বাংলাদেশ টি ২০ বিশ্বকাপ বয়কট করা সমীচীন হবে না

সালেক সুফী

আইপিএল ২০২৬ খেলার জন্য বাংলাদেশের কাটার মাস্টার খ্যাত মুস্তাফিজুর রহমানকে বলিউড আইকন শাহরুখ খান মালিকানাধীন কলকাতা নাইট রাইডার্স চুক্তিবদ্ধ করেছিল। কিন্তু কিছু উগ্রবাদী ভারতীয় সংগঠনের হুমকির মুখে বিসিসিআইয়ের পরামর্শে কলকাতা নাইট রাইডার্স অন্যায় ভাবে মুস্তাফিজকে ছেড়ে দিয়েছে। নিঃসন্দেহে ঘটনাটি নিন্দনীয় এবং অগ্রহনযোগ্য। ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশে বিসিবি বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ভারতে টি২০ বিশ্বকাপ খেলার জন্য দল পাঠানোর নিরাপত্তা বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করে আইসিসিকে বাংলাদেশের খেলাগুলো শ্রীলংকায় স্থানান্তর করার অনুরোধ করেছে। আইসিসি জবাবে নিরাপত্তা নিয়ে বিসিবির শঙ্কার বিষয়গুলো সুস্পষ্ট এবং বিস্তারিত জানাতে বলেছে।  বিসিবি সরকারের সঙ্গে আলাপ করে আইসিসির পত্রের জবাব দিয়েছে। শোনা যাচ্ছে আগামী কাল ১০ জানুয়ারী বিসিবি -আইসিসি আলোচনার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে।

স্মরণে রাখতে হবে বিশ্বকাপের মত বৈষয়িক আসরগুলো আয়োজন করে আইসিসি। হাইব্রিড পদ্ধতির এবারের টুর্নামেন্টের যৌথ আয়োজক ভারত এবং শ্রীলংকা।  পাকিস্তান এবং ভারতের বৈরী রাজনৈতিক সম্পর্কের কারণে পাকিস্তানের খেলাগুলো শ্রীলংকায় অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ গ্রুপ পর্যায়ের খেলাগুলোর ৩ টি খেলার কথা কলকাতা একটি মুম্বাইতে।  টুর্নামেন্ট শুরু হতে বাকি আছে এক মাসের কম সময়। বাস্তব পরিস্থিতির বিবেচনায় এই সময়ের মধ্যে ম্যাচগুলোর ভেন্যু শ্রীলংকায় স্থানান্তরের চ্যালেঞ্জ দুরূহ।  প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর সম্মতির ব্যাপার আছে। বাংলাদেশ সরকার করা নির্দেশ দিয়েছে বিদ্যমান অবস্থায় বাংলাদেশ ভারতে খেলতে যাবে না। সেই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ বয়কট করার ঝুঁকি নিতে হবে।

আমি মনে করি সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়ার কথা চিন্তা না করেই মুস্তাফিজ বিষয়ে হটকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিসিআই। একজন ক্রিকেটারকে ভারত নিরাপত্তা দিতে পারবে না এটি বিশ্বাসযোগ্য নয়। তবে বিষয়টির প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ মশা মারতে কামান দেগেছে।

বিষয়টি নিয়ে আলোচনার পর্যায়ে সরকার বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার নিষিদ্ধ করেছে। দুই দেশের মধ্যে ক্রীড়া সম্পর্কে গভীর অনিচয়তার সৃষ্টি হওয়ার উপক্রম হয়েছে। চুড়ান্ত পর্যায়ে বাংলাদেশ আইসিসি ইভেন্ট বয়কট করলে বাংলাদেশ ক্রিকেট দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এমনকি বিসিবির কার্যক্রমে সরকারের হস্তক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় আইসিসি বিসিবিকে সাসপেন্ড করতে পারে।

আমি মনে করি যদি আইসিসি এবং ভারত সরকার বাংলাদেশ দলকে নিচ্ছিদ্র রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয় এবং কলকাতা এবং মুম্বাই থেকে ম্যাচ ভেন্যু অপেক্ষাকৃত নিরাপদ ভারতীয় স্টেডিয়ামে সরিয়ে নেয় তাহলে বাংলাদেশ টুর্নামেন্ট বয়কট করা সমীচীন হবে না। আইসিসি কিন্তু বিষয়টি সহজ ভাবে নিবে না। দুই দেশের উগ্র গোষ্ঠীর প্ররোচনায় প্রভাবিত না হয়ে বিসিবি বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভবিষ্যতের বিবেচনায় সঠিক সিদ্ধান্ত নিবে বলে আসা রাখি।

সালেক সূফি, ক্রীড়া লেখক

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

five × 5 =