বিদায়ের পর দ্রুত আরও ২ উইকেট হারিয়ে ফেলে রাজশাহী।
বিদায় নেন ৬ বলে ৯ রান করা ইয়াসির আলী চৌধুরী এবং ৯ বলে ৮ রান করা এস এম মেহেরব হোসেন। তাতে চাপ আরও বাড়ে। যদিও এক প্রান্ত ধরে খেলেন রায়ান বার্ল। কৌশলী ব্যাটিংয়ে এগিয়েছেন বার্ল।
শেষ দিকে বার্লের ব্যাটে চড়েই জয়ের বন্দরে চলে যায় রাজশাহী। ৬ বল এবং ৪ উইকেট হাতে রেখে দারুণ এক জয় তুলে নেয় রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। ১৮ বলে ১৯ রান করে টিকে ছিলেন বার্ল।নোয়াখালী এক্সপ্রেসের হয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন মেহেদী হাসান রানা। ১টি করে উইকেট শিকার করেন মোহাম্মদ নবী এবং হাসান মাহমুদ।