বাংলাদেশকে ছাড়াই শুরু হচ্ছে টি২০ বিশ্বকাপ

সালেক সুফী

প্রতিবেশী দুই দেশ ভারত, শ্রীলংকায় কাল ৭ মার্চ শুরু হচ্ছে ক্রিকেটের বিশ্বকাপ। আইসিসির একচোখা সিদ্ধান্তে টি২০ বিশ্বকাপ ২০২৬ থেকে বঞ্চিত বাংলাদেশ। এবারের বিশ্বকাপে ২০ অংশগ্রহণকারী দল ৫৫ ম্যাচ খেলবে ভারতের ৫ টি এবং শ্রীলংকার ৩ টি ভেনুতে। প্রতিটি দলে আছে ১৫ খেলোয়াড়। ৭ ফেব্রুয়ারী শুরু হয়ে ৮ মার্চ পর্যন্ত চলবে টুর্নামেন্ট। ভারত পাকিস্তান বৈরী সম্পর্কের কারণে এক দেশ আরেক দেশে ক্রিকেট না খেলার কারণে টুর্নামেন্ট হাইব্রীড পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অথচ নিজেদের যোগ্যতায় বিশ্বকাপ খেলার অধিকার অর্জন করেও নিরাপত্তার কারণে ভারতে অনুষ্ঠিত ম্যাচগুলো শ্রীলংকায় স্থানান্তর করার যৌক্তিক অনুরোধ করেও হাইব্রিড টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ পেলো না বাংলাদেশ। শেষ মুহূর্তে বাংলাদেশকে বাইরে রেখে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে বাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো ক্রিকেটের তথাকথিত বিশ্ব সংগঠন আইসিসি। বাংলাদেশের প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে এবং আইসিসির বৈষম্য মূলক আচরণের প্রতিবাদে পাকিস্তান টুর্নামেন্টে ভারতের বিরুদ্ধে না খেলার ঘোষণা দিয়েছে। তাই এবারের টুর্নামেন্টে পাকিস্তান ভারত ব্লকবাস্টার দৈরথ অনুষ্ঠিত হচ্ছে না বলেই মনে হচ্ছে।

টুর্নামেন্টে বর্তমান ফর্ম ফিটনেস এবং চেনা পরিবেশের আনুকূল্য বিবেচনায় ভারত টুর্নামেন্ট জয়ের ফেভারিট দল। প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড দলের সঙ্গে। এবারের টুর্নামেন্টে আইসিসির পূর্ণ সদস্যের দেশগুলো সহ অনেক সহযোগী দেশ আছে। টি২০ অনেকটা জুয়া খেলার মত। নিদিষ্ট দিনে কোন দলের কোন একজন দুইজন খেলোয়াড়ের বিশেষ কৃতিত্বে ম্যাচে অঘটন ঘটতেও পারে।  আর সেই সক্ষমতা আছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নিউজিল্যান্ড  আফগানিস্তান, এমনকি আয়ারল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র দলের।

চার গ্রুপে বিভক্ত হয়ে ২০ দল প্রাথমিক রাউন্ডের ম্যাচগুলো খেলবে।

গ্রুপ এ: ভারত, পাকিস্তান, নামিবিয়া, নেদারল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র।

গ্রুপ বি: অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলংকা, আয়ারল্যান্ড, জিম্বাবুয়ে, ওমান।

গ্রুপ সি: ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, স্কটল্যান্ড, ইতালি, নেপাল।

গ্রুপ ডি: দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড, আফগানিস্তান, কানাডা, ইউএই।

প্রতিটি গ্রুপ থেকে শীর্ষ স্থানীয় দুটি দল খেলবে গ্রুপ অফ এইটে।  সেকেন্ড রাউন্ড শেষে শীর্ষস্থানীয় দুই দল  সেমী ফাইনাল শেষে মুখোমুখি হবে ফাইনালে। পাকিস্তান যদি শেষ পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে না খেলার সিদ্ধান্তে অটল থাকে তাহলে আইসিসি শুধু বিপুল রাজস্ব হারাবে না টুর্নামেন্টের আকর্ষণ দারুন ব্যাহত হবে।

