তানজিদের সেঞ্চুরিতে চট্টগ্রামকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী

ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমের সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের দ্বাদশ আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। খবর বাসস

শুক্রবার টুর্নামেন্টের ফাইনালে রাজশাহী ৬৩ রানে হারিয়েছে চট্টগ্রাম রয়্যালসকে। ৬২ বলে ১০০ রানের নান্দনিক ইনিংস খেলেন রাজশাহীর তানজিদ।

মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় চট্টগ্রাম রয়্যালস। ব্যাট হাতে নেমে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন দুই ওপেনার শাহিবজাদা ফারহান ও তানজিদ হাসান।

পাওয়ার প্লেতে ৪০ রান তুলেন তারা। সপ্তম ওভারে দলের রান পঞ্চাশ পূর্ণ করেন এই দুই ওপেনার। দশম ওভারে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের ২১তম হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তানজিদ। এজন্য ২৯ বল খেলেন তিনি।

১১তম ওভারের দ্বিতীয় বলে দলীয় ৮৩ রানে রাজশাহীর উদ্বোধনী ভাঙ্গেন চট্টগ্রামের পেসার মুকিদুল ইসলাম। ২টি চার ও ১টি ছক্কায় ৩০ বলে ৩০ রান করা ফারহানকে শিকার করেন মুকিদুল।

এরপর কেন উইলিয়ামসনকে নিয়ে ৩২ বলে ৪৭ রান যোগ করেন তানজিদ। জুটিতে ২টি চার ও ১টি ছক্কায় ১৫ বলে ২৪ রান করা উইলিয়ামসনকে থামান চট্টগ্রামের পেসার শরিফুল ইসলাম।

দলীয় ১৩০ রানে উইলিয়ামসন ফেরার পর ক্রিজে তানজিদের সঙ্গী হন জেমি নিশাম। তাদের ১৯ বলে ৩৩ রানের জুটিতে টি-টোয়েন্টিতে তৃতীয় সেঞ্চুরির দেখা পান ৬১ বল খেলা তানজিদ। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের সবগুলো সেঞ্চুরিই বিপিএলের মঞ্চে করেছেন তিনি। যা বাংলাদেশের ব্যাটারদের মধ্যে বিপিএলে সর্বোচ্চ।

তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে বিপিএলের ফাইনালে সেঞ্চুরি করলেন তানজিদ। এর আগে ২০১৭ সালে রংপুর রাইডার্সের হয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিস গেইল এবং ২০১৯ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের হয়ে সেঞ্চুরি করেছিলেন তামিম ইকবাল।

শেষ পর্যন্ত মুকিদুলের বলে আউট হন তানজিদ। ৬২ বল খেলে ৬টি চার ও ৭টি ছক্কায় ১০০ রান করেন এই বাঁ-হাতি ব্যাটার। ইনিংসের শেষ দিকে নিশাম ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ৭ বলে ১১ রানের জুটিতে ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ১৭৪ রানের সংগ্রহ পায় রাজশাহী।

বল হাতে চট্টগ্রামের শরিফুল ও মুকিদুল ২টি করে উইকেট নেন। বিপিএলের এক আসরে সবচেয়ে বেশি উইকেট শিকারে তাসকিন আহমেদের রেকর্ড ভাঙ্গেন শরিফুল। ১২ ম্যাচে ২৬ উইকেট নিয়ে এবারের বিপিএল শেষ করেন তিনি। গত আসরে দুর্বার রাজশাহীর হয়ে ১২ ম্যাচে ২৫ উইকেট নিয়েছিলেন তাসকিন।

১৭৫ রান তাড়া করতে নেমে সুবিধা করতে পারেনি চট্টগ্রামের ব্যাটাররা। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পতনে ৯২ রানে ষষ্ঠ ব্যাটারকে হারায় তারা। শেষ পর্যন্ত স্বীকৃত ব্যাটারদের ব্যর্থতায় ১৭.৫ ওভারে ১১১ রানে অলআউট হয় চট্টগ্রাম।

দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৯ রান করেন ওপেনার মির্জা বেগ। এছাড়া আসিফ আলি ২১, হাসান নাওয়াজ ও জাহিদুজ্জামান ১১ রান করে করেন। ৩ ওভারে ৯ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়ে রাজশাহীর জয়ে অবদান রাখেন পেসার বিনুরা ফার্নান্দো। এছাড়া হাসান মুরাদ ৩টি ও জেমস নিশাম ২টি উইকেট নেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

রাজশাহী ওয়ারিয়র্স: ১৭৪/৪, ২০ ওভার (তানজিদ ১০০, ফারহান ৩০, উইলিয়ামসন ২৪, শরিফুল ২/৩৩, মুকিদুল ২/২০)।

চট্টগ্রাম রয়্যালস: ১১১/১০, ১৭.৫ ওভার (মির্জা ৩৯, আসিফ ২১, বিনুরা ৪/৯, মুরাদ ৩/১৫)।

ফল: রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ৬৩ রানে জয়ী।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

1 × 1 =