বিসিবি অবশেষে সাকিবকে দলে ফেরানোর উদ্যোগ নিলো

টি২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ না করা নিয়ে ক্রিকেট অঙ্গন যখন টালমাতাল ঠিক তখনি জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরানোর জন্য বিসিবি বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের পোস্টার বয় দীর্ঘদিন সব ফরম্যাটের সেরা চৌকষ খেলোয়াড় শাকিব আল হাসানকে দলে ফেরানোর উদ্যোগ নিলো। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন জাগে কেন রাজনৈতিক কারণে বাংলাদেশের সর্বযুগের সেরা খেলোয়াড়কে জাতীয় দলে খেলতে দেয়া হয়নি।

কেন বিসিবি সাকিব বিষয়ে সরকারের নির্দেশ বিনা প্রতিবাদে মেনে নিয়েছিল? সম্প্রতি কি কয়েছে যার ফলে বিসিবি অবস্থান পরিবর্তন করলো? সাকিব চাইলে কিন্তু তার প্রতি অবিচারের বিষয়টি আইসিসির দৃষ্টিগোচর করে সুবিচার চাইতে পারতো। করেনি সেটি তার ঔদার্য্য। আমি সাকিব বিষয়ে বিসিবি পরিচালকদের সাংবাদিক সম্মেলন দেখলাম।

ইদানিং ক্রিকেট বিষয়ে একাধিক পরিচালক মিডিয়ায় কথা বলছে।  কেন বিসিবির হয়ে একজন নির্দিষ্ট মুখপাত্র মিডিয়ায় কথা বলে না। সাকিবকে যদি কেন্দ্রীয় চুক্তিতে ফেরানো হয় তাহলে তার নিরাপত্তাসহ সব কিছু দেখার দায়িত্ব বিসিবির উপর বর্তাবে। সাকিব দলে থাকলে হয়তো বাংলাদেশ নিকট অতীতে সব ফরম্যাটে আরো কিছু ম্যাচ জিততে পারতো। বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রেমিকসহ বিশ্ব ক্রিকেটকে বঞ্চিত করার দায় দায়িত্ব কে নিবে? আমি ক্রিকেটকে ক্রিকেটেই সীমাবদ্ধ রাখতে চাই।

প্রাসঙ্গিক বলেই লিখছি  টি২০ বিশকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বঞ্চিত হবার বিষয়টি কিন্তু পেশাদারি ভিত্তিতে দেখা হয়নি। মুস্তাফিজের সঙ্গে করা অবিচারের বিষয়টি নিয়ে বিসিবি কিন্তু প্রথমত আইপিএল বা বিসিসিআইর সঙ্গে সঠিকভাবে আলোচনা করেনি। সরকারের উপদেষ্টা ভারতবিদ্বেষী মনোভাব থেকেই সিদ্ধান্ত বিসিবির উপর চাপিয়ে দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়সহ জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে সঠিক সময়ে বিসিবি বা সরকারের উপদেষ্টা আলাপ করেনি।

মানলাম আইসিসিতে বিসিসিআইর প্রভাব প্রতাপ নিরংকুশ। কিন্তু ভারতে বাংলাদেশের খেলার ঝুঁকি নিয়ে যখন আইসিসি নিশ্চয়তা দিলো তখনও নিজেদের অবস্থানে গোঁ ধরে বসে থাকা অবিবেচকের কাজ হয়েছে। বাংলাদেশের অবস্থানকে পাকিস্তান ছাড়া অন্য কোন দেশ সমর্থন দেয়নি। বাংলাদেশের ক্রিকেট দূতিয়ালি সম্পূর্ণ বার্থ হয়েছে।

ভারত যখন অলিম্পিক গেমস, কমনওয়েলথ গেমস্ অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করছে তখন নিঃসন্দেহে বিশ্বকাপে  বাংলাদেশের জন্য সর্বোচ্চ নিশ্চয়তা নিশ্চিত করতো। এখন বাংলাদেশ নিজেদের গোয়ার্তুমির জন্য স্বল্পকালীন এবং মধ্যকালীন বিরূপ পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে।

আমিনুল ইসলাম বুলবুল নিজে আইসিসির নিয়ম-কানুন বিষয়ে বিশেষভাবে অবহিত। স্বাধীনতা থাকলে বিসিবি নিঃসন্দেহে বিষয়টি ভিন্নভাবে দেখত। আমি বাংলাদেশকে নিয়ে আইসিসির সিদ্ধান্তকে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছি। কিন্তু আইসিসি কিন্তু নিয়ম মেনে সঠিক পন্থায় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখানে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটেনি।  ভারত-পাকিস্তান বৈরিতার মতো বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক একই পর্যায়ে পৌঁছেনি।

বর্তমান সরকারের আয়ু আর কয়েক সপ্তাহ। কিন্তু দুই ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ ভূঁইয়া এবং আসিফ নজরুল বাংলাদেশ ক্রিকেটের বিরাট ক্ষতি করে গেলো। দুর্ভাগ্য বাংলাদেশ ক্রিকেট, ক্রিকেটার এবং ক্রিকেট সমাজের। ঘরের পাশে বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ হলো না কিছু মানুষের হঠকারিতায়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

1 × 4 =