ভারত স্কোয়াড: সূর্য কুমার ইয়াদাভ (অধিনায়ক), অভিষেক শর্মা, সানজু স্যামসং, ঈশান কিষান, রিংকু সিং, তিলক ভার্মা, শিবাম দুবে, হার্দিক পান্ডিয়া, আকসার প্যাটেল, ওয়াশিংটন সুন্দর, আর্শদীপ সিংহ, জাসপ্রিত বুমরা, হার্সিত রানা, কুলদীপ ইয়াদব,ভারুন চক্রওয়ার্দী।

অস্ট্রেলিয়া স্কোয়াড: মিচেল মার্শ (অধিনায়ক), ট্রাভিস হেড, টিম ডেভিড, জস ইংলিশ, ক্যামেরুন গ্রিন, কুপার কনোলি, মাট রেনেশো, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, মার্কাস স্ট্যানিস, নাথান এলিস, জস হেজেলউড, এডাম জাম্পা, মাথেউ কুনারমান, জেভিয়ার বার্টলেট, বেন দারিয়ুস।

ভারত টি ২০ দল এখন দুর্দান্ত দুর্বিনীত। দলে আছে ম্যাচ জয়ী দুর্বিনীত গভীর ব্যাটিং লাইন আপ। অভিষেক শর্মা, ঈশান কিষান, তিলক ভার্মা ,রিংকু সিংহ আছে তুখোড় মারকুটে ফর্মে, সঙ্গে আছে হার্দিক পান্ডিয়া, শিবাম দুবে। প্রথমে ব্যাটিং করে ২৩০-২৪০ এবং তাড়া করে ২৪০ অর্জন করে ম্যাচ জয় করছে নিয়মিত। দলে আছে জাসপ্রিত বুমরা, ভারুনের মত ম্যাচ জয়ী বোলার। একমাত্র ফিল্ডিং কিছুটা পিছিয়ে। কোন একটি দুটি ম্যাচ ছন্দ না হারালে দলটি ফাইনাল খেলবে নিঃসন্দেহে এবং হয়ত জিতে নিবে টুর্নামেন্ট। আর পরিচিত পরিবেশ আইসিসির আনুকূল্য আছেই।পাকিস্তান গ্রুপ পর্যায়ে ম্যাচ যদি না খেলে বাড়তি সুবিধা পাবে।

অস্ট্রেলিয়া কিন্তু নানা কারণে পূর্ণ শক্তির দল নিয়ে খেলতে পারছে না। নিয়মিত অধিনায়ক পাট কামিন্স এখন সুস্থ হতে পারে নি। অন্যতম প্রধান বোলার জস হেজেলউড হয়ত গ্রুপ পর্যায়ে কিছু ম্যাচ খেলতে পারবে না। তুখোড় ফর্মে থাকা স্টিভ স্মিথকে মূল স্কোয়াডে রাখা হয় নি। কিন্তু দলে যারা আছে তারা সবাই সদ্য সমাপ্ত বিগ বাস টি২০ টুর্নামেন্টে দারুন ফর্মে ছিল। ব্যাটিং নির্ভর করবে ট্রাভিস হেড এবং ম্যাক্সওয়েল যদি বিধ্বংসী ফর্মে থাকে। সঙ্গে আছে মিচেল মার্শ, টিম ডেভিড, ক্যামেরুন গ্রিন, মার্কাস স্টোনিস। বোলিং নির্ভর করবে এডাম জাম্পা, হেজেলউড, বার্টলেট, নাথান এলিস এবং দারিয়ুসের উপর।  অস্ট্রেলিয়া কিন্তু শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক দৃঢ়তা আর কঠিন পরিস্থিতিতে ম্যাচ জয়ের অভিজ্ঞতায় পরিণত দল। কয়েকজনের আছে একক নৈপুণ্যে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেয়ার সক্ষমতা।  আর অস্ট্রেলিয়া সব সময় ম্যাচ, প্রতিপক্ষ এবং নিদিষ্ট দিনে নিদৃস্ট মাঠে ম্যাচ পরিস্থিতি নিয়ে ব্যাপক বিশ্লেষণ করে লাগসই কৌশল নিয়ে তৈরী থাকে। ভারতকে ভারতে হারানোর পূর্ব অভিজ্ঞতা রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার। ফাইনালে উঠলে অস্ট্রেলিয়াকে হারানো সহজ হবে না।

বাংলাদেশের অগণিত দর্শকদের জন্য এবারের টি২০ বিশ্বকাপ কষ্টরে লাগছে। রাজনীতি এবং আইসিসির বৈষম্যমূলক একচোখা নীতির কারণে বিশ্বকাপ থেকে বঞ্চিত হলো।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

five × 1 =