হাড্ডাহাডি লড়াইয়ের পর ইউএইকে হারালো আফগানিস্তান

আজমাতুল্লাহ ওমারজাইয়ের দুর্দান্ত চৌকষ নৈপুণ্যে (৪০* এবং ৪/১৫) হাড্ডাহাডি লড়াইয়ের পর সংযুক্ত আরব এমিরেট্সকে ৫ উইকেটে হারিয়ে এবারের টুর্নামেন্টে প্রথম জয় তুলে নিলো। আফগান দল গত ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে হৃদয় ভাঙা পরাজয়ের পর আজ শান্তনার জয় পেলো। ডি গ্রূপ থেকে শীর্ষে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকা তৃতীয় দল হিসাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং ভারতের পর গ্রূপ অফ এইট নিশ্চিত করলো। নিউ জিল্যান্ড শেষ ম্যাচ কানাডার সঙ্গে জিতলে গ্রূপের দ্বিতীয় দল হিসাবে কোয়ালিফাই করবে।

আজ প্রথম ব্যাটিং করে প্রথম ২ ওভারে ১৩ রানে ২ উইকেট হারিয়ে কোনঠাসা হয়ে পরে। তৃতীয় উইকেট জুটিতে আলিশান সরফু (৪০) আর শোয়াইব খান (৬৮) ৮৬ রান যোগ করলে বড় স্কোর গড়ার  সম্ভাবনার সৃষ্টি হয় ইউএইর। এই পর্যায়ে আফগান অল রাউন্ডার ওমারজাই দ্রুত ৩ উইকেট তুলে নিয়ে ইউএইর স্কোর ১৬০/৯ সীমিত রাখে। ইউআই ভালো বোলিং এবং ফিল্ডিং করে চোখে চোখে যুদ্ধ করে ১৯.২ ওভারে ৫ উইকেটে হেরে যায়। আজ জয়ী হলে ইউএইর সামনে এগিয়ে যাওয়ার দুয়ার খুলে যেত। আফগানিস্তান পরের খেলায় কানাডাকে বড় ব্যাবধানে পরাজিত করলে আর যদি কানাডা নিউ জিল্যান্ডকে হারিয়ে দিলেই শুধুমাত্র আফগানিস্তান এগিয়ে যাবে।

ইউআই ১৬০/৯ (শোয়াইব খান ৬৮, আলিশান শারফু ৪০। আজমাতুল্লাহ ওমারজাই ৪/১৫, মুজিব উর রহমান ২/৩১)

আফগানিস্তান ১৬২/৫ (ইব্রাহিম জাদরান ৫৩, আজমাতুল্লাহ ওমারজাই ৪০* দারবিশ রাসুলি ৩৩। জুনায়েদ সিদ্দিক ২/২৩, মোহাম্মদ আরফান ২/৩০)

আফগানিস্তান ৫ উইকেটে জয়ী

ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়: আজমাতুল্লাহ ওমারজাই।

আজকের ম্যাচ দুই দলের জন্যই ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ইউএই জয়ী হলে ৪ পয়েন্ট নিয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে চলে যেত। আফগানিস্তান জয়ী হয়ে লাইফ লাইন পেলো। জয়ের মার্জিন বড় হলে ভালো হত। শুরুতে দুই উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়েছিল ইউএই। শোহাইয়েব-শারফু জুটি প্রাথমিক বিপর্যয় কাটিয়ে দলকে স্বস্তির অবস্থানে নিয়ে গেলেও আজমাতুল্লাহ আফগানিস্তানকে খেলায় ফিরিয়ে আনে। ইউএই ১৮০ রান করলে আফগানিস্তানের পক্ষে ম্যাচ জয় সহজ হতো না।  আফগান বিশ্ব বরেণ্য স্পিনার্স রাশিদ, নূর, মুজিবদের মোকাবিলা করে ইউএই লড়াকু অবস্থায় পৌঁছেছিল। তবে পার্থক্য গড়ে দেয় পেস বল অলরাউন্ডার ওমারজাই (৪/১৫)। ইনিংসের শেষ দিকে ২টি রান আউট ইউএই ইনিংস ১৬০/৯ সীমিত রাখে।

আফগানিস্তানের শুরুটা ভালো হয়নি। ইনিংসের দ্বিতীয় বলে ০ রানে ফিরে যায় মারকুটে রামানুল্লাহ গুরবাজ। গুলবাদিন নায়েব (১৩), সিদিকুল্লাহ অতল (১৬) বড় ইনিংস খেলতে না পারলেও আজ নিজের ভূমিকায় উজ্জ্বল ছিল ইব্রাহিম জাদরান (৪১ বলে ৫৩)। আফগান ইনিংসে দারবিশ রাসুলি (৩৩) এবং শেষ পর্যন্ত আজমাতুল্লাহ ওমারজাই (৪০*) করলে ৪ বল হাতে রেখেই ৫ উইকেটে ম্যাচ জয় করে আফগানিস্তান। আগের ম্যাচে বাগে পেয়েও দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারাতে পারেনি ওরা। দুইবার সুপার ওভার শেষে পরাজিত হওয়া ছাড়া ছিল হৃদয় বিদারক।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

three + 12 =